ব্রেকিং নিউজ

১ ইঞ্চি রাস্তাও অবৈধ দখলে রাখতে দেব না : সাঈদ খোকন

khokon

দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডটকমঃ

ঢাকা মহানগরীর কোনো রাস্তাই অবৈধ দখলদারদের কব্জায় থাকবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, ফুটপাতে যারা দোকানদার-হকার আছেন, এখানে তাদের রুটি-রুজির ব্যাপার রয়েছে। তবে তাদের বারবার আহ্বান জানিয়েছি, পথচারীদের হাঁটার ব্যবস্থা করে দিয়ে ব্যবসা করুন। এক ইঞ্চি রাস্তাও কাউকে অবৈধভাবে দখলে রাখতে দেব না।

গতকাল শনিবার দুপুরে নগর ভবনে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মিলনায়তনে কাউন্সিলর এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মেয়র খোকন জানান, মহানগর নাট্যমঞ্চের পেছনের খালি অংশে হকারদের পুনর্বাসনের অস্থায়ী ব্যবস্থা করে শিগগির গুলিস্তানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। তিনি বলেন, যারা জায়গা দখল করে জিনিসপত্রের পসরা নিয়ে বসেছেন, তাদের পুনর্বাসন করা হবে। পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে উচ্ছেদ অভিযানের তারিখ ঠিক করা হবে। ওইদিন সব কাউন্সিলর উপস্থিত থাকারও সম্মতি জানিয়েছেন।

গুলিস্তানে হকার উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত গুলিস্তানে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএসসিসি। এ সময় গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ার পাতাল মার্কেট, ঢাকা ট্রেড সেন্টার দক্ষিণ, ঢাকা ট্রেড সেন্টার উত্তর, গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স, সার্জেন্ট আহাদ পুলিশ বক্স ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের চারপাশ থেকে পাঁচ শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এ উচ্ছেদ কেন্দ্র করে ডিএসসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও একদল যুবকের সঙ্গে হকার এবং পাতাল মার্কেটের দোকানিদের দফায়-দফায় সংঘর্ষ হয়। তখন গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। মতবিনিময় সভায় সে বিষয়ও উঠে আসে।

ওইদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষত ছিল। উচ্ছেদ অভিযান যখন চলছিল, তখন ম্যাজিস্ট্রেট এবং করপোরেশনের লোকদের উচ্ছেদকাজে বাধা দেন হকাররা। হকারদের পক্ষ থেকে ফাঁকা গুলি করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট ও করপোরেশনের লোকজন বাধা পেয়ে নগর ভবনে ফিরে আসতে বাধ্য হন। ওই সময় হকারদের একটি অংশ নগর ভবনেও হামলা চালায়। এটা অত্যন্ত অনাকাক্সিক্ষত, দুঃসাহসিক কাজ। কোনোভাবেই তা মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। এ ধরনের ঘটনা যদি ভবিষ্যতে হয়, তবে কঠোরতর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ছাত্রলীগের হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুলিস্তানে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কোনো লোক ভাবাবেগতাড়িত হয়ে, উচ্ছ্বাসের বশবর্তী হয়ে কিছু অনাকাক্সিক্ষত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এটা আমরা সমর্থন করি না। আমরা যেন কোনো পরিস্থিতিতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নিই। এটা একটা মহতী উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তিনি বলেন, যারা ফাঁকা গুলি করেছিল, তাদের বিষয়ে পুলিশকে বলা হয়েছে। পুলিশ নিজস্ব গতিতে তদন্ত চালাবে।

মেয়র বলেন, সিটি করপোরেশন হকারদের পুনর্বাসনের জন্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ফুটপাত দখলমুক্ত হবে। তিনি বলেন, এ শহরের ৬০-৬৫ শতাংশ লোক হেঁটে গন্তব্যস্থলে যান। তাদের চলাচল নির্বিঘœ করতে আমাদের প্রয়াস চলছে। এ শহরের মানুষের জীবনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। শহরে গরিব-দুঃখী মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে রাষ্ট্র; কিন্তু তার মানে এই নয়, যা ইচ্ছা তা-ই করবে, সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালাবে, আইনশৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে নেবে।

সাঈদ খোকন বলেন, কিছুদিন আগে সায়েদাবাদ এলাকায় কয়েক যুগ থেকে চলা অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদ করেছি। কর্মসংস্থানের ব্যাঘাত না ঘটিয়ে পুনর্বাসনের মধ্য দিয়ে দ্রুততম সময়ে অন্ততপক্ষে ঢাকার গুলিস্তান এলাকাকে অবৈধ দখলমুক্ত করব। এ ব্যাপারে আমি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহযোগিতা কামনা করছি।

Comments

comments