ব্রেকিং নিউজ

১৫০বছর পেরিয়ে জবি : শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তি শূণ্যের কোঠায়

asraf 2

আশরাফুল ইসলাম : বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এক দশক পেরিয়েছে জগন্নাথ। তবে এ প্রতিষ্ঠানটি অনেক পুরাতন। ব্রাহ্ম স্কুল (১৮৫৮) থেকে জগন্নাথ স্কুল (১৮৭২), তারপর জগন্নাথ কলেজ (১৮৮৪) এবং সর্বশেষ ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। দীর্ঘ পথপরিক্রমার পরও প্রতিষ্ঠানটির কাক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে জবিকে শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে তৃতীয় বৃহত্তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গণ্য করা হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পেলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকার কথা, তার সামান্যই পান রাজধানীর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বলা যায়, প্রাপ্তি শূন্যের কোঠায়। বিগত ১০ বছরে আশ্বাসের ফুলঝুরি আর বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার স্বপ্নই দেখানো হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এর কোনোটাই বাস্তবতার মুখ দেখেনি। 

কলেজ আমলের পুরানো ভবনগুলোতেই চলছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাস-পরীক্ষা। ভবনগুলো অনেক পুরনো হওয়ায় ভবনগুলোর ছাদে ও দেয়ালে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন-২, পুরনো কলা ভবন এবং বিজ্ঞান অনুষদের চারটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। ভবনগুলোর ছাদে অসংখ্য ফাটল রয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব ফাটল দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢোকে। মাঝেমধ্যেই পলেস্তরা খসে পড়তেও দেখা যায়। জরাজীর্ণ এসব ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে ক্লাস-পরীক্ষা।

২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা হলেও ওই ভবনের বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। এসব নিয়ে সবার মধ্যে এক ধরনের আতংক রয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় হাজারো শিক্ষক-শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটতে পারে। 

অবকাঠামোগত উন্নয়ন নেই বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর ২০ তলাবিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণে সরকার ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ওই বছর প্রথম দফায় ভবনটির ৭ তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজের জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বিভিন্ন কারণে দ্বিতীয় দফায় কাজ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ২০১০ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প নামে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। বরাদ্দের ওই টাকা থেকে প্রথমে ভবন নির্মাণে ৩৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে দীর্ঘদিন কাজ শুরুই হয়নি বলে অভিযোগ আছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১০ মার্চ সাত তলাবিশিষ্ট একাডেমিক ভবনের ১৬ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ কাজের উদ্বোধন হয়েছে। এখন ধীর গতিতে তার কাজ চলছে। অবশ্য ২০১৩ সালের মধ্যে ভবনটির ২০ তলা নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তা এখনো শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির মেয়াদ ২ বছর বাড়ানোর জন্য সম্প্রতি আবেদন করা হয়েছে।

এদিকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এক ব্যাচ ক্লাস করলে অন্য ব্যাচকে ক্লাসের অপেক্ষায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আবার শ্রেণীকক্ষ এমনও আছে, সেখানে বসার জায়গা থাকে না। আর পরীক্ষা থাকলে অন্যরা ক্লাস করতে পারেন না। এতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও সেশনজট দুটোই বাড়ছে। আগের তুলনায় সেশনজট কিছুটা কমেছে, এ দাবি করা হলেও এখনো পরিসংখ্যান বিভাগে ৭ বছরেও শেষ হয় না ৪ বছরের অনার্স কোর্স। আবার এই অবকাঠামোর মধ্যেই লোকপ্রশাসন, চারুকলা, নাট্যকলা ও সঙ্গীত, ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন স্টাডিজসহ কয়েকটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। এতে ক্লাস সংকট আরো বাড়বে। 

