ব্রেকিং নিউজ

বিশ্বে নিষিদ্ধের তালিকায় যে দশ সিনেমা

embago-thebdexpress

বিনোদন ডেস্ক।।

চলচ্চিত্র শুধু বিনোদন দেয় না, অসংগতিও তুলে ধরে, প্রতিবাদী হয়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।কখনো কখনো চলচ্চিত্র যৌনতাও প্রচার করে। এসব ছবি অনেক সময় নন্দিত হলেও মাঝে মাঝে নিন্দিতও হয়। নিষিদ্ধের কবলে পড়ে চলচ্চিত্র।বিশ্বের নিষিদ্ধ ১০টি চলচ্চিত্র নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।
দ্য লাস্ট ট্যাঙ্গো ইন প্যারিস-১৯৭৩
এ ছবিতে প্যারিসের একজন অল্প বয়স্ক তরুণী তার ছেলে বন্ধুর সাথে যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলেন। আর ছবিটি পরিচালনা করেছেন বেরথোলুচি। এতে মার্লোন ব্রান্ডো, মারিয়া স্নাইডার, এবং জাঁ-পিয়েরে লিউড অভিনয় করেছেন। ছবিটির গল্পের ধরনকে বলা হয়- ইরোটিক ড্রামা। আর একাধিকবার নায়িকার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য দেখানো হয়েছে। ছবিটি ইতালি ও স্পেনে নিষিদ্ধ। একটি দৃশ্যে দেখানো হয়েছে নায়ক মার্লোন ব্র্যান্ডো নায়িকার সঙ্গে সেক্স করার সময় মাখন ব্যবহার করছেন। আর ইতালি ও স্পেনের পক্ষ থেকে বলা হয় খাবার জিনিসকে এভাবে দেখানোটা আপত্তিকর। যৌন সহিংসতা ও মানসিক অশান্তি এবং কাঁচা অভিনয়ের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে ছবিটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। এজন্য সরকার সেন্সরশিপ বাতিল করেন। যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির পরে বেশকিছু দৃশ্য কেটে ফেলা হয়।
ক্যানিবাল হলোকাস্ট-১৯৮০
১৯৮০ সালে ইতালীয় এ ছবিটি নির্মিত হয়। ছবিটি পরিচালনা করেছেন রুজিরো দিওদাতো। এ ছবিটিতে আমেরিকান এবং ইতালিয়ান অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের সঙ্গে উপজাতিরাও অভিনয় করেছেন। এ ছবিটি বিশ্বের ৪০টি দেশে নিষিদ্ধ। যারা এ ছবিটি দেখেছেন তারা বলেছেন- ছবিটি দেখার পর মানসিকভাবে তারা অসুস্থবোধ করেছেন। এ ছবিতে ক্যানিবালিজম, গণহত্যা, ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনকে জঘন্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ছবির শ্যুটিংয়ে সত্যিকারের পশু হত্যা করা হয়েছে।আর সেসময় ছবির পরিচালকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে অভিনেতা, অভিনেত্রীকেও নাকি ছবির শুটিংয়ের সময় খুন করা হয়। যদিও পরে এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দ্য সিম্পসন মুভি
‘দ্য সিম্পসন মুভি’ ছবিটি গোটা বিশ্বে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এটি ২০০৭ সালে মুক্তি পায়। আর এ কার্টুন ছবিটি মিয়ানমারে এক অদ্ভুত কারণে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সে দেশের সরকারের অভিযোগ এ ছবিতে হলুদ রঙকে প্রচার করা হয়েছে। আর যা নাকি মিয়ানমারের সংস্কৃতির কাছে অপমানজনক।
ব্যাক টু দ্য ফিউচার ট্রিলজি
ছবিটি ১৯৮৫, ১৯৮৯, ১৯৯০ সময়ের টাইম ট্র্যাভেলের ওপর নির্মিত একটি ছবি। ছবির গল্প বেশ আনন্দের। কিন্তু চীনে এ ছবিটি প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ ছবিতে বেশ কিছু দৃশ্যে বেশিরভাগ সময় ভবিষ্যতে কি ঘটবে তা দেখানো হয়েছে। আর যা নাকি চীনের সরকারের নিয়ম বিরুদ্ধ। আর একইসঙ্গে ছবিটিকে কুসংষ্কারের ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ জানানো হয়েছে। এছ্ড়াও ছবিতে নাকি বেইজিংয়ের থেকেও থাকার ভাল জায়গা রয়েছে, যা দেখানো হয়েছে। যা চীনের সরকার বিরোধী।
