ব্রেকিং নিউজ

জামায়াত আমিরের ফাঁসি কার্যকর

nizami4-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস ডটকমঃ

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের আমির ও একাত্তরের জল্লাদ আলবদর বাহিনীর প্রধান মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জাতি গ্লানিমুক্তির পথে একটি বড় ধাপ এগোল।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টা ১০ মিনিটে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। এর আগে তাঁর সঙ্গে শেষবারের মতো দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয় পরিবারের সদস্যদের। ফাঁসি কার্যকর করার পর কারাগারে নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। রাত দেড়টায় র‌্যাব ও পুলিশ প্রহরায় নিজামীর মরদেহ পাবনার সাঁথিয়ায় তাঁর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

আগের দিন সোমবার নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তাঁর সামনে একমাত্র সুযোগ ছিল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার। গতকাল দুপুরে নিজামী জানিয়ে দেন যে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করবেন না। এর পরই কারা কর্মকর্তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে এ নিয়ে বৈঠক হওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফাঁসির রায় কার্যকর করার আদেশ জারি করা হয়। এর আগে দুপুরে নিজামীর স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা শেষ করা হয়।

নিজামীর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী, দুই ছেলে নাজিব মোমেন ও ডা. খালেদসহ ২৬ স্বজন সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কারাগারের সামনে যান। অন্যদের মধ্যে ছিলেন নিজামীর মেয়ে, দুই পুত্রবধূ, চার ভাতিজা, এক চাচা, এক খালা, দুই বোন ও এক ভাই। ৭টা ৫২ মিনিটে তাঁদের একে একে কারাগারের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়। রাত ৯টা ৩৩ মিনিটে তাঁরা বেরিয়ে আসেন। স্বজনরা বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই কারা কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফাঁসির মঞ্চে যান। ১২ জন সশস্ত্র কারারক্ষী মঞ্চে নিয়ে যান নিজামীকে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই উপস্থিত হন অনেক মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের এই ঘাতকের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার খবর শুনে তাঁরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

এর আগে রাত ১০টার দিকে অপরাধীকে তওবা পড়ান কেন্দ্রীয় কারাগার মসজিদের পেশ ইমাম। এর কিছুক্ষণ আগে ইমামকে সঙ্গে নিয়ে কারা কর্মকর্তারা আট সেলে নিজামীর কাছে যান। কারা কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন যে এটাই নিজামীর শেষ রাত। তাই কৃতকর্মের জন্য তাঁকে তওবা পড়তে হবে। কারা সূত্রে জানা যায়, এর আগেই নিজামী ওজু করে খাওয়া-দাওয়া সেরে নেন। গত রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা।

২০১১ সালের ১১ ডিসেম্বর নিজামীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। এতে হত্যা, খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ ১৫টি অভিযোগ ছিল। ওই বছরের ১৫ মার্চ নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ না থাকায় বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল সেদিন রাষ্ট্রপক্ষের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে ২০১২ সালের ২৮ মে ১৬টি অভিযোগে নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এতে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগও যুক্ত করা হয়। এরপর বিচার শেষে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৩ নভেম্বর আপিল বিভাগে আপিল করেন নিজামী। এই আপিলের ওপর গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর শুনানি শুরু হয়ে শেষ হয় ৮ ডিসেম্বর। গত ৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগও মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর নিজামী রিভিউ আবেদন করলে আপিল বিভাগ তাও খারিজ করে দেন। 

 

 

Comments

comments