ব্রেকিং নিউজ

রাবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস

ru victuary

রাজশাহী প্রতিনিধি :
নানা আয়োজন ও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পালিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। দিবসের প্রথম প্রহর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্ত্বরে নামে হাজারো মানুষের ঢল। পুরো ক্যাম্পাস জুড়েই চলছে বিজয় দিবস পালনের নানা কর্মসূচি।

দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস), রাবি ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা এসেছেন পুষ্পস্তক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি বিন¤্র শ্রদ্ধা জানাতে। এসময় চারিদিকে বিজয়ের উল্লাস প্রতিধ্বনিত হয়।

রাবিসাসে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুজন নাজির জানান, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধই আমাদের শেষ মুক্তিযুদ্ধ নয়, আমরা এখনও মুক্তিযুদ্ধ করছি। কিন্তু আমাদের এই যুদ্ধের ধরণ একটু আলাদা। আমরা ৭১ এর শহীদের চেতনা নিজেদের ভিতর ধারণ করতে চাই। তাইতো প্রতিবার এই শহীদ মিনার চত্বরে ছুটে আসি।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, বিজয় দিবস উপলক্ষে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সংগঠনগুলো তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে রয়েছে রক্তদাতা সংগঠন, জেলা সমিতি, সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রভৃতি। ক্যাম্পাসে দেখা গেছে বিজয় দিবসে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থীদের। এদের মধ্যে কেউবা নিজের মুখটি রাঙিয়ে নিচ্ছেন লাল-সবুজের রঙ তুলির আঁচড়ে, কেউবা নিজের সাজ পোশাকটি সাজিয়েছেন বিজয়ের রঙ লাল-সবুজে। সবার চেতনাই যেনো লাল-সবুজের বাংলাদেশ। 

এদিকে বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নানা কর্মসূচি পালন করে। এদিন সূর্যোদায়র সাথে সাথে প্রশাসন ভবন, আবাসিক হল ও অন্যান্য ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর ভোর সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর সায়েন উদ্দিন আহমেদ ও রেজিস্টার প্রফেসর মু. এন্তাজুল হকসহ ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। 

এরপর সকাল ৬:৪৫ মিনিটে শিক্ষক সমিতিসহ বিভিন্ন সমিতি, হল প্রশাসন ও অন্যান্য সংগঠন প্রভাত ফেরী শেষে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। সকাল ৭টায় উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ বিশ্ববিদ্যালয় গণকবর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

সকাল আটটা ৪৫ মিনিটে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের খেলাধুলা, সাড়ে নয়টায় শেখ রাসেল স্কুলের আনন্দমেলা এবং সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে মার্চপাস্ট অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াতে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সংসদ রাবি কমান্ড, কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের পশ্চিম চত্বরে অফিসার সমিতি এবং সহায়ক কর্মচারী সমিতি, সাধারণ কর্মচারী ইউনিয়ন ও পরিবহন টেকনিক্যাল কর্মচারী সমিতি তাদের নিজ নিজ কার্যলয়ের সামনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সিনেট ভবন প্রাঙ্গনে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিশ্ববদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন।

বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়াম মাঠে খেলাধুলার মধ্যে সকাল ১১টায় শিক্ষক বনাম অফিসারদের প্রীতি ক্রিকেট এবং বিকেল চার টায় প্রীতি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেল তিনটায় সহায়ক, সাধরণ ও পরিবহন টেকনিক্যাল কর্মচারীদের প্রীতি ফুটবল এবং সাড়ে চার টায় ভলিবল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ জোহর কোরান খানি ও দোয়া মাহফিল, সন্ধ্যা ছয়টায় কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোকসজ্জা করা হবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্র্যন্ত শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা এবং সকাল ১১টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত বরেন্দ্র গবেষণা যাদুঘর খোলা থাকবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য সাহেব বাজার, কোর্ট, বর্ণালী ও কাটাখালী রুটে বাস চলাচল করবে।

Comments

comments