ব্রেকিং নিউজ

পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যত অনিশ্চিত,নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে আমেরিকার অস্বীকৃতি

পরমানু চুক্তিআন্তর্জাতিক ডেক্সঃ ভিয়েনায় পরমাণু আলোচনার মেয়াদ ফের বাড়ানোর পর ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত যেসব বক্তব্য বিবৃতি শোনা যাচ্ছে তাতে আলোচনার ফলাফল শেষ পর্যন্ত কি হবে তা স্পষ্ট নয়।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ প্রতিপক্ষের নীতিতে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি পরমাণু আলোচনার ব্যাপারে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, কয়েকটি দেশের স্বেচ্ছাচারিতা ও অযৌক্তিক দাবি দাওয়া চুক্তির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং আলোচনা অত্যন্ত জটিল অবস্থায় এসে ঠেকেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতরাতে ভিয়েনায় সাংবাদিকদের বলেছেন,  আলোচনা অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় ও শেষ মুহূর্তে এসে উপনীত হয়েছে এবং এ সময় যে কোনো শব্দ কম বেশি করা হলে তা ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা কমাতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে পরমাণু ক্ষেত্রে সমঝোতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে। নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়ার কোনো চিন্তা আমেরিকার নেই তাদের মতে, ভিয়েনায় চলমান পরমাণু আলোচনায় প্রবল চাপ ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের পরিবেশ বিরাজ করছে।

নতুন করে পরমাণু আলোচনা শুরুর পর মার্কিন কর্মকর্তারা সমঝোতার চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন এবং পরে তা আবার নবায়ন করেন। এমনকি আলোচনার টেবিলে সমঝোতা না হলে তারা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সামরিক ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেন। সেই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা ইহুদিবাদী লবি এবং কোনো কোনো কংগ্রেস সদস্যের নীতি অনুসরণ করে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার ওপরও জোর দেন। এবারও পরমাণু আলোচনা থেকে বেরিয়ে আসার হুমকি দিয়েছেন  মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।

জন কেরি গতকাল আলোচনার শেষ মুহূর্তে এসে পরমাণু আলোচনা ত্যাগ করার হুমকি দিয়ে মূলত ইরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার এ হুমকি থেকে বোঝা যায়, আমেরিকা আলোচনাকে এমন দিকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে কোনো সমঝোতা না হয় এবং এর দায়ভার ইরানের চাপিয়ে দেয়া যায়।

যাইহোক, আলোচনার যে পরিবেশ তাতে ফের সময় বাড়ানো হতে পারে তবে এতে করে সমঝোতা না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বরং সমঝোতার চেষ্টা আরো কণ্টকাকীর্ণ হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। তাদের মতে, টেকসই সমঝোতার প্রধান শর্তই হচ্ছে সবপক্ষের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেমনটি বলেছেন, প্রতিপক্ষের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা সমঝোতা চায় নাকি চাপ অব্যাহত রাখতে চায়। কারণ সমঝোতা ও চাপ প্রয়োগ একসঙ্গে চলতে পারে না। তাই তাদেরকে এ দু’টির যে কোনো একটি পথ বেঁছে নিতে হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেছেন, ইরানের জনগণ এমন একটি সমঝোতা চায় যেখানে তাদের সম্মান বজায় থাকবে এবং প্রতিপক্ষরা যদি সত্যিই কোনো সমঝোতা চায় তাহলে তা অর্জন করা সম্ভব।

Comments

comments