ব্রেকিং নিউজ

ওয়ান ইলেভেন॥ ২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তে অনড় রাষ্টপতি ইয়াজউদ্দিন

one-eleven-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কম।।

‘ওয়ান ইলেভেন’  বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের কালো তিলক হিসেবে চিহ্নিত। এ দিন ক্ষমতার মসনদে চেপে বসা শাসকদের চাপে পিষ্ট হয় গণতন্ত্র।জরুরি অবস্থা জারির দিনকে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার স্থগিত করে দেয় সেনা সমর্থিত সরকার। 

‘ওয়ান ইলেভেন’ নামে ব্যাপক পরিচিতি পাওয়া এবং জাতীয় জীবনে বহুল আলোচিত একটি দিন ২০০৭ সালর ১১ জানুয়ারি। নজিরবিহীন এক রাজনৈতিক সংকটের পটভূমিতে সেদিন কি ঘটেছিল বঙ্গভবনে,সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহে সশস্ত্রবাহিনীর ভূমিকাইবা কি ছিল,এসব নিয়ে জনমনে কৌতূহলের কোনো অন্ত নেই।

কিন্তু বিগত দু’বছরে এ বিষয়ে সংশিস্নষ্ট কেউই মুখ খুলে কিছু বলেননি। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনটিতে প্রকৃতপক্ষে কি ঘটেছিল তা সাধারণ মানুষের অজানাই রয়ে যায়।

২২ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ। উপদেষ্টাদের রাজনৈতিক সমঝোতার শেষ প্রচেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। বঙ্গভবন সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি উপদেষ্টাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পেছানোর আর কোনো সুযোগ নেই। সংবিধান রক্ষায় তিনি শপথ নিয়েছেন। এক্ষেত্রে নির্বাচন পিছিয়ে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত ও দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বিদেশি কূটনীতিকদের প্রয়াস ফলপ্রসূ হবার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

সূত্রে জানা যায়, সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদকে বঙ্গভবনে ডেকে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।

১০ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন হতে যাচ্ছে। এবার প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি সেনা সদস্য মোতায়েন করা হতে যাচ্ছে বলে খবরে প্রকাশ। নির্বাচনি দায়িত্ব পালনকালে সেনাবাহিনী ভোটগ্রহণের দিন ছাড়াও এর আগে ও পরে নির্বাচনে বিঘ সৃষ্টিকারীদের বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারবে।

‘২২ জানুয়ারির নির্বাচন বৈধতা দিতে চায় না পর্যবেক্ষকরা’ দৈনিক পত্রিকার প্রধান শিরোনামের খবর থেকে জানা যায়, পর্যবেক্ষক পাঠানো হলে ২২ জানুয়ারির নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে। এমনটিই মনে করছে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর পর্যবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের কর্মকর্তারা। এমনকি দেশীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলোও ভালোমন্দ বিবেচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মাহফুজুর রহমান বলেছেন, সব রাজনৈতিক দল একমত হলেও নির্ধারিত সময়ের পর নির্বাচন পেছানোর কোনো সুযোগ নেই। 

তবে সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া এ বিউটেনিস, ভারতের রাষ্টদূত ইইউ রাষ্ট্রদূত স্টিফেন ফ্রওয়েন এবং জার্মান রাষ্ট্রদূত ফ্রাংক মেইকি সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এরশাদের সাথে বৈঠক শেষে বিউটেনিস বলেন, সবদলের অংশগ্রহণ ছাড়া একতরফা নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্য হবে না। এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক সমস্যা, কোনো আইনি সমস্যা নয়। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনের সময় এখনও আছে।

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেন৷ এরপরই তার সরকার বিলুপ্ত করে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন আহমদকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন৷ ফখরুদ্দীন সরকার প্রতিষ্ঠার পেছনে সেনাবাহিনীর প্রধান ভূমিকা ছিল বলে দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়৷

বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদের মুখে ২০০৬ সালের শেষার্ধে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হয়ে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেন৷ এ নির্বাচন সাজানো অভিযোগ তুলে প্রায় সবগুলো বিরোধী দল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে দৃশ্যত দেশি-বিদেশি চাপের মুখে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করেন ইয়াজউদ্দিন৷

ওই সরকার গঠনের আগে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা৷সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে পরিচিত ফখরুদ্দীন সরকার বাংলাদেশে বড় ধরণের দুর্নীতি দমন অভিযান শুরু করে এবং দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) এর প্রধান যথাক্রমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়াসহ বহু শীর্ষ রাজনীতিকদের গ্রেপ্তার করে৷সুত্র-বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।

 

 

Comments

comments