ব্রেকিং নিউজ

মেডিকেল প্রশ্নফাঁস: ভর্তিচ্ছুদের ফের আন্দোলন

medical-thebdexpress

আবু বকর ইয়ামিন
গত ১৮ই সেপ্টেম্বর মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রশ্নফাঁসে অভিযোগ তোলে শিক্ষার্থীরা। পরে তারা এ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন চালিয়ে আসে। এক পর্যায়ে ১৪ অক্টোবর আমরণ অনশন কর্মসূচিতে যায়। অনশনের দুই দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আনু মোহাম্মদ তাদের অনশণ ভাঙ্গাণ। পরবর্র্তীতে আনু মুহাম্মদকে প্রধান করে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি গণতদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ নভেম্বর তদন্ত রিপোর্ট ও সুপারিশ প্রকাশ করে গণতদন্ত কমিটি। 
তাদের রিপোর্টে সুস্পষ্টভাবে প্রশ্নফাঁসের বিভিন্ন প্রমাণাদি উল্লেখ করে এই ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে অবিলম্বে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাঁরা সরকার থেকে একটি স্বাধীন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে দোষী ব্যক্তিদের সনাক্ত করে তাদের শাস্তি বিধান করার কথা বলেন। একই সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করে মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের দায়িত্ব চিকিৎসক শিক্ষকদের সমন্বয়ে একটি ‘মেডিকেল শিক্ষা কমিশন’  গঠন করে তাদের ওপর অর্পণ করার সুপারিশসহ বিভিন্ন সুপারিশ করেন। 
অন্যেিদক শিক্ষার্থীরা রিপোর্টের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে অবিলম্বে ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানায়। আর এ দাবিতে ২২ নভেম্বর সকাল ১১টায় শহীদ মিনারে সমাবেশ এবং বিক্ষোভ মিছিল করার কথা থাকলেও মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে দ-িত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসি কার্যকরের বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের এ সমাবেশ বাতিল করা হয়। তবে এ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় গ্রহণের দাবিতে হাইকোর্টে পুনরায় রিট ও সমাবেশ করবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের সমন্বয়ক তানভীর আহমেদ। 

তিনি বলেন, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সকলের কাছে প্রমাণিত। এছাড়া দেশ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ গণতদন্তের মাধ্যমেও বিষয়টি সুস্পষ্ট। সুতরাং আমরা রিপোর্টের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই। একই সাথে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় গ্রহণের দাবি জানাই। এ সপ্তাহের মধ্যে আমরা একটি রিট করবো এবং সমাবেশ করবো। দাবি আদায়ে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

তাদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনগুলোও। এ বিষয়ে ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইমরান হাবিব রুম্মন বলেন, মেডিকেল প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি সবার কাছে সুস্পষ্ট। তবুও কেন শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে না তা আমাদের বোধগম্য নয়। আশা করি সরকার খুব শিগগিরি তাদের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।  

ভর্তি পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ভর্তি পরীক্ষার তিন দিন আগে ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএস থেকে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ডাক্তার সোভনসহ ৪ জনকে আটক করে র‌্যাব। ১৮ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সময়ে প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল হোতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরী কমিশনের সহকারী পরিচালক ওমর সিরাজসহ তিন জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে ওমর সিরাজ র‌্যাবের হেফাজতে হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। তবে এটিকে সাজানো নাটক বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। পরীক্ষার তিনদিন পর রংপুর থেকে রংপুর সদর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মুসতাফিজুর রহমান পাভেলসহ চিকিৎসক, কোচিং সেন্টারের পরিচালকসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সবশেষে গতকাল ১৭ নভেম্বর রাতে মেডিকেল প্রশ্নফাঁস ও ফলাফল জালিয়াতির সাথে জড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের নিরাপত্তাকর্মী আবুল হোসেন এবং এস্টেট অফিসের নিরাপত্তাকর্মী শাহাদাৎ হোসেনকে গ্রেফতার করে শাহাবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরীক্ষার পর থেকেই সারাদেশে পুনঃপরীক্ষার দাবিতে আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা একসময় গণআন্দোলন ও গণদাবিতে রূপ নেয়। এরপর থেকে প্রতিদিনই শহীদ মিনারে অবস্থান করে আন্দোলন চলতে থাকে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২৩ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীসহ সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়। ২, ৯ ও ২৪ অক্টোবর দেশের বরেণ্য শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী-সাংবাদিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গসহ সকলের অংশগ্রহণে সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করার চেষ্টা করি, প্রশ্নফাঁসের বিভিন্ন তথ্যাদি হাজির করে আমাদের দাবি জানানোর চেষ্টা করি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে দেখা করা বা কোনো ধরনের যোগাযোগ করার চেষ্টা করেননি। বিএমএ’র পক্ষ থেকে আমাদের সাথে দেখা করলে আমরা তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানালেও তা না করে বিভিন্ন বিভ্রান্তী ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন সময় আমাদের উপর পুলিশি নির্যাতন ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। অবেশে ১৪ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন শুরু করি। পরে গণতদন্তের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অনশন প্রত্যাহার করি। কিন্তু আমাদের আন্দোলন অব্যাহত ছিল এবং এখনও আছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলতে থাকবে।

Comments

comments