ব্রেকিং নিউজ

জালিয়াতির করতেই ই-অরেঞ্জ তৈরি করে বনানি থানার ওসি

প্রতিবেদক
প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের ১১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের দায়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ এবং ই-কমার্সভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ও নেপথ্যের পরিচালক সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা শেখ সোহেল রানার বিষয়ে তদন্তে নেমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। তারা জানতে পেরেছেন, প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই তৈরি করা হয় ই-অরেঞ্জ। এর নেপথ্যের কারিগর ছিলেন বনানী থানার সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানা। সাধারণ মানুষ তো বটেই, তার প্রতারণার হাত থেকে রেহাই পাননি পুলিশ সদস্যরাও। অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য কেনার প্রলোভনে পড়ে ই-অরেঞ্জে পণ্য কেনা বাবদ লাখ লাখ টাকা
দিয়ে ফেঁসে গেছেন অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য। আর জালিয়াতির এই টাকা দিয়ে দেশে-বিদেশে নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানা। ঢাকায় ১১টি ফ্ল্যাট-প্লট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং পর্তুগাল, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও নেপালে নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় তৈরি করেছেন তিনি। দেশেও একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় শতকোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে তার। সোহেলের অবৈধ সম্পদের ফিরিস্তি দেখে রীতিমতো হতবাক তদন্তসংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে রানা ভারতে গ্রেপ্তার হয়ে সেখানকার পুলিশ হেফাজতে আছেন। তাকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে ফেরত চাওয়া হয়েছে।
প্রতারণার জাল বিছাতে কোটি কোটি টাকা গচ্চা দেয় ই-অরেঞ্জ প্রতিষ্ঠানটি। ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়েও বড় বাজার ধরতে মাস্টারমাইন্ড সোহেলের পরিকল্পনায় প্রকৃত দাম দিয়ে পণ্য কিনে তা অর্ধেক দামে ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দিয়ে এ পর্যন্ত ৪০০ কোটি টাকা গচ্চা দিয়েছে ই-অরেঞ্জ। বাজার তারা ধরেছিলেনও; কিন্তু টাকা দিয়েও পণ্য না পাওয়া গ্রাহকরা তাদের জালিয়াতির বিষয়টি জেনে যাওয়ায় ভেস্তে যায় মিশন। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে একাধিক মামলা হয়। কয়েক দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ ও ভারতের পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় পরিদর্শক সোহেল রানাসহ ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন (সোহেলের বোন), তার স্বামী মাসুকুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কয়েকজন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটির সব ধরনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়। তিনিসহ ই-অরেঞ্জ প্রতিষ্ঠানে সম্পৃক্তদের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা এসব তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
থানাপুলিশের পাশাপাশি সোহেল রানাসহ ই-অরেঞ্জে জড়িতদের অবৈধ সম্পদ ও দেশে-বিদেশে পাচার করা টাকার খোঁজে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), এনবিআর ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত সংস্থাও (সিআইডি) অনুসন্ধানে নেমেছে বলেও জানা গেছে।
গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলাদার জানান, পুলিশ কর্মকর্তা সোহেল রানার বিরুদ্ধে জ্ঞাতআয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো দুদক তদন্ত করবে। রাষ্ট্রের সম্পদ কাউকে অবৈধভাবে ভোগ করতে দেওয়া হবে নাÑ এ বিষয়ে দুদক সোচ্চার রয়েছে।

এদিকে সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় পুলিশ সদরদপ্তর। এ জন্য গত রবিবার পুলিশ সদরদপ্তরের এনসিবি শাখা ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারতীয় পুলিশের এনসিবি শাখাকে একটি চিঠি লিখেছে। চিঠিতে রানাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

Comments

comments