ব্রেকিং নিউজ

ভারতের গজলডোবার ৫৪টি জলকপাট খুলে দেয়ায় বাংলাদেশে বন্যা 

জামালপুরে

প্রতিবেদক:

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বর্ষণের ফলে গজলডোবার ৫৪টি জলকপাট খুলে দেয়ায় বাংলাদেশের তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, করতোয়া, ধরলাসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে প্রতিদিন বন্যা পরস্থিতির অবনতি হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, মধ্যাঞ্চলের টাঙ্গাইল ও জামালপুরসহ ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোর নিম্নাঞ্চলে। বাড়ছে পদ্মা নদীর পানিও। ভারতের পাহাড়ি ঢলে প্রতিদিনই তলিয়ে যাচ্ছে নতুন নতুন জনপদ; ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে নদীভাঙন; বিলীন হচ্ছে শত শত বাড়িঘর ও স্থাপনা; বন্যার পানি উঠায় পাঠদান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে; সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন বন্যাকবলিতরা।
পাহাড়ি ঢলের তোড়ে লালমনিরহাটে একটি বাঁধ ভেসে গেছে, আরেকটি বাঁধে ধস নেমেছে। বগুড়ায় ভাঙন দেখা দিয়েছে যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধেও। সিরাজগঞ্জে বাঁধ রক্ষায় বরাদ্দ নেই বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এক কর্মকর্তা। লালমনিরহাটে বাঁধ ভেসে যাওয়া ও ধসে যাওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দায়ী করেছেন পাউবো কর্মকর্তাদের।

পাউবোর তথ্যানুযায়ী, লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ধরলার পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারত গজলডোবা ব্যারাজের ৫৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষও ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র-বরাক নদীর উপত্যকায় প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে ব্যাপক বন্যা দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মানুষ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর এ পানি ভাটিতে নেমে আসার পর বাংলাদেশের উত্তর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোয় প্রবল বন্যার আশঙ্কা দেখা দেয়।পাউবো সূত্র জানায়, ভারত ১৯৯৮ সালে তিস্তা ব্যারাজের ৬০ কিলোমিটার উজানে গজলডোবা বাঁধটি নির্মাণ করে। বর্ষার সময় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হলে গজলডোবার ৫৪টি জলকপাট খুলে দেয় ভারত। এতে নীলফামারী ও লালমনিরহাটসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ২০১৬ সালের তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ১ হাজার ৮৬৩টি পরিবার বাঁধ ও বাঁধ সংলগ্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছিল।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি মঙ্গলবার সকাল থেকে আবারও বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে ধরলার পানি কুলাঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে তিস্তা ও ধরলা নদীর ৬৩ চরাঞ্চলের অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ধরলার পানির গতিতে সদরের কুলাঘাট ইউপির শিবেরকুটি এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁধটি ধসে গেছে; তিস্তার স্রোতে ভেসে গেছে হাতীবান্ধার ধুবনি এলাকার বালুর বাঁধ। ফলে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম বাঁধ ধসে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধরলায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের তিস্তা ও ধরলার ৬৩ চরের অধিবাসীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। ধরলার প্রবল পানির স্রোতের চাপে ধসে যাওয়া কুলাঘাট ইউনিয়নের শিবেরকুটি এলাকায় নির্মিত ৩শ মিটার রক্ষায় এলাকাবাসী প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলার ভাঙনে বিলীন হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি। গড্ডিমারি ইউপি চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাউবো কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণেই ভেসে গেল ধুবনি এলাকার বালুর বাঁধ।
কুলাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী জানান, দেড় মাস আগে পাউবো কর্তৃপক্ষ জিও ব্যাগ এনে রাখলেও তারা ভাঙনকবলিত এলাকায় সেগুলো অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখে। কর্মকর্তাদের গাফলতির কারণে ৩শ মিটার বাঁধটি ধসে গেল।

Comments

comments