ব্রেকিং নিউজ

নিষিদ্ধ সানি-তাসকিন; ষড়যন্ত্রের কবলে বাংলাদেশের ক্রিকেট!

taskin-thebdexpress

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট:

ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ঘরের মাঠে টাইগাররা একে একে বধ করেছিল পাকিস্তান, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিকে। সেই যাত্রায় মাশরাফি বাহিনীর সহযাত্রী ছিলেন দুই সৈনিক আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ। এরই মধ্যে এই দুই ক্রিকেটার বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপেও বেশ সুনামের সঙ্গে বোলিং করেছেন।

অথচ ওই সময় তাদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কোনো আম্পায়ারই সন্দেহ প্রকাশ করেননি। কিন্তু ভারতে অনুষ্ঠানরত টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে নির্বাসিত হলেন এই দুই বাংলাদেশি বোলার। যা ক্রিকেট ভক্তদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এটা আবার তিন মোড়লেরই কোন চক্রান্ত নয়তো?

তাদের বদলি হিসাবে হয়তো দুজন যাবে ভারতে, কিন্তু টিম স্পিরিট অনেকটাই ভোতা হয়ে গেল বৈকি। যাতে বাড়তি সুবিধা পাবে প্রতিপক্ষরা। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসর চলাকালে সানি-তাসকিনের এমন নিষেধাজ্ঞা মানতে পারছে না বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকরা। এর আগে অনেকগুলো ম্যাচ খেলেছেন তারা। অংশ নিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টেও। তখন কেন প্রশ্ন তোলা হয়নি। যখনই ভারতে শুরু হলো টি২০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব, তখনই আম্পায়ারদের সন্দেহ দানা বাধতে শুরু করল। তাও বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচেই, হল্যান্ডের বিরুদ্ধে। কারো কারো মতে, এমনটি করা হবে, তা আগে থেকেই ছিল পরিকল্পিত। এর পেছনে হয়তো আছে কোন কুচক্রী মহল। যারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের ক্রমউন্নতিতে বিচলিত।

আরাফাত সানি ও তাসকিন আহমেদ। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের এই দুই বোলারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল। দেখতে-দেখতে এরই মধ্যে আরাফাত সানি ১৬টি ওয়ানডে এবং ১০টি টি২০ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। আর তাসকিন ১৪টি ওয়ানডে এবং ১৩টি টি২০ ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাসকিনের ওয়ানডে অভিষেকটা হয়েছিল দুর্দান্ত।

২০১৪ সালের ১৭ জুন মিরপুর শেরেবাংলায় ভারতের বিপক্ষে প্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন তাসকিন। সেদিন বাংলাদেশের এই তরুণ ডানহাতি পেসার তুলে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। বিনিময়ে রান দিয়েছিলেন মাত্র ২৮। ১৪টি ওয়ানডে ম্যাচে ২১টি এবং ১৩টি টি২০ ম্যাচে ৯টি উইকেট পেয়েছেন ডানহাতি এই পেসার।  তাসকিনের মতো ওয়ানডে অভিষেকটা অতোটা বর্নিল না হলেও বল হাতে নেহাত খুব একটা খারাপ করেনি বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি। ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিল বাঁহাতি এই স্পিনারের। এ পর্যন্ত ১৬টি ওয়ানডে ম্যাচে ২৪টি এবং ১০টি টি২০ ম্যাচে ১২টি উইকেট পেয়েছেন সানি। চট্টগ্রামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৪ সালের ২৩ নভেম্বর ২৭ রানে ৪টি উইকেটই ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগার।

বাংলাদেশের দলের সাবেক ক্রিকেট তারকা জাভেদ ওমর বেলিম গুল্লুও আইসিসির এমন সিদ্ধান্তে বিস্মিত। এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি এটাকে সরাসরি ষড়যন্ত্র বলবো না। তবে এ ধরণের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। বিসিবিকে এগিয়ে আসতে হবে আইনি প্রক্রিয়ায়। আর দেখতে হবে ক্রিকেটের আইনে কি আছে।’ গুল্লুর মত আরও অনেক সাবেক তারকাই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

দুই দিন আগেই এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বিশ্বকাপ খেলেছে টাইগাররা। সেখানে ধারাবাহিকভাবেই দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তাসকিন। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে তাসকিন যেন একটু বেশি জ্বলে ওঠেন। অভিষেকেই ভারতের বিপক্ষে পেয়েছেন পাঁচ উইকেট। এরপর বিশ্বকাপের সেই বিতর্কিত ম্যাচেও পেয়েছিলেন তিনটি উইকেট। ঘরের মাঠে ভারত বধের নায়ক মুস্তাফিজ হলেও সেখানেও তাসকিন ছিলেন উজ্জ্বল।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে তাদের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন আইসিসির দুই অনফিল্ড আম্পায়ার এস রবি এবং রড টাকার। অথচ এই সর্বশেষ ভারত-বাংলাদেশ সিরিজে অনফিল্ড আম্পায়ার ছিলেন রড টাকার। এমনকি গতকালের ম্যাচ রেফারি এন্ডি পেক্র্যাফটও ছিলেন তখন ম্যাচ রেফারির ভূমিকায়। তখন এই বোলারদের কিছুই বলেননি, তবে এখন কেন?

অনেকেই এর মধ্যে বিশেষ একটা মহলের ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পাচ্ছেন। সবার মনেই প্রশ্ন, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের ধারাবাহিক উন্নতিকেই কি হুমকি মানছেন তারা?

 

Comments

comments