ব্রেকিং নিউজ

সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হলেও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা অসম্ভব!

currupt-thebdexpress

আমাদের দেশে সাধারণ জনমানুষের মধ্যে বিগত ৩০ বছর যাবৎ একটি ধারণা কাজ করছে যে, পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্র্নীতি হয়। এ অর্থ বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মরত পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত পৌঁছে। অনুরূপ কনস্টেবল পদ হতে যখন কোটার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সংখ্যককে সহকারী উপ-পরিদর্শক পদে পদোন্নতি দেয়া হয় তখন তাতে অর্থের শক্তির কাছে স্বচ্ছতা যে বিঘিœত হয় এ বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দসহ দেশবাসী অবগত।

পুলিশ বাহিনীসহ যে কোন বাহিনীতে একজন ব্যক্তির প্রবেশ যদি উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে ঘটে সেক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তিটি যতদিন চাকুরিতে নিয়োজিত থাকবে ততদিন তার কাছে সততা, ন্যায়পরতা, নৈতিকতা ও নীতিজ্ঞান যে প্রহসনসম ঠৈকবে এ প্রশ্নে কোন বিতর্ক নেই। সুতরাং পুলিশ বাহিনীসহ যে কোন বিভাগে সকল পর্যায়ে সততা, ন্যায়পরতা, নৈতিকতা ও নীতিজ্ঞান প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রথমে নিশ্চিত করতে হবে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও পদায়ন এ চারটি বিষয় যেন মেধা, দক্ষতা, যোগ্যতা, সততা ও ন্যায়পরতার সাথে সমাধা করা হয়।

পুলিশের উপ-পরিদর্শক কর্তৃক ঘটনাটি এমন এক সময় সংগঠিত হয়েছে যখন সরকার সকল শ্রেণীর সরকারি কর্মচারীর মূল বেতন ৯১-১২৩ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন ভাতা জনগণের করের টাকা হতে দেয়া হয়। অষ্টম বেতন স্কেলে যে হারে বেতন ভাতার বৃদ্ধি ঘটেছে দেশের স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর মুখ হতে উচ্চারিত বাণী- বেতন অনেকটা বেশিই বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের এ বেতন বৃদ্ধির কারণে যদিও দ্রব্যমূল্য, বাড়ি ভাড়া, যানবাহন ভাড়া, শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে জনগণের ভোগান্তি বাড়বে। কিন্তু তারপরও জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, সরকারি কর্মচারীরা অসৎ ও অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন হতে নিজেদের বিরত রাখবেন। বেতন বৃদ্ধির পর যখন দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন বিভাগে দুর্নীতি হ্রাসের একটুও লক্ষণ নেই তখন দেশের সচেতন নাগরিকদের এ কথাটি বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না একজন সরকারি কর্মচারীর চরিত্র নষ্ট হয়ে গেলে বা দুর্নীতির মাধ্যমে যার চাকুরিতে প্রবেশ তার ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধি দুর্নীতির রোধে কোন সমাধান নয়।

লেখক : সাবেক জজ ও

রাজনৈতিক বিশ্লেষক

Comments

comments