ব্রেকিং নিউজ

ফেলানী হত্যার বিচার ‘দিল্লি কা লাড্ডু’

felani-thebdexpress

দ্য বিডি এক্সপ্রেস.কম।।

বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানী খাতুনের বাবা বলছেন, পাঁচ বছরেও মেয়ে হত্যার বিচার না পাওয়ায় তিনি মর্মাহত এবং হতাশ হয়ে পড়েছেন।

তবে তিনি এখনো বিচার চান।

২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারি কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ফেলানী খাতুন নামের একজন বাংলাদেশী কিশোরী নিহত হয়।

দীর্ঘক্ষণ তার মৃতদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

এই ঘটনায় দীর্ঘ দুই বছর আট মাস পর ভারতের কোচবিহারে বিশেষ আদালতে অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্যের বিচার শুরু হলেও, সে নির্দোষ বলে প্রমাণিত হয়।

গত বছরের মাঝামাঝিতে, ফেলানী খাতুনের পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ক্ষতিপূরণ দিতে ছয় সপ্তাহ সময় বেধে দেয়া হয়েছিল। তবে এখনো কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি পরিবার।

ফেলানী খাতুনের বাবা নুরুল ইসলাম বলছিলেন, মেয়ে হত্যার বিচার চেয়ে তিনি কয়েক দফা ভারতে গিয়েছেন। কিন্তু সেখানে বিএসএফের আদালতে অমিয় ঘোষকে খালাস দেয়া হয়েছে। এখন মামলাটি ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি মামলাটির তদারকি করছে।

তিনি বলছিলেন, এই দীর্ঘদিনেও মেয়ে হত্যার বিচার না পাওয়ায় তিনি হতাশ হয়ে পড়ছেন।

এই ঘটনার পর বাংলাদেশের সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাকে সহায়তার কথা ঘোষণা করলেও, কারো কাছ থেকে তেমন সহায়তা পাননি। এখন পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন।

একসময় আমাকে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন ফেলানী খাতুনে পরিবার। সেখানে তাদের একটি দোকানও ছিল।

নুরুল ইসলাম বলছেন, এই ঘটনার পর আসামের সব ফেলে রেখে আমরা দেশে চলে এসেছিলাম। অনেকে বলেছিল যে, আমাদের দায়িত্ব নেবে। কিন্তু কেউ আমাদের খোজ নিচ্ছে না। আমি যে ঘটনার জন্য ভারত থেকে চলে আসলাম, আর্থিক সংকটের কারণে, কাজের খোজে আমাকে হয়ত আবার সেখানে চলে যেতে হবে।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী দ্বারা কিশোরী ফেলানী হত্যার বিচার ভারতীয় সংবিধান পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে দেশটির একটি মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান।

বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। মাসুম নামে ভারতীয় ওই মানবাধিকার সংগঠনের প্রধান কিরীটি রায় এ মন্তব্য করেন।

কিরীটি রায় জানান, ভারতের সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেকের জীবনের অধিকার রয়েছে। শুধু ভারতের নাগরিক নয়, দেশের মাটিতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির। এক্ষেত্রে সেটাও লঙ্ঘিত হয়েছে। তবে ভারতের সংবিধান আর আইন এ ব্যাপারে অতন্ত কড়া।

এদিকে, ফেলানী হত্যা মামলায় বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণার রায়কে ভারতের আদালতে চ্যালেঞ্জ করবে মাসুম। সংগঠনটি জানায়, বিএসএফের নিজস্ব আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তারা বেশ কিছু আইনী পয়েন্ট খুঁজে বের করেছে। যেগুলো ভারতের সংবিধান আর ন্যায় বিচারের পরিপন্থী।

তবে বিএসএফের কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের নিজস্ব আদালত যে রায় দিয়ে অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে নির্দোষ আখ্যা দিয়েছে, বাহিনীর মহাপরিচালক চাইলে তা খারিজ করে দিতে পারেন। সেই ক্ষমতা তার আছে। তবে তৃতীয়বার এই মামলার বিচারের আর কোনও সুযোগ নেই। কারণ দুবারের বেশি তিনবার জিএসএফসি বা কোর্ট মার্শাল হয় না।

পাঁচ বছরের মধ্যে সীমান্তে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী নিহত

বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে প্রতিমাসেই বিএসএফের গুলিতে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর গুলিতে গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী নিহত হয়েছে বলে বলছে বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, ২০১৫ সালে বিএসএফের গুলিতে ৪৫জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক নুর খান লিটন জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে মারা যাওয়া পয়তাল্লিশজনের মধ্যে ৩১ জন গুলিতে আর ১৪জন শারীরিক নির্যাতনে নিহত হয়েছে। ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৩জন।

তিনি বলেন, দুই দেশের সরকারপ্রধানদের মধ্যে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার আলোচনা হয়েছে, ভারত প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু তা আর কার্যকর হয়নি।

এ ধরণের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়াটা এর একটি বড় কারণ বলে তিনি মনে করেন।

অধিকারের সাধারণ সম্পাদক আদিলুর রহমান খান বলেন, ২০১০ সালের পর এ বছর বিএসএফের গুলিতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রতি বিএসএফ কোন প্রকার সম্মানই দেখাচ্ছে না। বরং তারা আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছে।

অধিকারের হিসাবে, ২০১৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিএসএফের গুলিতে ৪১জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৬০জন। আর ২৭ জন বাংলাদেশীকে বিএসএফ অপহরণ করেছে।

২০১৩ সালে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৯জন। ২০১২ সালে ৩৮জন আর ২০১১ সালে ৩১জন। এর আগে ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৪জন।

Comments

comments