এদিকে ছাত্রদের বিভাগীয় কমনরুম নেই। তবে ছাত্রদের কমনরুমের জন্য টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু তা অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাই করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। এরপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করা হয়। এসব ঘটনার মধ্যে কমনরুমের আর হদিস পায়নি সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এ বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সান্নিধ্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। শিক্ষকদের মধ্যে প্রায় ৮১ ভাগ প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক, ৯ ভাগ সহযোগী অধ্যাপক এবং ১০ ভাগ অধ্যাপক রয়েছেন। প্রভাষক পর্যায়ের শিক্ষকদের চতুর্থ বর্ষ এবং মাস্টাসের্র ক্লাস নিতে দেখা যায়। ফলে শিক্ষার্থীরা অভিজ্ঞ শিক্ষকের সাহচর্যও পাচ্ছেন না। আবার শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা খুবই নগন্য। ছাত্র-শিক্ষকের সংখ্যা কাক্ষিত অনুপাতে নেই।

কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বইয়ের তীব্র সংকট। দৈনন্দিন জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক বই নেই বললেই চলে। বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরিগুলো সমৃদ্ধ নয়। লাইব্রেরিতে ফটোকপি করার কোনো ব্যবস্থা নেই। আবার সেখানে ব্যাক্তিগত বই নিয়ে প্রবেশের অধিকারও নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা সেখানে যান না। এসব লাইব্রেরি সমৃদ্ধ করলে এবং তাতে ব্যক্তিগত বই পড়ার সুযোগ বাড়ানো হলে শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারত। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় ই-বুক পদ্ধতি চালু হলেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারছেন না। 

সেকেলে ল্যাব দিয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট ( হেকেপ) প্রকল্পের আওতায় ফার্মেসি, রসায়ন, কম্পিউটার সায়েন্সসহ কয়েকটি বিভাগে আধুনিক ল্যাবরেটরি তৈরি করা হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী আধুনিক ল্যাব সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিলুপ্ত জগন্নাথ কলেজের (বর্তমানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়) বেদখলে থাকা হলগুলো উদ্ধারের জন্য আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। ১২টি হল থাকলেও বর্তমানে সেগুলোর বেশিরভাই বেদখল হয়ে আছে। আন্দোলনের মুখে কয়েকটি হল দখলে নিলেও সেখানে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া বেদখলে থাকা হলগুলো উদ্ধারে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো উদ্যোগও নেই। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির কোনো শিক্ষার্থীর আবাসিক ব্যবস্থা নেই। দেশের একমাত্র অনাবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে এটি।  শিক্ষার্থীদের মোটা অংকের টাকা ব্যয় করে বছরের পর বছর বাইরে থাকতে হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক ভবন না থাকলেও শিক্ষকদের জন্য ঠিকই চকচকে ডরমেটরি ভবন মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ছাত্রী হল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। ১ হাজার ছাত্রীর আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০ তলা বিশিষ্ট দুটি টাওয়ার নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই বছরের ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকালে হলটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হলটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। সম্প্রতি সেখানে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তবে ছাত্রী হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণ কাজের উদ্বোধনেই ২ বছর সময় লাগিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন হলটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হতে কত বছর লাগবে, এ প্রশ্ন অনেকের। যদিও ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ছাত্রী হলের জায়গা থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে শিক্ষার্থীরা।

মাত্র সাড়ে সাত একর ক্যাম্পাস। এক দশক পার হলেও সুবিস্তৃত ক্যাম্পাস পাইনি শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১২ জানুয়ারি ২০১৫ কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস উদ্বোধন করা হয়। ৩৪৯.৫ শতাংশ জমির ওপর দ্বিতীয় ক্যাম্পাসটিতে একটি ছাত্র হল এবং ২০ তলা ভবন বিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সেটা শিক্ষার্থীদের কাছে স্বপ্নের মতোই হয়ে রয়েছে। আবাসিক ব্যবস্থা নেই, পরিবহণ ব্যবস্থাও নেই। সামান্য সংখ্যক বাস দিয়ে ২০ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াত। প্রতিনিয়ত বাদুড়ঝোলা হয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে আসেন। ছাত্রীদের আরো বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়। বাসগুলোতে ছাত্রীদের অনেকেরই দাঁড়িয়েই আসা-যাওয়া করতে হয়। এতে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হতে হয়। দূর্ঘটনাও ঘটে না তা নয়। গত ২৪ নভেম্বর সাভার ক্যাম্পাসে আসার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে অনেক ভীড়ের কারণে থেকে ছিটকে পড়ে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহন হন। পরে গত ৪ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরপর বাস বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভে নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এদিকে নামেমাত্র একটি মেডিক্যাল সেন্টার রয়েছে। ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র তিনজন ডাক্তার। কোনো ওষুধ দেওয়া হয় না। জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নেই যন্ত্রপাতি। এ ছাড়া রোগী ভর্তি রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। অপরদিকে এই মেডিক্যাল সেন্টারটি শুরুতে দুই কক্ষ বিশিষ্ট থাকলেও ২০১৩ সালে এর একটি কক্ষ চারুকলা ও নাট্যকলার শিক্ষকদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এদিকে ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা চালুর বিষয়ে একটি প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে পাশ করে। এ লক্ষ্যে জবি ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রুহুল মোমেনকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু এ চিকিৎসাসেবা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে চিকিৎসাসেবাও পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো মানের ক্যান্টিনও নেই। যে দু-একটি আছে সেখানে উচ্চমূল্যে পাওয়া যায় নিম্নমানের খাবার। এসব খাবার খেয়ে পেটের পীড়াসহ নানা রোগের শিকার হন না, এমন শিক্ষার্থী হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না।

