ব্রেকিং নিউজ

রাবিতে বিভাগ পরিবর্তনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

রাজশাহী প্রতিনিধি :
নতুন বিভাগ না খোলার দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (এপিইই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার দিনব্যাপি মানববন্ধন,বিক্ষোভ-সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে লাগাতার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মুখ খুলছেন না বিভাগের সভাপতি প্রফেসর মামুনুর রশিদ তালুকদার।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ-মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ-মিছিল শেষে বেলা ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন করে তারা।

বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী খন্দকার এহশাদুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক, ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবুল কালাম আজাদ, তানভীর আহমেদ জীম, ২য় বর্ষের মাসুদুর রহমান।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আজ থেকে আমরা বিভাগের কোন ক্লাস-পরিক্ষাসহ কোন প্রকার একাডেমিক কার্যক্রমে আমরা অংশগ্রহণ করবো না। আমরা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাবো। অতি শ্রীঘ্রই দাবি আদায় না হলে প্রতীকি অনশন শুরু করবে বলে জানিয়েছে তারা।

এরপর শিক্ষার্থীরা বিভাগের শিক্ষকদের সাথে সমঝোতার জন্য এক আলোচনা সভায় বসে। আলোচনা সভাতে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে না নেয়ায় শিক্ষার্থীরা আবারো বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দুপুর দেড়টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, ফলিত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগকে যখন নাম পরিবর্তন করে ফলিত পদার্থবিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ করা হয় তখন এর কোর্স কারিকুলাম পরিবর্তন করা হয়। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে যে কারিকুলাম পড়ানো হয় আমাদেরও সেই কারিকুলামই পড়ানো হয়। বর্তমানে আমাদের সিলেবাসের ১০ শতাংশ ফলিত পদার্থবিজ্ঞানের আর বাকি ৯০ শতাংশই ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের। এমন অবস্থায় নতুন করে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইইই’ বিভাগ খোলা হলে তা হবে সাংঘর্ষিক। তাই আমরা দাবি জানিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে নতুন বিভাগ না খুলে এপিইই বিভাগকে ইইই বিভাগে রূপান্তর করার জন্য আন্দোলন করে আসছি।
    
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পর্কে কথা বলার জন্য বিভাগীয় সভাপতি মামুনুর রশিদ তালুকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে এবং অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর আবু বকর মো. ইসমাইল বলেন, ‘বিভাগের শিক্ষার্থীরা না বুঝেই নতুন বিভাগ খোলার বিরোধিতা করছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পর্কে বিভাগকেই দায়িত্ব নিতে হবে।’

Comments

comments