ব্রেকিং নিউজ

নোয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড় কোমেনর ব্যাপক তান্ডব

কোমেন ৭নোয়াখালী সংবাদদাতাঃ উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ ক্রমশ দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। ঘূর্ণিঝড়টি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাতিয়া-সন্দ্বীপের উপর দিয়ে নোয়াখালীর উপকুলে আচড়ে পড়ছে। নোয়াখালীর হাতিয়া ও তৎসংলগ্ন স্থলভাগ এলাকায় অবস্থান করছে। এসময় কোমেন বাতাসে এর সর্বচ্ছো গতিবেগ ঘন্টায় সত্তর কিলোমিটার। হাতিয়া ও নিজুমদ্বিপে তিন শতাধিক কাঁচা ঘর বাড়ী হাজার হাজার গাচপালা উপড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

হাতিয়া উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় কোমেনের প্রভাবে সৃষ্ট দমকা বাতাস, ঝড়ো হাওয়া, ভারী বর্ষনে উপজেলা নিঝুমদ্বীপ, নঙ্গলিয়া, নলেরচর. কেয়ারিংচর নলচিরা, সুখচর. তমরদ্দি, চরঈশ্বর, চরকিং, সোনাদিয়া ও হাতিয়া পৌরসভার অর্ধশতাধিক গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে তিনশত কাঁচা ঘরবাড়ি বিধস্ত ও হাজার হাজার গাছপালা ভেঙে গেছে। নলচিরা ইউনিয়নের ৩টি স্থানে বেড়িবাধ ছিঁড়ে প্লাবিত হয়েছে।

প্রবল জলোচ্ছাসে নদী ও সাগর উত্তাল হওয়ায় হাতিয়ার একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম চেয়াম্যানঘাট- নলচিরাঘাট ও চেয়ারম্যানঘাট- চরচেংগা ঘাট রুটে চলাচলকারী সীট্রাক ২টি, ট্রলার ও নৌকা বন্ধ রয়েছে। সীট্রাক বন্ধ থাকায় হাজার হাজার যাত্রী চেয়াম্যানঘাট- নলচিরা ঘাট রুট দিয়ে মাইজদী, চট্রগ্রাম ও ঢাকা পারাপার করতে না পেরে চরম ভোগান্তি ও মানবেতর জীবন যাপন করছে। গত ৬ দিনের প্রবল বর্ষন ও মৌসুমী ঝড়ো হাওয়ায় হাতিয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। এসব এলাকার কোথাও কোথাও ৪-৬ ফুট পানির নীচে রয়েছে। ভারী বর্ষন ও অস্বাভাবিক জোয়ারে শতাধিক মাছের ঘের প্ল¬াবিত হয়ে সম্পুর্ন মাছ ভেসে গেছে। অব্যাহত ভারী বর্ষন এবং প্রচন্ড দমকা বাতাস, ঝড়ো হাওয়া, ভারী বর্ষনের কারনে হাতিয়া চর জব্বার চর ইলাহী সহ বেজুগালিয়া গ্রাম, ওছখালীবাজার এবং নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের ছোয়াখালী, বাতায়ন,মোক্তারিয়া, নামারবাজার, বন্দরটিলা এলাকা, নলচিরা ইউনিয়নের ফরাজী গ্রাম, ষ্টিমারঘাট, অলিবাজার, তুফানিয়া গ্রাম ও সুখচর ইউনিয়নের মানুষ গুলো পানিবন্ধি আবস্থায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধায় প্রবল বেগে ঘূর্ণিঝড় কোমেন আঘাতে হানে নোয়াখালীর মেঘনা উপকূলে। এ সময় সোনাদিয়ার গ্রাম থেকে পূর্ব সোনাদিয়া আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পথে প্রচন্ড বাতাসে ঠান্ডা লেগে তানজিনা বেগম নামে নবজাকতের মৃত্যু হয়েছে।

৬ দিনের প্রবল বর্ষন ও মৌসুমী ঝড়ো হাওয়ায় হাতিয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত। এসব এলাকার কোথাও কোথাও ৪-৬ ফুট পানির নীচে রয়েছে। বাজচেয়ারম্যান বাজার, বৌ-বাজার, দাসপাড়া, কাহার পাড়া, দরগা গ্রাম, বাদশা মিয়া গ্রাম, কাদির সর্দার গ্রামের মানুষ গুলো পানিবন্ধি আবস্থায় রয়েছে। হাতিয়া উপজেলা প্রসাশন নিঝুম দ্বীপসহ বেড়ি ও বেড়ির পাশের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপম বড়ুয়া জানান, জেলায় মোট ২৩০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ১১৪টি মেডিকেল টিম ও সাড়ে পাঁচ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক যানবাহণ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার চরএলাহি, চরফকিরা, মুছাপুর ইউনিয়ন, কবিরহাট উপজেলার ঘোষবাগ, ধানশালিক, ধানসিঁড়ি উপজেলা, সূবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর, চরবাটা, চরক্লার্ক, চরওয়াপদা, চরজুবলী, আমানউল্লাহ, পূর্ব চরবাটা, মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন এবং হাতিয়া উপজেলার সবগুলো ইউনিয়ন ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে এসব উপজেলা গুলোতে ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য, কোম্পানীগঞ্জে ৩৩টি আশ্রয়কেন্দ্র, ১৩টি মেডিক্যাল টিম, কবিরহাটে ২২টি আশ্রয়কেন্দ্র, ১২টি মেডিক্যাল টিম, সূবর্ণচরে ৯৪টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৭টি মেডিক্যাল টিম, হাতিয়া ১৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্র ও ৪টি মেডিক্যাল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এ ছাড়াও উপজেলাগুলোর সকল সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Comments

comments