থ্রি হানড্রেড
ছবিটি যুদ্ধের ঘটনা নিয়ে নির্মিত হয়েছে। হলিউডের অন্যতম সেরা এ ছবি ইরান ও আরবের বেশ কিছু দেশে প্রদর্শনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর রাষ্ট্রসংঘের কাছে এই ছবি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে ইরান। তারা বলেছেন, ‘থ্রি হানড্রেড তাদের দেশকে অপমান করতে মার্কিনীদের একটা চক্রান্ত। এটি ২০০৬ সালে নির্মাণ করা হয়।
হানড্রেড টোয়েন্টি ডেজ অফ সোডোম
চার দুষ্কৃতকারী অপহরণ করে শিশু ও মহিলাদের। তারপর তাদের ওপর চলে অত্যাচার।আর যা নিজের চোখে দেখলে গা শিউরে ওঠে। আর পাওলো পাসোলিনির এ ছবি ইরান, সিঙ্গাপুর সহ পাঁচটি দেশে প্রদর্শনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ছবিতে শিশুদের ওপর অত্যাচার ও ধর্ষণের দৃশ্য রয়েছে। এজন্য বিভিন্ন দেশে এ ছবির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। এটি ১৯৭৫ সালে মুক্তি পায়।
ক্লক ওয়ার্ক অরেঞ্জ
স্ট্যানলি কুবরিকের ছবি ‘ক্লক ওয়ার্ক অরেঞ্জ’ ব্রিটেনে ২৭ বছর নিষিদ্ধ ছিল। এ ছবিতে অত্যধিক মারামারি ও পাশবিক ধর্ষণের দৃশ্য থাকায় এ ছবিটিকে ব্রিটেনে প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশ প্রশংসা কুড়ায়। এটি ১৯৭১ সালে মুক্তি পায়।
অল কোয়াইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট
অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ। যিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। হিটলার ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন।১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সে দেশের ফিউরারও ছিলেন।আর এ হিটলারই ১৯৩০ সালে ‘অল কোয়াইট অন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ ছবিটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। জার্মানি, ও অস্ট্রিয়ায় ১২ বছর ধরে নিষিদ্ধ ছিল। এই ছবি প্রদর্শিত হলে নাৎসি বাহিনীর অত্যাচারের মুখে পড়তে হত। ছবিটি হিটলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ওপর তৈরি।
দ্য বার্থ অফ এ নেশন
‘দ্য বার্থ অফ এ নেশন’ ছবিতে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের বর্ণে আক্রমণ করা হয়েছে। আর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর পরই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর ছবির পরিচালকও তার ভুল স্বীকার করেন। ছবিটি ১৯১৫ সালে মুক্তি পায়।
দ্য টিন ড্রাম
‘দ্য টিন ড্রাম’ ছবিটি অস্কারে বিদেশি ছবি বিভাগে সেরা পুরস্কার জেতে।আর এ ছবিতে দেখানো হয়েছে ১১ বছরের এক বালক ১৬ বছরের এক তরুণীর সঙ্গে সেক্স করছে। এজন্য কানাডা ও ফিলাডেলফিয়াতে ছবিটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দ্য টিন ড্রাম ছবিটি ১৯৭৯ সালে নির্মিত হয়। বলা হয় এ ছবি চাইল্ড পর্নগ্রাফি ছাড়া আর কিছু নয়। কিন্তু চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞরা এ ছবির বেশ প্রশংসা করেছেন।

Comments

comments