ব্রেকিং নিউজ

ধামরাইয়ে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ

প্রতিবেদক:

চাঞ্চল্যকর চলন্ত বাসে রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার প্রায় সাড়ে ৭ মাসের মাথায় চলন্ত বাসে আবার গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঢাকার ধামরাই উপজেলায় চলন্ত বাসে ও বাস থেকে নামিয়ে দুই দফায় এক পোশাকশ্রমিককে (২৪) গণধর্ষণ করা হয়েছে। উপজেলার শ্রীরামপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে রবিবার (৮ এপ্রিল) রাতে জোর করে বাসে তুলে নিয়ে ওই বাসে চলন্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে ধর্ষণ করে যাত্রীবেশী চার যুবক। পরে বাস থেকে নামিয়ে ধর্ষণ করে বাসটির চালক-হেলপার ও যাত্রীবেশী নরপশুরা। যাত্রীসেবা পরিবহনের (ঢাকা-মেট্রো-জ-১৪-০৮১৫) বাসটিতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই শ্রমিককে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল সোমবার ভোরে পুলিশ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কচমচ এলাকা থেকে ভিকটিমসহ বাস ও ৫ ধর্ষককে আটক করে। আটককৃতরা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই পোশাকশ্রমিককে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।
ধর্ষিতাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তি করা হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে। থামরাই থানায় পাঁচ ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ধর্ষিতা। তাদের আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে পুলিশ ধারণা করছে।
এদিকে চলন্ত বাসে নারী শ্রমিককে ধর্ষণের ঘটনায় ওই এলাকায় বাসে চলাচলরত নারী শ্রমিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ধর্ষণকারীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছে।
আটক ধর্ষকরা হলো বাসের হেলপার ধামরাই উপজেলার গাওয়াইল গ্রামের মো. কালু মিয়ার ছেলে মো. সোহেল রানা (২০), বাসচালক একই উপজেলার কেলিয়া গ্রামের মৃত রাজু সরদারের ছেলে মকবুল হোসেন (৩৮), যাত্রীবেশী চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কোটপাড়া গ্রামের মৃত শফি মল্লিকের ছেলে বাবু মল্লিক (২৪), ময়মনসিংহের ফুলবাড়ী উপজেলার দেওখোলা গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল আজিজ (২৫) ও নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সরকার বাড়ি গ্রামের মহন লালের ছেলে বলরাম (২০)।
ধামরাই থানার এসআই ভজন রায় জানান, ধামরাই উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকায় অবস্থিত গ্রাফিক্স টেক্সটাইল কারাখানায় অপারেটর পদে চাকরি করেন ধর্ষিত ওই শ্রমিক। রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে অফিস ছুটি হয়। বাসায় ফিরতে তিনি শ্রীরামপুর বাসস্ট্যান্ডে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। রাত ১০টার দিকে বাসচালক ও হেলপার তাকে জোর করে যাত্রীসেবা পরিবহনের বাসটিতে ওঠায়। বাসটি কালামপুরে আসার পর চালক অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দেয় ও ঢাকার দিকে না গিয়ে ইসলামপুরের দিকে রওনা দেয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কেলিয়া এলাকা থেকে আরও চারজনকে বাসে ওঠায় হেলপার। যাত্রীবেশে ওঠা ওই চারজন ওই নারী পোশাকশ্রমিককে বাসের পেছন দিকে নিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে। তারা মহাসড়কে চলাচলরত অবস্থায় বাসেই তাকে ধর্ষণ করে। পরে তারা ধর্ষিতাকে বাস থেকে নামিয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের কেলিয়া ব্রিজের পশ্চিমপাশে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে চালকসহ ৫ জন আবার ধর্ষণ করে। এরপর বাসটি ইসলামপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। একপর্যায়ে মুখের বাঁধন খুলে গেলে ওই পোশাকশ্রমিকের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে। বিষয়টি জানার পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে টহলরত ধামরাই থানার এসআই ভজন রায় বাসটি ধাওয়া দিয়ে কেলিয়া ব্রিজের কাছ থেকে বাসসহ ধর্ষণকদের আটক করেন।
এ ঘটনায় রাতেই ওই নারী পোশাকশ্রমিক বাদী হয়ে ধামরাই থানায় মামলা করেন। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে ধামরাই থানার ওসি (অপারেশন) জাকারিয়া হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী রুপা খাতুন চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে যায়। এ ঘটনায় করা মামলার রায়ে আদালত বাসটির চালক হাবিবুর (৪৫), চালকের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) ফাঁসির আদেশ দেন। আর বাসের সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) সাত বছরের কারাদ- দেন।

Comments

comments