ব্রেকিং নিউজ

মিয়ানমারের দ্বিমুখী আচরণ, এখনো আসছে রোহিঙ্গা


প্রতিবেদক :

রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে ‘লোকদেখানো’ প্রস্তুতির কথা ব্যাপকভাবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার করছে মিয়ানমার। দোষারোপ করা হচ্ছে বাংলাদেশকে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে বলা হচ্ছে, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু বাংলাদেশ পিছিয়ে দিয়েছে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।

আর বাস্তবতা হলো, এখনো সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা। নাফ নদ পাড়ে অপেক্ষমাণ আছে কয়েকশ আশ্রয় প্রার্থী। নতুন আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, রাখাইনে মিয়ানমারের পুলিশের ‘ক্র্যাকডাউন’ চলছে।  ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তরুণ ও যুবকদের। লাশ পাওয়া যাচ্ছে বনে বা পুকুরে। ফলে মিয়ানমারের ‘লোকদেখানো’ এই প্রস্তুতিকে রীতিমতো ‘দুঃস্বপ্ন’ হিসেবে দেখছেন রোহিঙ্গা অধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশকে দোষারোপ করে এই অপপ্রচার মিয়ানমারের ‘পরিকল্পিত’। জানা যায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্ব করতে বাংলাদেশকে  দোষারোপ করে মিয়ানমারের বক্তব্য গতকাল প্রকাশ হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, গার্ডিয়ানসহ বিশ্বের প্রায় সব গণমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণে। বার্মিজ সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম মিয়ানমার টাইমসের রিপোর্টে বলা হয়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ার খবর প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতিন কাইওয়ার অফিসের মুখপাত্র ইউ জাওয়া হতাই বলেছেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ বিলম্বিত করা সম্পর্কে কিছু জানায়নি। আমরা প্রস্তুত। তাই পরিকল্পনা মতো রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফিরিয়ে নেওয়ার অপেক্ষায় মিয়ানমার। বাংলাদেশ যখন আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মিয়ানমারকে জানাবে, তখনই এ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা হবে।’ এ নিয়ে আরও আলোচনা করতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র। রিপোর্টে দাবি করা হয়, আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মির (আরসা) সদস্যরা সম্প্রতি হামলা চালানোর জের হিসেবে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে দেখা দেয় ভয়াবহ সহিংসতা। গ্লোবাল নিউলাইটস অব মিয়ানমার নামক অপর সরকারি পত্রিকায় বলা হয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চালানোর জন্য জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই ১২৫০ রোহিঙ্গা হিন্দু ও মুসলিমের ভেরিফিকেশন শেষ করে রেখেছে মিয়ানমার। এর মধ্যে ৭৫০ জন মুসলিম এবং ৫০০ জন হিন্দু। তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার অপেক্ষায় ছিল মিয়ানমার। মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ফিরিয়ে নেওয়াদের জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, খাদ্য ও অন্যান্য বিষয় প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে নির্বাসিত রোহিঙ্গাদের গণমাধ্যম ইরাবতির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধিংডং শহরের আইনসভার নিম্নকক্ষের এমপি ও সরকারদলীয় রাজনীতিক ইউ অং থান সোয়ে বলেছেন, রাখাইনে কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানানো হবে না। এ ছাড়া মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কী চলছে তা আমাদের জানানো হয়নি। তিনি বলেন, আরাকানের বাসিন্দারা কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের ফিরে আসা মেনে  নেবে না। কারণ তারা ফিরলে নতুন করে সংঘর্ষ হবে।

একই দিনে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো লিডার অং সান সু চির দফতরের মুখপাত্রের বিবৃতিতে রাখাইনে নতুন করে মিয়ামারের পুলিশের অভিযানের কথা জানা যায়। এতে বলা হয়, পুলিশের ক্র্যাকডাউন রাখাইনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ভয় পাচ্ছেন স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। এই অভিযান নতুন করে আরাকানের বাসিন্দা ও বার্মিজদের মধ্যে হিংসাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেও আশঙ্কা তার। 

এখনো আসছে রোহিঙ্গা : বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইনে নিধন থেকে বাঁচতে আরও শতাধিক রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাদের অভিযোগ, রাখাইনে এখনো নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে। ফলে গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ১০০ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে এসেছে। এর মধ্যে একটি নৌযানে করে ৫৩ জন রোহিঙ্গা নাফ নদ অতিক্রম করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। আর পরদিন আরেকটি  নৌযানে করে এসেছে ৬০ জন রোহিঙ্গা। এ ছাড়া আরও অনেকেই নাফ নদের ওপারে অপেক্ষা করছে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের বুথিডং জেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা। সেনাবাহিনী প্রায় ২০০ রোহিঙ্গাকে ধরে নিয়ে যায় এবং লুটপাট চালায় বলে দাবি অনুপ্রবেশকারীদের। তারা আরও জানায়, নৌকা ভাড়া দিতে না পারায় অনেক রোহিঙ্গা এখনো নাফ নদের তীরে আটকে আছে। পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা বলেন, আমার স্বামীকে সেনারা মেরে ফেলেছে। তারপর আমি একা হয়ে পড়ি। ওরা আমাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়ে আমাদের জমি দখল করে নিয়েছে। কোনো খাবার-দাবার না থাকায় বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত পালিয়ে আসতে বাধ্য হলাম। তিনি বলেন, পাহাড় জঙ্গল পেরিয়ে এবং ১০ দিন ধরে নৌকা ভ্রমণ করে এখানে এসেছি। জীবন বাঁচাতে এর  কোনো বিকল্প ছিল না। মিয়ানমার সরকার যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বললেও রাখাইনে এখনো সেনা নির্যাতনের ঘটনা দেশটির দ্বিমুখী আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।বাংলাদেশ প্রতিদিন।

Comments

comments