ব্রেকিং নিউজ

আই এসকে জড়িয়ে টুইট বার্তা।। ইসরাইলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা কে এই রিতা কাৎজ?

রিতা কাজৎ

দ্য বিডি এক্সপ্রেস।।

পুরো নাম রিতা কাৎজ। ৫২ বছর বয়স্কা এ নারী ঢাকা ও রংপুরে দুই বিদেশী নাগরিক খুন হওয়ার পর আইএসআইএসকে জড়িয়ে টুইটার বার্তা দিয়েছেন। পৃথক দুই টুইটার বার্তায় তিনি দাবি করেছেন- এ হত্যাকাণ্ড আইএসআইএস ঘটিয়েছে। বার্তায় রিটা অপপ্রচারও চালিয়েছেন বাংলাদেশ নিয়ে। এ কারণেই তার সম্পর্কে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করেছে বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ওই নারীর বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে বলেছে। প্রশ্ন উঠেছে কে এ রিতা কাৎজ। ঢাকা এবং রংপুরে দু’জন বিদেশী নাগরিক খুনের ঘটনায় আইএসআইএসকে জড়িয়ে সংবাদ প্রচার করে নজরে আসে সার্চ ফর ইন্টারন্যাশনাল টেরোরিস্ট এন্টাইটিস (এসআইটিই) সাইট। 

এ সাইটটি ওয়াশিংটনভিত্তিক একটি বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগী প্রতিষ্ঠান। রিতা কাজ করছেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটিজের সাবেক পরিচালক জোস ডিভনের সঙ্গে। রিতা এর আগে প্রকাশ্যে কাজ করেছেন ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ও মার্কিন তদন্ত গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সঙ্গে। অনর্গল আরবি ভাষায় পারদর্শী রিতা ছদ্মবেশে থেকেছেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আন্দোলনেও। অথচ কাজ করেছেন ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’-এর হয়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিতা কাৎজের এনআইটিই সংস্থায় অর্থায়ন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি, প্রচারণার চূড়ান্ত উদ্দেশ্য কালো চাদরে আবৃত। একই ভাবে তার মদতদাতাদের পরিচিতিও কালো চাদরে ঢাকা।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন সূত্র জানায়, রিতা কাৎজের জন্ম ১৯৬৩ সালে ইরাকের বসরায়। জন্মগতভাবে তিনি ইহুদি ধর্মের অনুসারী। ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১৯৬৮ সালের দিকে তৎকালীন সাদ্দাম সরকার প্রকাশ্যে ফাঁসি কার্যকর করে রিতার বাবার। ওই সময় তিন সন্তান নিয়ে রিতার মা পালিয়ে যান ইরানে। সেখান থেকে চলে যান ইসরাইলের ‘বাট ইয়াম’ শহরে। সেখানেই পরে তাদের ঠিকানা হয়।

বসরায় জন্ম নেয়ায় কারণে আরবিতে পারদর্শী হন রিটা। কেউ কেউ বলছেন, বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই রিতাকে আরবি শেখানো হয়েছে। পরে তাকে চাকরি দেয়া হয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীতে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর তত্ত্বাবধানেই তেলআবিব বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি, ইতিহাস আর মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে পড়াশোনা করেন রিতা। ১৯৯৭ সালে চিকিৎসক স্বামীর সঙ্গে পাড়ি দেন আমেরিকায়। জাল ভিসার কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আটক হয়েছিলেন। পরে ওই জালিয়াতির কথা স্বীকারও করেন তিনি।২০০২ সালে ইরাক আক্রমণের আগে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলমানদের ওপর কড়া নজরদারি করা হয়। সে সময় রিতা প্রতিষ্ঠা করেন এসআইটিই নামের সংস্থাটি। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অনলাইনে ফাঁস করা এ সংস্থার প্রধান কাজ। আল কায়দা নেটওয়ার্ক, আইএসআইএস নেটওয়ার্ক, হামাস, ইসলামিক জিহাদ এবং হিজবুল্লাহ নিয়ে তার প্রতিষ্ঠান নিয়মিত প্রচারণা চালায়।

রংপুরে জাপানি নাগরিক খুন হওয়ার পর ৩ অক্টোবর রিতা কাৎজের করা টুইটার বার্তায় আইএস দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করা হয়। একইভাবে ২৮ সেপ্টেম্বর রিতা কাৎজের টুইট বার্তায় ইতালিয়ান নাগরিক সিজারি তাভেল্লা খুনের বিষয়ে আইএসআইএস করেছে বলে টুইট করেন রিতা। তার টুইট বার্তায় আইএস এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকারের বিষয়ে লিংক চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি কোনো লিংক দেননি। দুটি টুইট বার্তার পরই টুইটার ব্যবহারকারী বেশ কয়েকজন রিতার কাছে লিংক জানতে চান। টুইটার ব্যবহারকারীরা তার টুইট বার্তাটি ভুয়া বলেও মন্তব্য করেন।

Comments

comments