ব্রেকিং নিউজ

‘নাৎসিবাদ ও ইহুদিবাদ একই মুদ্রার দুই পিঠ মাত্র’ঃ লিভিংস্টোন

ken_livingstone-thebdexpress

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ 

ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী বর্বরতা জোরদারের প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইহুদিবাদের সঙ্গে নাৎসিবাদ ও হিটলারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক জোরদার হয়ে উঠেছে। ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের সাবেক মেয়র কেন লিভিংস্টোন সম্প্রতি ইহুদিবাদকে নাৎসিবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন চিন্তাবিদ ও গবেষক র‍্যালফ শোয়েনম্যান।

ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের সাবেক পিএস র‍্যালফ শোয়েনম্যানও বলেছেন, ইহুদিবাদ ও নাৎসিবাদের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকার বিষয়ে জোরালো দলিল-প্রমাণ রয়েছে এবং যারা এ ধরনের মন্তব্যের জন্য ব্রিটেনের লেবার পার্টিকে ইহুদি-বিদ্বেষী বলে অপবাদ দিচ্ছেন তারা আসলে এ দলের সদস্যদের সমালোচনা থেকে ইহুদিবাদকে রক্ষা করতে চাইছেন ও একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইহুদিবাদী অপরাধযজ্ঞকেও ধামাচাপা দিতে চাইছেন।

হিটলার ১৯৩২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন যেসব নীতির কথা প্রচার করে তাতে ইহুদিদেরকে কথিত ইসরাইলে পৌঁছে দেয়ার নীতির কথাও ছিল। ইহুদিদের ওপর গণহত্যা চালানোর আগ পর্যন্ত হিটলার ইহুদিবাদের সমর্থক ছিলেন বলে লিভিংস্টোন স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি তার এই মন্তব্যের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, আমি নিজেকে সত্য অস্বীকারের মধ্যে টেনে নিতে পারব না।

এলবিসি রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইহুদিবাদ ও নাৎসিবাদের ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কিত নিজের মন্তব্যগুলোকে ঐতিহাসিক বাস্তবতা বলে যুক্তি দেখিয়েছেন লন্ডনের সাবেক মেয়র। যারা তার ওইসব মন্তব্যকে সেমিটিক বা ইহুদি-বিদ্বেষী বলে উল্লেখ তিনি তাদের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, ইহুদিদের সম্পর্কে আমি যা বলেছি একই কথা বলেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীও।

এদিকে ব্রিটেনের লেবার পার্টির সাবেক এমপি এবং বর্তমান রেসপেক্ট পার্টির নেতা ও এমপি জর্জ গ্যালোওয়ে লন্ডনের সাবেক মেয়র লিভিংস্টোনের প্রতি  জোরালো সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘সাবেক মেয়র মোটেও অসত্য কিছু বলেননি। বরং তিনি যা বলেছেন তার সবই সত্য ও প্রমাণিত ঐতিহাসিক বাস্তবতা। এ সংক্রান্ত বই-পুস্তক আমার কাছে রয়েছে এবং আপনাদের উচিত সেসব সংগ্রহ করা।’

লন্ডনের মেয়র পদপ্রার্থী গ্যালোওয়ে বলেছেন, ‘জার্মান ইহুদিদেরকে ফিলিস্তিনে পাঠানোর ব্যাপারে নাৎসি প্রধান হিটলার ও ইহুদিবাদী নেতাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছিল। কারণ, এ উভয় পক্ষই বিশ্বাস করত যে জার্মান ইহুদিরা জার্মান নাগরিক নয়। আর এরই আলোকে নাৎসিবাদ ও ইহুদিবাদ একই মুদ্রার দুই পিঠ মাত্র। জার্মান ইহুদিদেরকে ফিলিস্তিনে পাঠানো সংক্রান্ত ওই চুক্তি তথা হাভারা চুক্তি স্বাক্ষর উপলক্ষে উৎসবের নিদর্শন হিসেবে একটি মুদ্রাও প্রকাশ করা হয়েছিল।’ উল্লেখ্য ১৯৩৩ সালের ২৫ আগস্ট স্বাক্ষরিত হয় হাভারা চুক্তি। 

সম্প্রতি লন্ডনের সাবেক মেয়র ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন যে, সাবেক নাৎসি নেতা হিটলার ছিলেন ইহুদিবাদের সমর্থক। এসব মন্তব্যের দায়ে গত বৃহস্পতিবার লেবার দলে তার সদস্যপদ স্থগিত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, হিটলার ১৯৩২ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন যেসব নীতির কথা প্রচার করে তাতে ইহুদিদেরকে কথিত ইসরাইলে পৌঁছে দেয়ার নীতির কথাও ছিল। ইহুদিদের ওপর গণহত্যা চালানোর আগ পর্যন্ত হিটলার ইহুদিবাদের সমর্থক ছিলেন বলে লিভিংস্টোন স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি তার এই মন্তব্যের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ বা ক্ষমা চাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, আমি নিজেকে সত্য অস্বীকারের মধ্যে টেনে নিতে পারব না। 

লিভিংস্টোনের এইসব বক্তব্যের ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে র‍্যালফ শোয়েনম্যান বলেছেন, ' ইহুদিবাদ ও নাৎসিবাদের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক থাকা, ইহুদিদের ভবিষ্যত ও তাদের ওপর গণহত্যার বিষয়ে জোরালো দলিল-প্রমাণ রয়েছে। এইসব দলিল ইহুদিবাদ সম্পর্কিত নানা গবেষণায় ও ফিলিস্তিনি জাতিকে পরাধীন করা সংক্রান্ত ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়েছে এবং আমার একটি বইয়েও এসব দলিল-প্রমাণ তুলে ধরেছি।'

আর এইসব দলিল-প্রমাণ তুলে ধরে ব্রিটেনের লেবার দল ও এর সদস্যরা ইহুদিবাদ বিরোধী তৎপরতা জোরদার করছেন এবং ফিলিস্তিনিদের পক্ষে জনমত জোরালো করছেন বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন। 

'ইহুদিবাদের গোপন ইতিহাস' শীর্ষক বইয়ের লেখক এ প্রসঙ্গে ইহুদিবাদ-বিরোধী ইহুদিদের তৎপরতার কথা স্মরণ করে বলেন তারাও সব সময় ইসরাইলের বিরোধিতা করে এসেছেন।

Comments

comments