খেলাধুলা ও বিনোদন সুবিধা নেই বললেই চলে। যদিও এই খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়। ধুপখোলায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি অরক্ষিত ও অব্যবস্থাপনায় পড়ে আছে। সেখানে বছরে দুইবার শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ পান। আর বছরের বেশিরভাগ সময়ই স্থানীয়দের দখলে থাকে।

মাত্র সাড়ে সাত একর ক্যাম্পাসেও পাওয়া যায় না ওয়াইফাই। সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস ওয়াইফাইয়ের আওতায় বলা হলেও বিশেষ কয়েকটা স্থানে পাওয়া যায়। তাও আবার নিম্নমানের হওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। প্রযুক্তির সঙ্গে দৌড়ে সেখানেই থেমে যেতে হয় তাদের।

এদিকে ২৭ বছর ধরে বন্ধ ছাত্র সংসদ নির্বাচন। কিন্তু ছাত্র সংসদের নামে থেমে নেই ফি আদায়। এ খাতে প্রতিবছরই ফি আদায় হচ্ছে। ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী প্রতি ৫০ টাকা হারে প্রায় দেড় লাখ টাকা আদায় করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বন্ধ ছাত্র সংসদের নির্বাচন না হলেও এ খাতে প্রায় ৩১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ টাকা কোন খাতে ব্যায় হচ্ছে তা সুর্নিদিষ্ট করতে বলতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

আনুষ্ঠানিকভাবে একটা কালো গাউন আর সনদ নিয়ে শিক্ষাজীবনের সুন্দর সমাপ্তিও হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের। এক দশকেও সমাবর্তনের ব্যবস্থা করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অথচ এর চেয়ে নবীনতম বিশ্ববিদ্যালয়েও সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সনদ প্রদান করা হচ্ছে। এটা রকানো শিক্ষার্থীই আশা করেন না।

অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে সুবিধাগুলো অতি সহজেই পাচ্ছেন, তা জবি শিক্ষার্থীদের ভাগ্যে ১০ বছরেও জুটছে না। এখানে নেই আবাসন সুবিধা, রয়েছে পরিবহন সংকট, সেমিনার ও গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ নয়, শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা। নামেমাত্র মেডিক্যাল সেন্টার, নিম্নমানের ক্যান্টিন। খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। এক দশকে শুধু আশ্বাস আর বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করে চমক দেখানো হয়েছে। বাস্তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধাই পাননি শিক্ষার্থীরা। প্রাপ্তি শূন্যেও কোঠায়।

তবুও পিছিয়ে নেই তারা। বিগত কয়েক বছর ধরে বিসিএস পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রেও ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এ অবস্থান শিক্ষার্থীদের নিজেদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এ যাত্রায় তেমন কোনো ভুমিকাই রাখতে পারেনি বলে অনেকেই মনে করেন। যদি অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যেত, তাহলে আরো অনেক বেশি ভালো করা সম্ভব হতো। জবিকে একটি আধুনিক ও মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হতো। বিভিন্ন সমস্যা  সমাধান করে শিক্ষার্থীদের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Comments

comments