ব্রেকিং নিউজ

বিচার বিভাগ দলীয়করণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ থাকবে না : ড. কামাল

kamal1-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কম।।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন না থাকলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কেউই নিরাপদ থাকবে না। তিনি বলেন, দলীয়করণের কারণে আমরা ক্যানসারে ভুগছি। জজ নিয়োগে দলীয়করণ এটা অসাংবিধানিক। যোগ্যতা, মেধা, অভিজ্ঞতা আমলে নেয়া হয় না। দলীয় লোকই নিয়োগ পায়। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।  আলোচনায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাহী ও আইন বিভাগ থেকে পৃথক হতে হবে। একইসঙ্গে বিচারকার্যে বিচার বিভাগের থাকতে হবে স¤পূর্ণ স্বাধীনতা। আমরা স্বাধীনতার চার দশক পরেও এখনও প্রায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলছি এবং যা আলাপ-আলোচনা করছি তার প্রায় সব কথাই সমালোচনা-ধর্মীয়। অর্থাৎ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমাদের প্রশ্ন আছে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ নিয়ে স্বস্তি নেই, আছে উৎকণ্ঠা। ১৯৭২ সালে সংবিধানে বিচার বিভাগ ছিল নির্বাহী বিভাগ থেকে স¤পূর্ণ পৃথক। নিম্ন আদালতে প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিল সুপ্রিম কোর্ট। বিশিষ্ট এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, অনুচ্ছেদ ৯৫ (২) (গ) বিচার বিভাগ সংক্রান্ত যে আইনের কথা ১৯৭৬ সালেই সংবিধানে বলা ছিল, কিন্তু অদ্যাবধি হয়নি। : তাহলো বিচারপতিদের নিয়োগ সংক্রান্ত আইন। অনুচ্ছেদ ৯৫ (২) (গ)-তে বলা আছে, কোনো ব্যক্তির আইনের দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকলে বিচারপতি পদে নিয়োগলাভের যোগ্য হবেন না। ৪৪ বছর পার হয়ে গেল, সংসদ বিচারপতিদের যোগ্যতা নির্ধারণ করে আইন পাস করেনি। এ সংক্রান্ত আইনের ব্যাপারে সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে বলে শোনা যায় না। বাজেট বরাদ্দে বৈষম্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ছিল এক হাজার ৪৬ কোটি টাকা। আর মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। বিচার বিভাগ ও আইনজীবীদের চেয়ে মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বেশি। : বিচারপতিদের ব্যক্তিগত ডিনারে আমন্ত্রণ জানানোর সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মো. আবদুল মতিন বলেন, অবসরে যাওয়ার পর বিচারপতিদের রায় লেখা ‘সংবিধানপরিপন্থী’ বলে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মন্তব্যের পর তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ২৮ জানুয়ারি বিচারপতি সিনহাকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও উপস্থিত ছিলেন। : দৃশ্যত ওই নৈশভোজের সমালোচনা করেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মো. আবদুল মতিন। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান। তার আগে তাকে ডিঙ্গিয়ে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। : বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী তথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে খায়রুলের হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রায় দিলেও তিনি সেই রায়টি লেখেন অবসরে যাওয়ার পর। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। 

Comments

comments