ব্রেকিং নিউজ

রামপুরায় দুই শিশু খুনের ঘটনায় স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীর হত্যা মামলা

rampura-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কম।।

ঢাকায় রামপুরায় দুই শিশু খুনের ঘটনায় মায়ের দেওয়া স্বীকারোক্তি পাওয়ার পর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুদের বাবা আমানউল্যা। বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় শিশু দুটির বাবা বাদী হয়ে রামপুরা থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

রামপুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মামলায় শিশুদের মা মাহফুজা মালেক জেসমিনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।”

শিশু দুটির জানাজা ও দাফনের পর বুধবার আমানুল্লাহ ও জেসমিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে ঢাকায় নিয়ে এসেছিল র‌্যাব। বৃহস্পতিবার সকালে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান জানান, দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন জেসমিন।

এরপর দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘মানসিকভাবে সুস্থ’ অবস্থায় হত্যার দায় স্বীকার করেন শিশু দুটির মা। “ছেলেমেয়ের লেখাপড়া ও ভবিষ্যত নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। এর এক পর্যায়ে ছেলেমেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।”

অন্যদিকে র‍্যাবের পক্ষ থেকে শিশুর মাকে রাতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।পুলিশ বলছে আগামীকাল তাকে আদালতে হাজির করা হতে পারে।

আজ র‍্যাবের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, র‍্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে শিশু দুটির মা, মাহফুজা মালেক জেসমিন স্বীকার করেছেন যে তিনিই শিশু দুটিকে হত্যা করেছেন।

তবে মাহফুজার ভাই জাকির হোসেন সরকার র‌্যাবের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমার বোন কাউকে হত্যা করতে পারে না। সে তার সন্তানদের অনেক ভালবাসতো।”

চাইনিজ রেস্তোরাঁ থেকে আনা খাবার খেয়ে শিশু দুটির মৃত্যুর সন্দেহের কথা পরিবারের পক্ষ থেকে সে সময় বলা হয়েছিল।

শিশু দুটির খালা আফরোজা মিলা হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “গতকাল (রোববার) রাতে তারা একটি চাইনিজের দোকানে ফাস্টফুড খেয়েছিল। এরপর বাসায় গিয়ে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। তারা সোমবার দুপুরে আবারও চাইনিজ খাবারের অবশিষ্ট অংশ গরম করে খেয়েছিল। এরপর ঘুমিয়ে পড়লে আর ঘুম থেকে ওঠেনি।”

র‍্যাব জানায় যে সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে তাদের মা তার দুই বাচ্চাকে হত্যা করেছেন।র‍্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান জানান, মাহফুজা মালেক তাদের কাছে হত্যার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন।

সেখানে তিনি বলেছেন, গৃহশিক্ষকরা চলে যাবার পর মেয়েকে তার কক্ষে ঘুমানোর জন্য ডেকে নেন। সেখানেই ওড়না পেচিয়ে তাকে হত্যা করেন। এ সময় মেয়ে জেগে থাকায় কিছুটা ধ্বস্তাধস্তিও হয়। পরে একই ওড়না পেচিয়ে ছেলেকেও হত্যা করেন।

র‍্যাব জানিয়েছে, এরপর স্বামীকে টেলিফোনে মাহফুজা মালেক জানান যে, সন্তানরা অচেতন হয়ে পড়েছে। স্বামী এ সময় উত্তরায় থাকলেও, তার একজন বন্ধুকে বাসায় পাঠান। কিন্তু এর আগেই তারা বাচ্চা দুটিকে নিয়ে একটি হাসপাতালে যান, কিন্তু সেখানকার চিকিৎসকরা শিশু দুটি মারা গেছে জানিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন।

খাবার খেয়ে শিশুরা অচেতন হয়ে গেছে, এই তথ্য স্বজনরা বিশ্বাস করায় তারাও কোন সন্দেহ করেনি, বলছে র‍্যাব। বুধবার থেকে শিশুটির বাবা, মা, খালা এবং আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে র‍্যাব। তবে মুফতি মাহমুদ খান জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্য কারো সম্পৃক্ততা তারা পাননি।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইস্কাটন শাখার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ইশরাত জাহান অরণী (১৪) এবং তার ছোটভাই হলি (ইন্টারন্যাশনাল) ক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারির ছাত্র আলভী আমানকে (৬) ২৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর তাদের রামপুরার বনশ্রীর বাসা থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

Comments

comments