ব্রেকিং নিউজ

ভালোবাসার বন্ধনে মিলেছে সবে

love-thebdexpress

আবু বকর ইয়ামিনঃ

‘ভালোবাসা’-এটি এক মিষ্টি শব্দের অভিব্যক্তি। এত সুন্দর আর কোন শব্দ বোধহয় অভিধানে খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। অমলিন এ ভালোবাসাতো প্রতিদিনেরই। তবুওতো বিশেষ দিন থাকলেতো মন্দ নেই। তারই জন্য হয়তো ১৪ ফেব্রুয়ারিকে বিশেষ দিন হিসেবে বেছে নিয়েছে বিশ্ববাসী। প্রিয়জনকে কাছে রেখে সুদৃঢ় বন্ধনে, শৃঙ্খলায়, উচ্ছলতায় একটু সময় কাটায় সকলে বিশেষ এ দিনটিতে।

পরনে লাল শাড়ি, মাথায় হলুদ-লাল ফুল, মালা, হাতে-খোঁপায়ও ফুল মেয়েটির, ছেলেটির গায়েও লাল পাঞ্জাবি। কারও কারও মুখে আঁকা রঙিন নকশা। মুখে হাসি, চলনে উচ্ছ্বাস। এভাবেই দলে দলে তরুণ-তরুণী, বন্ধু-বান্ধবীদের হাতে হাত রেখে নিরুদ্দেশ সারাদিন ঘুরে বেড়ানো। এক প্রান্তর থেকে অন্য প্রান্তর। তবুও নেই তার সমাপ্তি। শনিবার বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে সকাল থেকেই ভালোবাসার রঙে এভাবেই রঙিন হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, রমনাপার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ পুরো রাজধানী।

বিশ্ব ভালবাসা দিবস উপলক্ষে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস যেন পরিণত হয়েছে তরুণ-তরুণীদের প্রাণকেন্দ্র। সকালের সূর্য্য পূর্ব আকাশে ফুটে উঠতেই ইট-পাথরের শহুরে জীবন থেকে মুক্তি নিয়ে সবাই ছুটে আসে ঢাকার মাঝে এক চিলতে সবুজ ক্যাম্পাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পুরো ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

ভালোবাসার মহত্ব বুঝে সকলে তার প্রিয়জনকে নিয়ে আনন্দ-উচ্ছাসে মেতে উঠেন দিনটিতে। কেউ বাবা-মা, কেউ স্বামী-স্ত্রী, কেউ আবার বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে, আবার কেউ প্রিয় ব্যক্তিটির সাথে উচ্ছলতায় সময় কাটান দিনটিতে। তবে তরুণ-তরুণীরা একটু ঘটা করেই পালন করে থাকেন দিনটিকে।

যদিও মানুষের প্রতিটি দিনই ভালোবাসার তবুও বিশেষ দিন বলে কথা, এ দিনটিকে ঘটা করে ভালোবাসার মানুষটিকে সময় দেন বিশেষ আয়োজনে। প্রিয় মানুষটির সাথে আনন্দ-উল্লাসে কাটান সারাটি দিন। মনের খুশিতে ঘুরে বেড়ান এদিক থেকে ওদিক। তবুও যেন ফুরোয় না ঘুরে বেড়ানোর সাধ। তবে প্রিয়জনকে কাছে পাওয়ার সময়টা ফুরিয়ে যায় দ্রুত। মনে হয় যেন ক্ষণিকের জন্য ঘুরে বেড়িয়েছেন তারা। ভাবনা, এ দিন যদি শেষ না হতো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, অপরাজেয় বাংলা, বটতলা, হাকিম চত্বর, ভিসি চত্বর, ফুলার রোড, ক্যাম্পাস শ্যাডো, বিবিএ ফ্যাকাল্টির সবুজচত্বর, কার্জন হল, মহসিন হল মাঠ সবই যেন পরিণত হয়েছে তরুণ-তরুণী, প্রেমিক-প্রেমিকাদের মিলনমেলায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল হওয়ার সাথে সাথে তরুণ-তরুণীরা ঘুরতে বেরিয়েছেন তাদের প্রিয় ব্যক্তির সাথে। এক হাতে হাত। অন্য হাতে গোলাপ। অনেকে একসাথে উপভোগ করেছেন ক্যাম্পাসের নানা দৃশ্য, বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজিত নানা অনুষ্ঠান। ভালোবাসার প্রিয় মানুষটির সাথে ভ্যালেনটাইনের স্মৃতি ফ্রেমে বন্দি করে রাখতে ক্যামেরা বা মোবাইল ফোনে ছবি উঠানোর ধুম দেখা যায় সর্বত্র। বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন ভঙ্গিতে  প্রিয় মানুষটির সাথে একই ফ্রেমে বন্দি হতে ভুল করেন নি কেউই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসা রোমানা আক্তার জানান, আজ একটি বিশেষ দিন। এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে সারাদিন ওর (প্রেমিক) সাথে ক্যাম্পাসে ঘুরব। এই শহুরে জীবনে তারুণ্যের কোনো উৎসবের প্রাণকেন্দ্র বলতে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই বুঝি। তাই এখানেই ঘুরতে আসা।

সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন মুহিবুল্লাহ হাসান। তিনি বলেন, এটি আমার প্রিয় ক্যাম্পাস। ৪ বছর আগে ক্যাম্পাস ছাড়লাম। তবুও ক্যাম্পাসের প্রতিটি কণা আমার স্মৃতিপটে নাড়া দেয়। তাই প্রিয় মানুষটিকে সাথে নিয়ে সারা দিনটিই ক্যাম্পাস ঘুরে বেড়াবো। বিকেল বইমেলায় যাবো।

এদিকে  বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রেমবঞ্চিত’ শিক্ষার্থীদের একটি দল। এর এক সদস্য মুজাহিদ জানান, ভালবাসা একদিনের নয়। এটি প্রতি মুহুর্তের, প্রতিদিনের। একটি বিশেষ দিনে ভালবাসা পালন করা প্রহসনের শামিল। তাছাড়া কেউ প্রেম করবে কেউ করবে না। তা হবে না তা হবে না। এই প্রহসনের প্রেম-ভালবাসা আমরা চাই না।

নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এম আমজাদ আলী জানান, ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে ক্যাম্পাসে যাতে কোন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয় সে ব্যাপারে সঠিক তদারকির জন্য আইন শৃঙ্খলাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের বিশেষ টিম এ বিষয়ে কাজ করবে।

Comments

comments