ব্রেকিং নিউজ

গরু পাচার বন্ধে সীমান্তে অতিরিক্ত ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন ভারতের

গরু পাচারদ্য বিডি এক্সপ্রেস

অবৈধ পথে গরু আসা বন্ধ করতে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৩০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে ভারত।যে সকল এলাকায় কাঁটা তারের বেড়া নেই সেই সীমান্তে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে বিএসএফ। জলপথ সাঁতরে  একপাশ থেকে আরেকপাশে ছুটে যাচ্ছে- যাতে ভারতীয় কোন গরু অবৈধ পথে বাংলাদেশে যেতে না পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল এ খবর দিয়ে আরও বলেছে, মুসলিম প্রধান প্রতিবেশী দেশের প্রতি ভারতীয় এ নীতি এ দেশটির ওপর অর্থনৈতিক কি প্রভাব ফেলছে তা পরিষ্কার হয়ে গেছে। ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আসার পথ এভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ভারত।

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে গরু আমদানিতে ভারত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও নিরাশ করেনি মিয়ানমার। ইতিমধ্যে দেশটি থেকে পাঁচ হাজারের বেশি পশু আমদানি করা হয়েছে। ঈদের পূর্বে আরও ১০ হাজারেরও বেশি পশু আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর হয়ে আসা গরু, মহিষ ও ছাগল থেকে সরকারও পাচ্ছে রাজস্ব।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ হওয়ার পর ব্যবসায়ীরা মিয়ানমারের দিকেই ঝুঁকে পড়েছেন।

হিন্দু মৌলবাদীদের দাবির মুখে বর্তমান বিজেপি সরকার ভারতের অনেক রাজ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ করেছে। বাংলাদেশে গরু রপ্তানি বন্ধ করতে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বিজেপি সরকার।

ভারতে গত বছর হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বর্তমান সরকারই এই গরুর ব্যবসা বন্ধ করতে চায়।

ওদিকে আরএসএসের পশ্চিমবঙ্গ শাখার মুখপাত্র জিষ্ণু বসু মন্তব্য করেছেন, গরু পাচার করা হলো একটি হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণ বা একটি হিন্দু মন্দির ধ্বংসের সমতুল্য। ভারত গরু রপ্তানি বন্ধ করার কারণে সারাদেশে গো-মাংসের দাম এক লাফে ১০০ থেকে ১২০ টাকা বৃদ্ধি িপেয়েছে। ফলে মিয়ানমার থেকে গত কয়েকদিন ধরে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে প্রচুর গাবদী পশু দেশে আসছে।

টেকনাফ শুল্ক স্টেশনের রাজস্ক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করিডোর হয়ে চার হাজার ১৯৪টি গরু, মহিষ ও ছাগল আনা হয়েছে। এসব পশু থেকে রাজস্ব পাওয়া গেছে ২০ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। এর পূর্বে গত বছর মিয়ানমার থেকে পশু আনা হয় ২৫ হাজারের মতো।

করিডোর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম জানান, সেপ্টেম্বরের চার দিনে আরও এক হাজারের মত পশু আমদানি করা হয়েছে। ঈদের আগে আরও ১০ হাজার পশু আমদানির লক্ষ্য রয়েছে। আর মিয়ানমার থেকে আসা পশুর মাংস গড়ে প্রতি মণ ১৬ হাজার টাকা হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

গরু ব্যবসায়ী আবু সৈয়দ জানান, কোরবানি ঈদ উপলক্ষে মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি ক্রমাগত বাড়ছে। এসব পশুর মূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যেই রয়েছে। চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানো হচ্ছে এসব পশু।
মিয়ানমার থেকে আনা গরু

আরেক ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাশেম জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর ৪শ’, ২ সেপ্টেম্বর ২শ’ এবং ৩ সেপ্টেম্বর ১৫০টি গরু মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হয়েছে। একইসঙ্গে অর্ধশতাধিক মহিষও আমদানি করা হয়েছে। করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে প্রতিদিন পশু আসছে। ঈদে চাহিদা থাকায় আমদানি আরও বাড়তে পারে।

এবারের সরকারি হিসাবে কোরবানিতে ৪০ লাখের মত পশুর চাহিদা রয়েছে। গত ৩১ আগস্ট বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, বর্তমানে কোরবানি উপযোগী ৩০ লাখ গরু-মহিষ ও ৬৯ লাখ ছাগলের মজুদ রয়েছে। এটা চাহিদার চেয়েও অনেক বেশি।

Comments

comments