ব্রেকিং নিউজ

সর্বোচ্চ আদালতে ফের উত্তেজনাঃ প্রধান বিচারপতির আচরণ প্রথাবিরোধীঃ শামসুদ্দিন

SK-Sinha-manik1-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কম।।

প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা 'সংবিধান, আইন ও প্রথাবিরোধী' আচরণ করছেন বলে আবারো অভিযোগ করেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
তিনি বলেন, অবসরে যাওয়ার পর যেসব রায় ও আদেশ তিনি লিখেছেন, তা জমা দিতে চাইলেও প্রধান বিচারপতির 'নির্দেশনার কারণে' তা নেয়া হয়নি।

সদ্য অবসরে যাওয়া আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বক্তব্যকে ঘিরে। মিডিয়াতে মামলার রায় ও আদেশ সংক্রান্ত কোনো কথা না বলে অনিষ্পত্তিকৃত রায়ের সব ফাইল অতিস্বত্ত্বর সুপ্রিম কোর্টে জমা দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন আজ প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। অন্যদিকে এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আবারও প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার আচরণকে সংবিধান, আইন ও প্রথাবিরোধী বলে অভিযোগ করে তিনি কোনো ফাইল ফেরত দিবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

অবসরে যাওয়ার পর লেখা সেসব রায় ও আদেশ গ্রহণ করতে রোববার প্রধান বিচারপতির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন চারমাস আগে অবসরে যাওয়া এই বিচারক। সেই চিঠিতেই এসব অভিযোগের কথা এসেছে।

এদিকে, বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান বিচারপতির নির্দেশ মোতাবেক কোনো ফাইল ফেরত দিবেন না বলে জানিয়েছেন শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। সব ফাইল ফেরত দিন-প্রধান বিচারপতিঃ সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক মিডিয়াতে মামলার রায় ও আদেশ সংক্রান্ত কোনো কথা না বলে অনিষ্পত্তিকৃত রায়ের ফাইল অতিস্বত্ত্বর সুপ্রিম কোর্টে জমা দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। রবিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেল আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান বিচারপতির এ আশাবাদের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রবিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারকার্য চলাকালে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী একটি সংবাদ সম্মেলন করেন, যা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির গোচরীভূত হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এ ধরনের প্রেস কনফারেন্স নজিরবিহীন— একথা উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান বিচারপতি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতে বিচারপতিবৃন্দ কোর্টের পবিত্রতা ও মর্যাদা বজায় রাখার স্বার্থে এ ধরনের কার্য হতে বিরত থাকবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংবাদ সম্মেলন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী উল্লেখ করেন আমার পিজাইডিং জজ, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞাকে আমার লেখা সমাপ্ত হওয়া রায় ও আদেশগুলো গ্রহণ করার অনুরোধ করলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির লিখিত রায় ও আদেশ গ্রহণ করা যাচ্ছে না। 
প্রধান বিচারপতিকে তিনি লিখেছেন, 'আমি ইতোপূর্বে আপনাকে অবহিত করেছি, আপনার এরূপ আচরণ সংবিধান, আইন ও প্রথাবিরোধী ও একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।' দুপুরে সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে ওই চিঠির বিষয়বস্তু সাংবাদিকদের সামনেও তুলে ধরেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী।
তিনি লিখেছেন, 'আমার প্রিজাইডিং জজ, মাননীয় বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়াকে আমার লেখা সমাপ্ত হওয়া রায় ও আদেশগুলো গ্রহণ করার অনুরোধ করলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে বলেন যে, মাননীয় প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির লিখিত রায় ও আদেশ গ্রহণ করা যাচ্ছে না।'
অবসরের পর 'বৈষম্যমূলকভাবে' তার অফিস তালাবন্ধ করে দেয়ায় এবং অফিসের সব কর্মী ও সুবিধা থেকে তাকে 'বঞ্চিত' করায় হাতে লেখা রায়গুলো 'টাইপ করতে' পারেননি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। 
প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার এক বছর পূর্তিতে ১৭ জানুয়ারি এক বাণীতে বিচারপতি এসকে সিনহা বলেন, অবসরে যাওয়ার পর বিচারকদের রায় লেখা 'সংবিধান পরিপন্থী'। তার ওই বক্তব্য নিয়ে দেশে নানামুখী আলোচনার বিষয়টিও বিচারপতি শামসুদ্দিনের চিঠিতে এসেছে। 
বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী লিখেছেন, ''এ বক্তব্যের ওপর ইতোমধ্যে মহান সংসদে আলোচনা হয়েছে এবং সংসদ আপনার বক্তব্যের সহিত দ্বিমত পোষণ করেছেন ও বিচারপতিদের অবসরে যাওয়ার পর রায় লিখতে 'কোনো সাংবিধানিক বাধা নেই এবং এটা অসাংবিধানিক নয়' মর্মে মন্তব্য করেছেন।"
আইনজ্ঞদের এ মতামতের প্রসঙ্গ টেনে বিচারপতি শামসুদ্দিন প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে বলেছেন, 'আপনার ব্যক্তিগত মতামত ও বিশ্বাসের জন্য আপনি বিচার ব্যবস্থা আইন ও প্রথাকে অস্বীকার করতে পারেন না। কারণ আপনি সাংবিধানিক শপথ নিয়েছেন।'
নিজের শুনানি করা রায় ও আদেশ লেখার কাজ শেষ করেন জানিয়ে প্রধান বিচারপতিকে তিনি সেসব রায় ও আদেশ গ্রহণের 'যথাযথ ব্যবস্থা' নিতে বলেছেন।
ওই চিঠির অনুলিপি আইনমন্ত্রী ও আপিল বিভাগের অপর বিচারকদেরও পাঠানো হয়েছে।
২০০১ সালের ৩ জুলাই বাংলাদেশের হাইকোর্ট বিভাগে নিয়োগ পাওয়া শামসুদ্দিন চৌধুরী গত বছর ১ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে অবসরে যান।
অবসরে যাওয়ার সময় ১৫টি রায় ও ৭০টি আদেশ লেখা বাকি ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। 

Comments

comments