ব্রেকিং নিউজ

কারাগারে ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত

saka-thebdexpress

প্রতিবেদক।।

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত শীর্ষ দুই যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের দন্ড কার্যকর করতে  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ফাঁসির মঞ্চে তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ফাঁসির মহড়ার প্রস্তুতি কাজ ও এগিয়ে নিচ্ছে কারা কর্তপক্ষ। যে কোনো সময় ফাঁসির রশিতে ঝুলবেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত শীর্ষ দুই যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদের রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় গতকালই প্রকাশ করা হয়। রায়ের অনুলিপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে পেঁৗছে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে কনডেম সেলে বন্দি সাকা ও মুজাহিদ মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। গোটা জাতিও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে সেই কাঙ্ক্ষিত ক্ষণের। তাই সবার দৃষ্টিও এখন কেন্দ্রীয় কারাগারেই। রাতেই কারা কর্তৃপক্ষ সাকা ও মুজাহিদকে রায় পড়ে শোনান। তবে প্রাণভিক্ষার ব্যাপারে একাত্তরের এই দুই যুদ্ধাপরাধী কী বলেছেন, তা এখনই বলতে রাজি হয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতি গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রথমে সাকা চৌধুরীর খারিজ হওয়া রিভিউ রায়ে স্বাক্ষর করেন। এর পর ৬টা ৩৫ মিনিটে মুজাহিদের খারিজ হওয়া রিভিউ রায়ে স্বাক্ষর করেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন_বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এবং বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

ফাঁসি কার্যকরের দিনক্ষণ স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। তবে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক গতকাল বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এখন কারা কর্তৃপক্ষ দণ্ডিতদের কাছে জানতে চাইবে, তারা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কি-না। তাদের উত্তরের ওপর নির্ভর করছে দণ্ড কার্যকরের দিনক্ষণ ।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৩ মিনিটের দিকে ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আফতাবুজ্জামান, সিনিয়র আইন গবেষক ফাহিম ফয়সালসহ পাঁচ কর্মকর্তা প্রাইভেটকারে পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি নিয়ে কারাগারে যান। সিলগালা করা খয়েরি রঙের প্যাকেটের ভেতরে থাকা রায়ের অনুুলিপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে মিনিট দশেকের মধ্যে তারা এলাকা ত্যাগ করেন। এর আগে কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন। রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবীর, জেলার নেছার আলমসহ চার কর্মকর্তা কনডেম সেলে গিয়ে সাকা চৌধুরীকে ১৩ পৃষ্ঠা ও মুজাহিদকে ২৯ পৃষ্ঠার রায় পড়েন শোনান।
আইন অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ এখন দণ্ডিতদের কাছে জানতে চাইবেন, রাষ্ট্রপতির কাছে তারা প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে চান কি-না। তাদের মতামত জানার পরই অনুকম্পা চাওয়া-না চাওয়ার বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তারা প্রাণভিক্ষা না চাইলে যে কোনো সময় দণ্ড কার্যকর করা যাবে। কারাবিধি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার ব্যাপারে অন্যান্য ক্ষেত্রে আসামি সাত দিন সময় পেলেও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সে নিয়ম প্রযোজ্য নয় বলে আইন বিশেষজ্ঞরা জানান। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ইচ্ছানুযায়ী রায় কার্যকর হয়। এর আগে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লা ও মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড একই প্রক্রিয়ায় কার্যকর হয়েছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল বলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা ছাড়া আসামিদের পক্ষে আর কোনো আবেদনের সুযোগ নেই। আসামিদের নিজ হাতে প্রাণভিক্ষার পত্র লিখতে হবে। রায় কার্যকরের বিষয়টি এখন সরকারের ওপর নির্ভরশীল। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। অনুলিপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। অনুলিপি হাতে পাওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষ দুই যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদর আগে প্রাণভিক্ষার আনুষ্ঠানিকতা সারতে পারবে।

 

 

 

Comments

comments