ব্রেকিং নিউজ

বই মেলায় পুলিশের রক্তদান কর্মসূচি

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কম।।

বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা। এ মেলায় এসে যেন প্রাণ খুঁজে পায় বাঙালি জাতি। তাইতো প্রতিবছর ভাষার মাসজুড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জুড়ে বইপ্রেমীদের থাকে উপচে পড়া ভীড়। প্রতিদিনই মেলায় সমাগম ঘটে লেখক-পাঠকসহ হাজারো দর্শনার্থীর।মেলাকে ঘিরে নানা আয়োজন করে থাকে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। যাদের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় ত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

মানব সেবার এ মহান আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে পুলিশ বাহিনী। যার মাধ্যমে পুলিশকে মানুষ আরো কাছে পেতে পারে।

নিরাপত্তা দানের পাশাপাশি পুলিশ আয়োজন করেছে স্বেচ্ছায় রক্তদান, মেলায় আগতদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাসহ নানা কর্মসূচি। ‘রক্তে মোরা বাঁধন গড়ি-রক্ত দেব জীবন ভরি’ এ স্লোগানকে ধা্রন করে রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে তারা। মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে প্রবেশ করতেই পুলিশ কন্ট্রোল রুমের পাশে এই রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ(ডিএমপি)।

মেলায় প্রবেশ করেই পুলিশ কন্ট্রোল রুমের পাশে গিয়ে দেখা যায় একটি স্টলে বসেছে ব্লাড ব্যাংক ইউনিটেরি এসিস্টেন্ট টেকনোলোজিস্ট আখতারুজ্জামান ও নারীকং সুমিত্রা ত্রিপুরা।  

কাজের ফাঁকে কথা হয় আখতারুজ্জামানের সাথে। তিনি জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ব্লাড ব্যাংকের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন। এখানে যে কেউ স্বেচ্ছায় তাদের রক্তদান করতে পারবে।

আখতারুজ্জামান জানান, আমাদের আমরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবস ও বিশেষ বিশেষ আয়োজনে এ ক্যাম্পেইন করে থাকি। গত ২০১০ সাল থেকে বইমেলায় এ আয়োজন শুরু হয়। বর্তমান আইজি শহীদুল ইসলাম এটি প্রতিষ্ঠিত করেন। সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন ওয়েলফেয়ার সেকশনের এসি সাকিব আল হাসান।

তিনি বলেন, জানান, আমাদের এ ক্যাম্পেইনের আওতায় রয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তির বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা, রক্ত সংগ্রহ, এইচআইভি, সিপিলিস, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, ম্যালরিয়া পরীক্ষা। পরবর্তীতে এ সংগ্রীহিত রক্ত পৌঁছে দেওয়া হয় বিভিন্ন মুমূর্ষু রোগীর জন্য। তাছাড়া যাদের রক্ত প্রয়োজন তারা এখোনে এসে যোগাযোগ করতে পারে। এক্ষেত্রে ব্লাড ব্যাগ ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক সেবার জন্য ৫০০ টাকা চার্জ নেওয়া হয়।

তিনি জানান, আমরা গত ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মেলায় ক্যাম্পেইন শুরু করি। আজ পর্য্যন্ত প্রায় ৭০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রীহিত হয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, ২০১৩ সালে বিএনপির লাগাতার কর্মসূচির সময় আমরা সাড়ে ১৩শ’ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছিলাম। তার মধ্যে ১৬৮ব্যাগ প্রোবলেমের কারণে বাদ যায়। তাছাড়া ১১শ’ ব্যাগ ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে দেওয়া হয়।

দায়িত্বরত ডাক্তার জানান, যদি কোন ব্যক্তি আমাদের ফর্ম পূরণ করে ব্লাড দেয় তাহলে তাকে একটি কার্ড দেওয়া হয়।যার মেয়াদ আজীবন। এর মাধ্যমে সে যেকোন সময় তার পুরো পরিবারের জন্য রক্ত নিতে পারবে।

কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য মোশারফ জানান, পুলিশ মানুষের বন্ধু। দেশের যেকোন ক্রান্তিকালে মানুষ পুলিশকে কাছে পায় এবং পাবে। তবে গুটিকয়েকজনের জন্য মাঝে মাঝে পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে বিভিন্ন কথা বলা হয়। প্রত্যেকের উচিত দেশ ও জনগণের সাহায্যে সবসময় আমাদের সহযোগিতা করা।

মেলায় রক্তদান করলেন ঢাবি শিক্ষার্থী মোস্তফা কামাল। তিনি জানান, আমি প্রতিসময় বিশ্ববিদ্যালয় বাঁধন থেকে রক্ত ডোনেট করে থাকি।আমার রক্তের গ্রুফ এ পজিটিভ। এবার আমার চারমাস অতিক্রম করার পরও এখনো কোন সাড়া না পাওয়ায় স্বেচ্ছায় এখানে রক্ত দিলাম।একটা কার্ডও পেলাম। ভালো লাগলো।

Comments

comments