ব্রেকিং নিউজ

সার্ভার বিপর্যয়ে সোনালী ব্যাংকের ৫০২ শাখায় লেনদেন বন্ধ

sonali-bank-thebdexpress

প্রতিবেদকঃ

সার্ভার বিপর্যয়ে সেোনালী ব্যাংকের সারা দেশে ব্যাংকটির এক হাজার ২০৭টি শাখার মধ্যে ৫০২টি শাখায় সব ধরনের লেনদেন বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের ট্রেজারি ব্যাংক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে লেনদেন করতে না পারায় এসব শাখার লাখ লাখ গ্রাহক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পেনশনভোগী, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, সাধারণ জনসাধারণ, আইএমই গ্রাহকেরা টাকা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। লেনদেন বন্ধ হয়ে পড়ায় নানামুখী সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সরকারি অফিস আদালতেও লেনদেন নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। শুধু গ্রাহকেরাই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন না, এসব শাখার কর্মকর্তারাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় নানা কথা শুনতে হচ্ছে, লেনদেন করতে না পারায় অনেক গ্রাহক চড়াও হচ্ছেন কর্মকর্তাদের ওপর। পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করছেন সার্ভার ঠিক হওয়ার অপেক্ষায়। সার্ভার বিকল হওয়ার বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের আইটি শাখার উপমহাব্যবস্থাপক শামীমুল হক আজ বুধবার বিকেলে জানান, সোনালী ব্যাংকের লেনদেন অধিকতর তদারকি করতে সার্ভার কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে। চালু করা হয়েছে কোর ব্যাংকিং সিস্টেম। নতুন একটি প্রযুক্তি চালু করাতে গত কয়েক দিন কোনো কোনো জায়গায় সমস্যা হয়েছে। তবে গতকাল বিকেল থেকে তা পুরোপুরি সচল হয়েছে। এখন আর কোথাও সমস্যা হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। জানা গেছে, সোনালী ব্যাংক আগে শাখাভিত্তিক ব্যাংকিং করত। অর্থাৎ সারা দিন লেনদেন শেষে সন্ধ্যায় সারা দিনের লেনদেনের তথ্য প্রধান অফিসকে জানানো হতো। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকদের তথ্যের ওপরই নির্ভর করতে হতো। আর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম চালু হওয়ায় প্রতিটি লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় অফিস জানতে পারবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় অফিস সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করবে। কেন্দ্রীয়ভাবে সার্ভার চালু করতে গিয়েই বিপত্তির মুখে পড়ে সোনালী ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর থেকে সার্ভার ডাউন হতে থাকে বিভিন্ন শাখায়। ২ জানুয়ারি থেকে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের লেনদেন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।  গ্রাহক আসছেন টাকা জমা দিতে, কেউ আসছেন প্রয়োজনে টাকা উত্তোলন করতে; কিন্তু কোনো লেনদেনই করতে তারা পারছেন না। অনেকেই মারমুখী হচ্ছেন। এই তো সার্ভার সচল হবে, এ কথা বলে সান্ত্বনা দেয়া হচ্ছে গ্রাহকদের। কিন্তু ক’দিন আর সান্ত্বনা দিয়ে রাখা যায়। এভাবেই তারা করছেন দিনাতিপাত। ৫টায় অফিস ছুটি হয়, কিন্তু সার্ভার সচল হওয়ার অপেক্ষায় রাত ১০-১১টা পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। শীতের রাতে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। জানা গেছে, সরকারের ট্যাক্স আদায় থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম বেশিরভাগ সম্পন্ন হয় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন ভাতা, পেনশনভোগী, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা, বিধবা ভাতাসহ বেশিরভাগ সেবামূলক কার্যক্রম হয় এ ব্যাংকের মাধ্যমে। এর বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাখা থাকায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকেরা এই ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করে থাকে। এমন একটি ব্যাংকের পাঁচ শতাধিক শাখার লেনদেন বন্ধ হয়ে পড়ায় কার্যত সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। 

Comments

comments