ব্রেকিং নিউজ

চট্টগ্রামেে আস্তানায় ঢুকে পীর ও খাদেমকে জবাই করে হত্যা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।।

নগরীর বায়েজিদ থানায় দিনে দুপুরে লেংটা মামার মাজারে ঢুকে আস্তানার পীর ও খাদেমকে নৃশংসভাবে খুন করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যা কান্ডের পর করে ককটেল পাটিয়ে খুনি পালিয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘লেংটা মামার মাজার’ নামে পরিচিত। নিহতরা হলেন আস্তানাটির পীর রহমত উল্লাহ প্রকাশ ল্যাংটা মামা (৬০), অন্যজন খাদেম আবদুল কাদের (৩০)

ঘটনার পরপরই সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেখান থেকে সিআইডির কর্মকর্তারা হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেন। তবে কী কারণে, কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ফকিরের সঙ্গে কারো কোনো বিরোধ ছিল কিনা কিংবা মাজারবিরোধী গোষ্ঠীর কেউ এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জুমার নামাজের সময় এক যুবক এসে রহমত ও তার খাদেমকে খুন করে পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে জামতলা হয়ে পালিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে ধাওয়া করলে সে দুটি হাতবোমা ফাটায়। বোমার স্প্লিন্টারে মো. মনির (২৬) ও মুন্নাসহ (১২) তিনজন আহত হয়।

আহত মনির বলেন, নামাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় আমি এক যুবককে ছুরি ও একটি ব্যাগ হাতে হেঁটে আসতে দেখি। লোকজন চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করলে ওই যুবক পালানোর চেষ্টা করে। আমি রাস্তার মধ্যে তাকে জাপটে ধরতে গেলে সে ব্যাগ থেকে বের করে পর পর দুটি ককটেল ফাটায়। তিনি জানান, ওই যুবকের বয়স ২৭২৮ বছর। তার পরনে ছিল প্যান্ট ও লাল গেঞ্জি।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ জানান, আস্তানার ভেতরে গলা কাটা লেংটা মামাকে শোয়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। বেলা দেড়টা থেকে পৌনে ২টার মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার খাদেম হত্যাকারীকে ধরে ফেললে তাকেও গলায় ছুরি মারা হয়। নিহত দুজনের লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা তদন্তে কাজ করছে থানা পুলিশ ও ডিবির একাধিক টিম। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল রাত ৯টায় আবদুল মান্নান মনা নামে একজনকে আটক করেছে।

Comments

comments