ব্রেকিং নিউজ

“ব্লগারদের বিরুদ্ধে আইজিপির বক্তব্য অপরাধীরা উৎসাহিত হবে”

সুলতানা কামালপ্রতিবেদকঃ ফেসবুক ও ব্লগে ধর্ম অবমাননা করে না লিখার আহবান জানিয়েছেন পুলিশের আইজিপি এ কেএম শহীদুল হক। কেউ যদি সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার উদেশ্যে লিখে থাকে তাদের গ্রেপ্তার কেরা হবে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মানবাধিকার সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য অপরাধীদের উৎসাহিত এবং মুক্তমনা লেখকদের আরও আতঙ্কিত করে তুলবে। মঙ্গলবার আসকের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামালের সই করা এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। আসক বলেছে, ব্লগারদের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করা এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া যখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মুক্তমনা লেখকদের ‘সীমালঙ্ঘন’ না করার পরামর্শ দেয়া মোটেও সময়োপযোগী বা সুবিবেচনাপ্রসূত নয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুক ও ব্লগে কে কী লিখছে তা জানার জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা কঠোরভাবে নজরদারি করবে এবং যারা ধর্ম অবমাননা করে লিখবে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে—রোববার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এতে আসক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। একই দিনে (রবিবার) পুলিশ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক মুক্তমনা লেখকদের তাদের লেখার সীমা অতিক্রম না করার পরামর্শ দেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যখন একের পর এক মুক্তমনা লেখক নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে এবং পুলিশ হত্যাকারীদের চিহ্নিত ও আটক করার ক্ষেত্রে নিদারুণভাবে ব্যর্থ, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে দেয়া বক্তব্য বা মুক্তমনা লেখকদের গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত হতাশাজনক এবং চূড়ান্তভাবে অনভিপ্রেত। এ ধরনের বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত অবধারিতভাবেই অপরাধীদের উৎসাহিত এবং মুক্তমনা লেখকদের আরও আতঙ্কিত করে তুলবে।” বিবৃতিতে সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, মুক্তমনা লেখকদের জন্য যে ভয়ংকর পরিবেশ আজ সৃষ্টি হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় নেয়া অপরিণামদর্শী পদক্ষেপ তার একটি বড় কারণ।

Comments

comments