ব্রেকিং নিউজ

দুই মন্ত্রী দোষী সাব্যস্ত, ৫০ হাজার টাকা অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড

minister-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কমঃ

আদালত অবমাননার মামলায় সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে আপিল বিভাগ। অনাদায়ে তাদেরকে ৭ দিনের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার সকালে দুই মন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে হাজির হন। পরে তাঁদের শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে দুই মন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চে আজ দুই মন্ত্রীর হাজিরার দিন ধার্য করা হয়। আপিল বিভাগের কার্যতালিকার ১ নম্বরে আদালত অবমাননার এ বিষয়টি শুনানির জন্য রাখা হয়।
এর আগে ১৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক আদালতে উপস্থিত হলেও সরকারি কাজে বিদেশে থাকা খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ছিলেন না। ওই দিন তাঁদের আইনজীবীদের সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি মুলতবি করে ২০ মার্চ পুনর্র্নিধারণ করেন। ২০ মার্চ দুই মন্ত্রীই আদালতে হাজির হন। তবে ওই দিন কামরুল ইসলামের লিখিত ব্যাখ্যা আদালত গ্রহণ করেননি। নতুন করে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য আদালত কামরুল ইসলামকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত সময় দেন। ২৪ মার্চ নতুন করে ব্যাখ্যা জমা দেন খাদ্যমন্ত্রী।

প্রধান বিচারপতি যা বললেন

রায় দেয়ার সময় প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, সারা জাতিকে বার্তা দেয়ার জন্যই আদালত অবমাননা মামলায় সরকাররে দুই মন্ত্রীকে তলব করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের অপরাধের পুনরাবৃত্তি না হয়। জাতি জানুক, সর্বোচ্চ আদালত কতো কঠোর হতে পারে। আদালত বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের সকল বিচারক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করেছি এবং এ বিষয়ে আমরা চিন্তা ভাবনা করেছি।

তিনি বলে, গত ৫ মার্চ দুই মন্ত্রী যে বক্তব্য রেখেছেন তাদের সঙ্গে অনেকের নাম এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলায় তলব করলাম না। কারণ আমরা আদালত অবমাননার মামলা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে চাই না। প্রধান বিচারপতি বলেন, সর্বোচ্চ আদালত তার কর্তৃত্ব ও মর্যাদা বজায় রাখতে কখনো মাথা নত করেনি, আর করবেও না।

আদালতের আদেশে পরে খাদ্যমন্ত্রীর আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার সাংবাদিকদের জানান, “আমরা নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত আমাদের আবেদন নামঞ্জুর করে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে সাতদিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন।”

দোষী সাব্যস্ত দুজনের মন্ত্রিত্ব থাকবে কি না জানতে চাইলে খাদ্যমন্ত্রীর আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার বলেন, “এর সঙ্গে সাংবিধানিক বিষয় জড়িত। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর বিষয়টি আমরা বুঝতে পারব।” সংক্ষিপ্ত রায়ে মন্ত্রিত্ব থাকা বা না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেনি উচ্চ আদালত।

দুই মন্ত্রীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়- অ্যাটর্নি জেনারেল

আদালত অবমাননার দায়ে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের মন্ত্রিত্ব থাকবে কিনা তা নৈতিকতার বিষয় উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এ বিষয়ে  মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নেবে। 

৫ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ফাঁসির আদেশ পাওয়া মীর কাসেম আলীর আপিল মামলা পুনরায় শুনানির দাবি জানান। ওই শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন। 

Comments

comments