ব্রেকিং নিউজ

চট্টগ্রামে ফুটপাতে শিশুর জন্ম, হাত বাড়িয়ে দিলেন এক পুলিশ কর্মকর্তা

ফুটপাতে শিশুর জম্নপ্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের বাদামতলী এলাকার ফুটপাতের উপর মানসিক ভারসাম্যহীন এক মা ফুটফুটে শিশুর জন্ম দেন।
শিশুটির জন্মমুহূর্তে ফুটপাতে অসংখ্য মানুষ জটলা পাকালেও প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা সেই মায়ের সেবায় কেউ এগিয়ে আসেনি। মানুষের ভিড় দেখে দূর থেকে ছুটে আসেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি চট্টগ্রাম নগরের ডবলমুরিং থানার এএসআই পল্টু বড়ুয়া। আগ্রাবাদ এলাকায় ডিউটিরত থাকা অবস্হায় তিনি দেখতে পান রাস্তার পাশে শত শত মানুষের জটলা পাকিয়ে আছে। মানুষের জটলা দেখে তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন প্রসব যন্ত্রনায় ছটফট করছেন এক হতবাগা নারী। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছে, কেউ ভিডিও করছে। আমি কী করব বুঝে ওঠার আগেই শিশুটির জন্ম হয়। কিন্তু খেয়াল করলাম, শিশুটি কাঁদছে না, তবে মায়ের অবস্থা আশংকাজনক থাকায় দ্রুত একটি অটোরিকশা ডেকে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাই।’
পুলিশ অফিসার পল্টু বড়ুয়া জানান দ্রুত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের বুজিয়ে ভর্তি করাই। অভিবাবক না তাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে ভর্তি নিয়ে ইতস্তত করছিলেন। পরে হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে পুরো ঘটনা জানানোর পরে ভর্তির নির্দেশ দেন। দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠায় পরদিনই মা ও শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালক নুরুল হক বলেন, রাস্তা থেকে কুড়িয়ে সদ্যোজাত শিশু ও মায়ের জীবন বাঁচানোর জন্য পল্টু বড়ুয়া মানব সেবায় যে দৃষ্টান্ত স্হাপন করেছেন তা বিরল ঘটনা। অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। হাসপাতালের পক্ষে মা ও শিশুর চিকিৎসায় যতটা সম্ভব সহায়তা করা হয়েছে। শিশু ও মা বর্তমানে সুস্হ আছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা হাসপাতাল থেকে শিশু ও তার মাকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন । তাঁর এক আত্মীয় শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু মানসিক ভারসাম্যহীন মাকে কোথায় রাখবেন! শিশুটির মা বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীও। জোর করেও তাঁকে বাসায় রাখা যাচ্ছিল না। পরে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আলম তালুকদারের সঙ্গে পরামর্শ করে দেওয়ানহাট ফ্লাইওভারের নিচে বালিশ ও মাদুর দিয়ে মায়ের থাকার ব্যবস্থা করেন। প্রতিদিন বাসা থেকে তিন বেলা খাওয়ার ব্যবস্থাও করেন।

Comments

comments