ব্রেকিং নিউজ

রিজার্ভের অর্থ চুরি; সরে যেতে পারেন গভর্নর!

bd bank-thebdexpress

দ্য বিডি িএক্সপ্রেস.কমঃ

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরি যাওয়ার ঘটনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরে যেতে হতে পারে ড. আতিউর রহমানকে। বর্তমানে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। ১৪ মার্চ তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ১৫ মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
দেশের অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নররাও মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তি হওয়া উচিত। একই সুর অর্থমন্ত্রীরও।
তিনি রবিবার বলেছেন, রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিষয়টা দুই মাস আগে ঘটলেও আমাকে জানানো হয়নি। এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ। পুরো

বিষয়টি নিয়ে আমি খুবই অখুশি। একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ড. এম আসলাম আলম।
তিনি বলেন, অর্থ চুরির ঘটনাটি ঘটেছে ৫ ফেব্র“য়ারি। এরপর ২৩ ফেব্র“য়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভা হয়েছে। ২৯ ফেব্র“য়ারি ও ১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট কমিটির সভা হয়েছে। কিন্তু কোনও সভাতেই বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এটা অবশ্যই আমাদের ও সরকারকে জানানো উচিত ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয় ও সরকারের শীর্ষ মহল থেকে ড. আতিউর রহমানের বিকল্প ভাবা হচ্ছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। ব্যাংকের টাকা চুরির যেসব ঘটনা এ পর্যন্ত বিশ্বে ঘটেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঘটনাকে অনেক বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়া, ড. আতিউর রহমানের প্রতিপক্ষরা এই মুহূর্তে সোচ্চার হয়েছেন। তার অন্য দুর্বলতাগুলো সরকারের শীর্ষ মহলে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।
যদিও ড. আতিউর রহমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে যোগদানের পর থেকে ব্যাংক খাতে সুশাসনের অভাব প্রবল আকার ধারণ করে। তার আমলে হলমার্ক ঋণ কেলেঙ্কারি, বিসমিল্লাহ গ্র“পের ঋণ কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারিসহ নানা ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটে। শেয়ার বাজারের কয়েক লাখ বিনিয়োগকারীও মনে করেন, ড. আতিউর রহমানের কারণে শেয়ারবাজার আজ ধ্বংসের মুখে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মাদ ফরাস উদ্দিন মনে করেন, রিজার্ভ জনসাধারণের সম্পদ। জনগণের পক্ষে এর মালিক সরকার। আর বাংলাদেশ ব্যাংক এর ব্যবস্থাপক মাত্র। অর্থাৎ ম্যানেজার। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছে বলে রবিবার দিনভর গুঞ্জন ছিল তোপখানার মিডিয়া পাড়া এবং মতিঝিলের ব্যাংক পাড়ায়। সেই গুঞ্জনের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর একটি বক্তব্য যোগ হওয়ায় আতিউর রহমানকে সরে যেতে হচ্ছে—এমন হাওয়ার পালে জোরসে বাতাস বইতে থাকে। অবশ্য জাতীয় সংসদের বাইরে থাকা দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি আতিউর রহমানের পদত্যাগ দাবি করেছে। পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই গভর্নরের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
তাদের ধারণা, ২০১০ সালে শেয়ার বাজারে যে মহা ধস নেমেছিল এর জন্য গভর্নরই দায়ী। এদিকে, ড. আতিউর রহমানকে পদত্যাগ করানো হতে পারে এমন খবরে রবিবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আনন্দের ভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, সোমবার সকালে অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে কী ব্যাবস্থা নেন, তা বিবৃতি আকারে জানাবেন। তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, টাকা হ্যাকিংয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা অদক্ষ ব্যবস্থাপনার পরিচয় দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে শিগগিরই আমি একটি বিবৃতি দেব। এটি (বিবৃতি) অবশ্যই আজ অথবা আগামীকালের মধ্যেই হবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান জানিয়েছেন, রিজার্ভের চুরি হওয়া অর্থের ৮ কোটি ৯ লাখ ৩২ হাজার ডলার ফিলিপাইনে গেছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কর্তৃপক্ষ সে দেশের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের ছয়টি হিসাব জব্দ করেছে। ৬৮ হাজার ডলার এসব হিসাবে রয়ে গেছে। আর ৮ কোটি ৯ লাখ ৩২ হাজার ডলারের হদিস মিলছে না ।
প্রসঙ্গত. যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরি হয় ৫ ফেব্র“য়ারি। বাংলাদেশ ব্যাংক গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাইবার আক্রমণে ৩৫টি ভুয়া পরিশোধ নির্দেশের মাধ্যমে ৯৫ কোটি ১০ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৭ হাজার ৬০৮ কোটি টাকা স্থানান্তরের প্রস্তাব পাঠানো হয়। তার মধ্যে ৩০টি নির্দেশ আটকানো সম্ভব হয়। তাতে ৮৫ কোটি ডলার বেহাত হওয়া প্রতিহত করা গেছে। তবে পাঁচটি পরিশোধ নির্দেশের বিপরীতে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় ৮০৮ কোটি টাকা ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় চলে যায়। তার মধ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে ২ কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে। ফিলিপাইনে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বা প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাট্রিবিউন

Comments

comments