ব্রেকিং নিউজ

ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদে ব্যর্থ দুই মেয়র

ডিসিসিপ্রতিবেদকঃ অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে ঢাকার ফুটপাত উদ্ধার করা হবে এই মর্মে একাধিকবার ঘোষনা দিয়েছিলেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই মেয়র প্রার্থী। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই সরকার সমর্থিত দুই মেয়র ফুটপাতে জনসাধারণের চলাচল নির্বঘ্ন করতে এমনটাই ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তারাও বলতে গেলে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ। তারাও হাঁটছেন পূর্বসুরীদের পথে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কোনও পদক্ষেপও নিতে পারেননি তারা।

রাজধানীর ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলোয় হকাররা সাধারণত কাপড়, জুতা ও প্রসাধনী সামগ্রী বিক্রি করে। এসব হকাররা জানান, যেহেতু নিয়মিত তারা সরকারি দল ও পুলিশকে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছে, তাই তাদের কেউ সরাতে পারবে না। তাদের উচ্ছেদ অভিযান হলেও কোনও অসুবিধা হবে না। কয়েকদিন পরে আবার একই জায়গায় ফিরে আসতে পারবে তারা।

তারা আরও জানান, তাদের সরাতে হলে আগে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। তাছাড়া এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন থেকে তাদের কাছে কোনও নোটিস আসেনি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন এবং ঢাকা উত্তরের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, পথচারীদের দুর্দশা কমাতে এবং যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ১ জুন গুলিস্তানে এবং ১২ জুন ফার্মগেটে ফুটপাত দখলদার হকারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

১ জুন ডিএসসিসি কর্মকর্তারা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদ সংলগ্ন এলাকা, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়াম, কাপ্তান বাজার, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এবং গুলিস্তান আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে হকারদের উচ্ছেদ করে। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই আবার তারা তাদের আগের জায়গায় ফিরে যায়।

ওইদিনই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ বলেন, 'এখন থেকে আমরা প্রতিনিয়ত ফুটপাতের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবো যাতে হকাররা সেখানে বসতে না পারে।'

কিন্তু গুলিস্তানের যেসব জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে শনিবার সরেজমিনে সেসব জায়গায় গিয়ে দেখা যায় পুরোদমে পসরা সাজিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে হকাররা

সরকারি দলের যারা ফুটপাত থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলেন তাদের সঙ্গে ডিএসসিসি কর্মকর্তাদের যোগসাজোশ আছে। তাই তারা আমাদের তুলে দেবে না।'

এ বিষয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা টাকার বিনিময়ে হকারদের পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কয়েকবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি দক্ষিণের মেয়র খোকন।

উত্তরের মেয়রের ঘোষণা অনুযায়ী ফার্মগেট এলাকায় শুক্রবার হকার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা ছিলো ডিএনসিসির। কিন্তু ওইদিন সেখানে গিয়ে দেখা যায় হকাররা নির্বিঘ্নেই ব্যবসা করছে।

তেজগাঁও কলেজের সামনের সবজি বিক্রেতা সাইফুল জানান, উচ্ছেদ অভিযান বিষয়ে তাদের কাছে কোনও খবর নেই। তাছাড়া তিনি মনে করেন, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে তাদের তুলে দেওয়ার বিষয়টি অমানবিক। 

তিনি বলেন, 'প্রতি সপ্তাহেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্থানীয় নেতাদের ব্যবসা চালানোর জন্য টাকা দেই। এরপরও কেন উঠে যাবো আমরা?

ডিএনসিসির প্রধান এস্টেট কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, 'উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে মেয়র এখনও পর্যন্ত আমাদের কোনও নির্দেশনা দেননি।‘

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হককে মোবাইল ফোনে একটি বার্তা পাঠানো হলে উত্তরে তিনি বলেন, ‘এটা একটি জটিল সমস্যা। অনেকেই এর সঙ্গে জড়িত। সমস্যাটির একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজছি আমরা।’

 

Comments

comments