ব্রেকিং নিউজ

ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের জলকামান নিক্ষেপ

মিছিল

প্রতিবেদক: 
সুপ্রিম কোর্টের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্য সরানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ দফায় দফায় জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। আটক করা হয়েছে চারজনকে। ২০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ শুক্রবার দুপুরে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর জোট প্রগতিশীল ছাত্র জোটসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়।

প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল বের করে। বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগ এলাকা ঘুরে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা।

পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দিকে অগ্রসর হন নেতাকর্মীরা। আগে থেকেই সুপ্রিম কোর্টের আশপাশে প্রচুর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য উপস্থিত ছিলেন। দোয়েল চত্বর, কার্জন হল ঘিরে বসানো হয় ব্যারিকেড। মিছিলকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে প্রবেশের চেষ্টা চালালে পুলিশ প্রথমে মিছিলকারীদের লক্ষ্য করে জলকামান ও পরে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

তখন মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মিছিলকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করে।এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীসহ চারজনকে আটক করে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স। 

নাসির উদ্দিন প্রিন্স আরো দাবি করেন, এ সময় তাঁদের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হন। তাঁদের কাউকে কাউকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পরে আবার মিছিলকারীরা একত্র হয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ আবার তাঁদের জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে।

বহু আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে হঠাৎ করেই ভাস্কর্য অপসারণের কাজ শুরু করা হয়। অপসারণ কাজ শেষ হয় ভোরে।

এ সময় ভাস্কর্য অপসারণের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ক্ষুব্ধ জনতা। আজ শুক্রবার বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে সুপ্রিম কোর্টের সামনে ‘গ্রিক দেবীর মূর্তি’ স্থাপন করা হয়েছে—এমন দাবি করে এর অপসারণের দাবি করে আসছিল হেফাজতে ইসলামসহ ধর্মভিত্তিক নানা সংগঠন।

এ বছরের রমজানের আগে ভাস্কর্য অপসারণের সময়সীমাও দিয়েছিল ওই সব সংগঠন। এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অপসারণ করা হয়েছে শিল্পী মৃণাল হকের গড়া ভাস্কর্যটি।

Comments

comments