ব্রেকিং নিউজ

রোমাঞ্চকর জয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

victory-thebdexpress

দ্য বিডি াক্সেপ্রেস.কম।।
মিরপুর শেরেবাংলায় গুটিকয়েক নেপালি সমর্থক। মাঠে থাকা নেপালি খেলোয়াড়দের চেয়েও যেন বেশি আশাহত তারা! ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে তাদের উজ্জ্বল-উচ্ছল-প্রাণবন্ত উপস্থিতি। বিশেষ করে বাংলাদেশ যখন ৯৮ রানেই ৪ উইকেট খুইয়ে বিষম চাপে ছিল, নেপালের সেসব সমর্থক এমনভাবে গলা ফাটাচ্ছিলেন যে, হালে পানি পাচ্ছিলেন না সংখ্যায় অনেকগুণ বেশি স্বাগতিক সমর্থকরা। জাকির-মিরাজের ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত দৃশ্যপটটা পাল্টে গেল ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গলে। পরাজয়ের হতাশা নিয়ে ফিরেছে নেপাল, জয়ের আনন্দ-উল্লাসে মেতেছে স্বাগতিক সমর্থকরা।

দীপেন্দু সিং এয়ারির ফুল লেন্থ বলটা সপাটে হাঁকালেন জাকির হোসেন, বাতাসে ভেসে তা মিড উইকেট দিয়ে সীমানা পার। জাকিরের বাঁধভাঙা উদযাপন, তাতে যোগ দিলেন উইকেটের অপর প্রান্তে থাকা দলপতি মেহেদী হাসান মিরাজ। রুদ্ধশ্বাস দৌড়ে দুই নায়ককে ঘিরে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন দলের বাকিরা, বাদ গেলেন না কোচিং স্টাফরাও। রোমাঞ্চকর জয়ে ইতিহাস গড়ার আনন্দ এমন বাঁধভাঙা তো হবেই!

জাকির-মিরাজের হার না মানা ১১৭ রানের জুটি ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে আলো দেখিয়ে নিয়ে গেছে জয়ের বন্দরে, ৬ উইকেটের জয়ে জন্ম দিয়েছে নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো টাইগার যুবারা স্থান করে নিয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটেরই বিশ্ব আসরে প্রথমবার সেমিফাইনালে বাংলাদেশ। মুশফিক-সাকিব-তামিমদের নিয়ে গড়া অনূর্ধ্ব-১৯ দল ২০০৬ সালে পারেনি, পারেনি নারী ক্রিকেটাররা, পারেনি মাশরাফির নেতৃত্বাধীন জাতীয় দলও। সেই অপূর্ণতা ঘুচিয়ে দিল মিরাজের বাংলাদেশ।
শেরেবাংলার মন্থর উইকেটে রান করাটা সহজ ছিল না। পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং করেও তাই ৯ উইকেট খুইয়ে ২১১ রানের বেশি যেতে পারেনি নেপাল। রানটা আরো কমই হতো। কিন্তু দলপতি রাজু রিজালের দারুণ ব্যাটিং নেপালকে দিয়েছে লড়াইয়ের পুঁজি। তবে সেই পুঁজি নিয়ে অতিথিরা এতটা কঠিন লড়াই গড়বে, এমনটা ভাবতে পারেননি অনেকেই। শুরুর দিকে ব্যাটসম্যানদের হিসাবি ব্যাটিং, এরপর টপাটপ ৩টি উইকেটের পতন বড় চ্যালেঞ্জের মুখেই ঠেলে দিয়েছে বাংলাদেশকে। সেই চ্যালেঞ্জে টাইগাররা জিতেছে ১০ বল হাতে রেখে। তাতে আরো একটা জিনিস প্রমাণিত হয়েছে, এই বাংলাদেশ যে কোনো অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে জানে।
২১২ রানের জয়ের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে দলীয় ১৭ রানে সাইফ হাসানকে (৫) হারিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর আরেক ওপেনার পিনাক ঘোষ আর জয়রাজ শেখের ৪৬ রানের জুটিতে ম্যাচের লাগামটা নিজেদের হাতেই রেখেছিল তারা। কিন্তু ৩২ রান করা পিনাক রানআউট হয়ে ফিরতেই ছেদ পড়ল তাতে। দ্রুত ফিরলেন দুরন্ত ছন্দে থাকা নাজমুল হোসেন শান্ত (৮)। ভালো কিছুর আভাস দিয়ে যাওয়া জয়রাজ ফিরলেন ৩৮ রান করে। ৯৮ রানেই নাই হয়ে গেল ৪টি উইকেট। নেপালের ওপর থাকা চাপটা মুহূর্তেই জেঁকে বসল বাংলাদেশের ঘাড়ে।
এই নেপালের বিপক্ষে অতীত হারের দুঃসহ স্মৃতি আছে বাংলাদেশের যুবাদের। মিরপুরে শুক্রবার সেটাই কি নতুন করে ফিরে আসছে? এমন প্রশ্ন ছিল বেশিরভাগেরই মনে। তবে আত্মবিশ্বাসী জাকির আর মিরাজের মনে ছিল অন্য কিছু। ইতিহাস গড়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিষম চাপের মাঝেও খেললেন নির্ভীক ক্রিকেট। নেপালি বোলাররা অাঁটসাঁট বোলিং করছিলেন, বড় শট নেয়া কঠিন ছিল। স্বাগতিক শিবিরের দুই ব্যাটসম্যান তাই মনোযোগী হলেন এক-দুই রানের দিকে। স্ট্রাইক বদল করলেন নিয়মিত, রানের চাকা রাখলেন সচল। বয়সের তুলনায় খেললেন অনেক বেশি পরিণত ক্রিকেট, মেটালেন সময়ের দাবি।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই যুগলের ব্যাটিংয়ে ম্যাচের লাগামটা আবার হাতে পেল বাংলাদেশ। ২০.১ ওভারে তাদের অবিচ্ছিন্ন ১১৭ রানের জুটি স্বাগতিকদের নিয়ে গেছে স্বপ্নের দ্বারে। অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন দুজন_ ৭৭ বলে ৫টি চার এবং ম্যাচজয়ী ছক্কায় ৭৫ রানের অনিন্দ্যসুন্দর ইনিংস উপহার দিয়েছেন জাকির। তবে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনতে মুখ্য ভূমিকাটা রেখেছে দলপতি মিরাজের ৩টি চারের মারে সাজানো ৬৫ বলের ৫৫ রানের ইনিংসটি। ম্যাচসেরা তাই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলা জাকির নন, খেতাবটা গেছে মিরাজের ঝুলিতেই।

 

Comments

comments