ব্রেকিং নিউজ

আলেপ্পো অভিমুখে সিরীয় সেনাবাহিনী; সেনা মোতায়েনে প্রস্তুত সৌদি আরব

homes-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কম।।

আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়ায় স্থলসেনা মোতায়েনে প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি আরব। শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ আসারি এ তথ্য জানান। তবে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে সম্মত হলেই সেনা পাঠানো হবে বলেও এ সময় জানানো হয়। অন্যদিকে, সিরিয়া ইস্যুতে আবারো পাল্টাপাল্টি বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে তুরস্ক-রাশিয়া। সংবাদসূত্র : আল-জাজিরা, ফক্সনিউজ, রয়টার্স
আহমেদ আসারি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আল-আরাবিয়া টেলিভিশনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, 'সিরিয়ায় আইএসবিরোধী লড়াইয়ে স্থলসেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি আরব। এ লড়াইয়ে আমরা ইয়েমেনের অভিজ্ঞতাটাও কাজে লাগাতে পারব। তবে আমরা মনে করি, শুধুমাত্র বিমান হামলা পর্যাপ্ত নয়। সেখানে স্থল অভিযানেরও প্রয়োজন রয়েছে। আমরা উভয় কৌশলকেই কাজে লাগাব।'

এদিকে, আইএসবিরোধী যুদ্ধে জোট সদস্যদের কাছ থেকে ওয়াশিংটন আরো বেশি সহযোগিতা চায় বলে জানিয়েছেন আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জন কিরবি। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, 'পর্যালোচনা না করা পর্যন্ত এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে চায় না আমেরিকা।'

সিরিয়ায় রাশিয়ার অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করার পর আমেরিকা বিমান হামলা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র জেফারসন ডেভিস এ কথা জানিয়েছেন।

তিনি আরো স্বীকার করেছেন, রুশ অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। ফলে সিরিয়ার আকাশে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে মার্কিন জোটের বিমানগুলোকে জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

সিরিয়ার আকাশসীমায় তুরস্ক রাশিয়ার একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার পর এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। লাতাকিয়া প্রদেশে এ ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে কৌশলগত বিমান ধ্বংস করার ক্ষমতা রয়েছে এ ব্যবস্থার। একই পাল্লার মধ্যে ক্রুজ এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করতে সক্ষম এটি।

সিরিয়ায় আইএসবিরোধী বিমান হামলায় জড়িত আমেরিকান নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম সদস্য সৌদি আরব। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই সিরিয়াতে তারা বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। দামেস্ক বা জাতিসংঘের অনুমতি ছাড়াই এ অভিযান শুরু করে জোটটি। তবে, জোটের হামলায় আইএসের কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখন পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। বরং এ জোটের হামলায় সিরিয়ার বহু অবকাঠামো ধ্বংস ও বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সময় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে, সিরিয়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে তুরস্ক ও রাশিয়া। এ নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সিরিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর জন্য গোপনে প্রস্তুতি নিচ্ছে তুরস্ক। অন্যদিকে, তুরস্ক দাবি করেছে, সিরিয়ায় নিজেদের করা 'অপরাধ' থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরিয়ে নিতে এসব কথা বলছে রাশিয়া। রুশ বিমান হামলার সমর্থনে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী খুব শিগগিরই আলেপ্পো শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেবে, সিরীয় সেনাবাহিনীর এমন দাবির প্রেক্ষাপটেই বৃহস্পতিবার আবারো চাঙ্গা হয় তুরস্ক-রাশিয়া বাকযুদ্ধ।
সামরিক অভিযানের কারণে আলেপ্পোবাসী অনাহারের মুখে পড়েছে অভিযোগ করে তুরস্ক জানায়, নিজের নিরাপত্তা রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার অধিকার তাদের আছে। এতে পাঁচ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দেখা দিচ্ছে।
দুই বছরের মধ্যে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ অবসানে প্রথম শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার পর বুধবার তা স্থগিত করে জাতিসংঘ। গৃহযুদ্ধ না থেমে তা আরো তীব্র হয়ে ওঠায় প্রথম থেকেই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। তারপরও বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন আশা প্রকাশ করেছে, চলতি মাসের শেষদিকে শান্তি আলোচনা আবার শুরু হতে পারে। আর ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আলোচনা শুরুর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে রাশিয়া। এর আগে, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের কারণে সৃষ্ট শরণার্থী সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য লন্ডনে মিলিত হন দাতাগোষ্ঠী। সেখানে ব্র্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন শরণার্থীদের মানবিক প্রয়োজন মেটাতে আগামী চার বছরে ১১ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের ঘোষণা দেন। জানা গেছে, সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ বাড়ায় সেখান থেকে পালাতে শুরু করেছে হাজারো মানুষ। সীমান্ত পার হয়ে তুরস্কে ঢুকে পড়ছে তারা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দাভুতগলু জানান, আশ্রয়ের জন্য নতুন করে তুরস্কের দিকে রওনা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার সিরীয় নাগরিক। কয়েক দিন ধরে, সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত আলেপ্পো শহরে ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। সঙ্গে ভূমিতে অগ্রসর হচ্ছে সেনাবাহিনী। এতে কোণঠাসা হয়ে পড়তে শুরু করেছে বিদ্রোহীরা। কিছু এলাকায় নিয়ন্ত্রণও প্রতিষ্ঠা করেছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী।
এদিকে, ইরাক-সিরিয়ায় আইএস জঙ্গির সংখ্যা কমলেও লিবিয়ায় তাদের উপস্থিতি বাড়ছে বলে দাবি করেছেন আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, 'লিবিয়ার এখন প্রায় ৫ হাজার আইএস যোদ্ধা রয়েছে। আগের হিসেবে দেশটিতে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার জঙ্গি ছিল।' 
ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, 'আমেরিকার হিসাব অনুযায়ী, ইরাক ও সিরিয়ায় ১৯ হাজার থেকে ২৫ হাজার আইএস যোদ্ধা রয়েছে। এর আগে, এই সংখ্যা ছিল ২০ হাজার থেকে ৩৩ হাজারের মধ্যে। উল্লেখ্য, ইরাক ও সিরিয়া ছাড়াও লিবিয়া, আফগানিস্তান, নাইজেরিয়াসহ বেশকিছু দেশে শক্তি বৃদ্ধি করছে জঙ্গিগোষ্ঠীটি। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, সম্প্রতি কয়েক হাজার জঙ্গি ইরাক-সিরিয়া ছেড়ে চলে গেছে। 

Comments

comments