ব্রেকিং নিউজ

গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে আর কত রাজীবের রক্ত ঝরবে!!!

মুশফিকুর রহমান :

রাজধানীতে ট্রাফিক অব্যবস্থাপনা আর সমন্বয়হীনতার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। কারওয়ান বাজারে দুই বাস চালকের বেপরোয়া প্রতিযোগিতায় তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন হাত হারালেন। মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হলেও সোমবার মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। নিহত-আহতের তালিকা ক্রমেই বাড়ছে। এ অবস্থার মধ্যেই চলছে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থা। ঢাকাসহ সারাদেশে যখন অদক্ষ ড্রাইভার আর ফিটনেসবিহীন গাড়ির প্রতিযোগিতা, সেখানে রাজীবদের মতো সাধারণ মানুষের কী আর করার আছে! ঘটনার কারণ অনুসন্ধান না করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোই যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের রুটিন ওয়ার্ক। এসব প্রতিকারে সত্যিকারের কোনো কর্তৃপক্ষ আছে বলে মনে হয় না।

রাজধানীতে পরিবহন সেক্টরে চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা অনেকদিন থেকে চলে আসছে। সিটিং সার্ভিসের নামে নৈরাজ্য, বাড়তি ভাড়া আদায়, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অদক্ষ চালক ও হেলপারের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ আজ জিম্মি। অনেক গাড়িতে বাড়তি ভাড়া আদায়ে মাস্তান শ্রেণির লোক নিয়োগ করছে বাস মালিকরা। প্রকাশ্য দিবালোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই মালিক সমিতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগতে পারে তাদের খুঁটির জোর কোথায়।

এই জিম্মিদশা থেকে কবে মুক্তি মিলবে নগরবাসীর তা বলা মুশকিল। বেপরোয়া দুটি বাসের প্রতিযোগিতায় তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন একটি হাত হারিয়ে শেষপর্যন্ত ইহজগৎ ত্যাগ করেন। সাধারণ যাত্রীরা ঠকতে ঠকতে প্রতিবাদ করার ভাষাও হারিয়ে ফেলছে। পরিবহনের যাত্রীরা খুবই অসহায়। এই অরাজকতা আর কতদিন!

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় দায় নিতে নারাজ। মন্ত্রণালয়ের দায় কতটুকু, সেটা আলোচনার বিষয়? ঘটনার প্রতিকারে না গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপালে কি দায় এড়ানো যাবে? বিআরটিএ নামক প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির প্রজনন ক্ষেত্র বলব না, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই অদক্ষ ড্রাইভারদের হাতে মৃত্যুর লাইসেন্স তুলে দিচ্ছে।

গাড়ির মালিক না হয়েও অনেকে রোড পারমিট নিয়ে ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর কত রাজীবের জীবনের বিনিময়ে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠিত হবে, জনমনে স্বস্তি ফিরে আসবে?

Comments

comments