ব্রেকিং নিউজ

মোদির সফর সম্পর্কোন্নয়নে নতুন গতিসঞ্চার করবে : প্রধানমন্ত্রী

মোদির সফরপ্রতিবেদকঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সফরে নতুন গতিশীলতা ও আস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আজ নরেন্দ্র মোদির সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে বলেন, দু’টি দেশকে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ঘোষণাকে ফলপ্রসূ করতে হবে। ভারত অবশ্যই আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং দু’টি দেশ যৌথভাবে জনগণের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি অর্জন করতে পারে। 

শেখ হাসিনা ১৯৭৪ সালের স্থল সীমানা চুক্তি অনুমোদনের জন্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ ৬৮ বছরের পুরানো একটি মানবিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।

শেখ হাসিনা ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এক বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শান্তির দক্ষিণ এশিয়া বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু সকল প্রতিবেশীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিলেন যাতে এখানকার জনগণের কল্যাণে প্রতিটি লোক ভাল প্রতিবেশী হিসাবে পাশাপাশি বসবাস করতে পারে।

বঙ্গবন্ধুকে এ যুগের মহান নেতা আখ্যায়িত করে নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি বণ্টন চুক্তিতে সহযোগিতার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বাগরেহাটে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে এবং ভারতের সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী দুই বছরে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ ১১শ মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে। রামপালে ভারতের সহায়তায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। যথাসময়ে কাজ শেষ হবে।যথাযথ আইন মেনেই সেখানে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
গত মাসে ভারতীয় পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত বিল পাস হওয়ার বিষয়ে মোদি বলেন, এতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সাথে ব্যাপক ভিত্তিক ও স্থায়ী সম্পর্ক স্থাপনের জন্য রূপকল্প বাস্তবায়নে সমর্থন ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এই সফরে নতুন গতিশীলতা ও আস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আজ নরেন্দ্র মোদির সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে বলেন, দু’টি দেশকে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ঘোষণাকে ফলপ্রসূ করতে হবে। ভারত অবশ্যই আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং দু’টি দেশ যৌথভাবে জনগণের জন্য শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি অর্জন করতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, এটি প্রকৃতপক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং আমাদের জন্যও বড় আনন্দের বিষয়। তিনি আরো বলেন, এটা সত্যিকার অর্থে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং আমরা আমাদের এই সম্পর্ক এক অতি উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই।

শেখ হাসিনা ১৯৭৪ সালের স্থল সীমানা চুক্তি অনুমোদনের জন্য ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে দীর্ঘ ৬৮ বছরের পুরানো একটি মানবিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত খুশি যে, অবশেষে স্থল সীমানা সমস্যার সমাধান হয়েছে এবং এই অর্জনের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করি।

শেখ হাসিনা এই চুক্তির প্রতি সর্বসম্মত সমর্থন জ্ঞাপনের জন্য ভারতের জনগণ ও সব রাজনৈতিক দলকে ধন্যবাদ জানান এবং এই চুক্তির ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

শেখ হাসিনা ১৯৭২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এক বক্তৃতার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শান্তির দক্ষিণ এশিয়া বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু সকল প্রতিবেশীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিলেন যাতে এখানকার জনগণের কল্যাণে প্রতিটি লোক ভাল প্রতিবেশী হিসাবে পাশাপাশি বসবাস করতে পারে এবং গঠনমূলক নীতি অনুসরণ করতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ওই দূরদর্শী বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার। ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালে বিরাট অবদান রেখেছে যার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কথপোকথন ছিল উষ্ণ, আন্তরিক ও সুদূরপ্রসারী। আমরা পরস্পরের উদ্বেগ ও অগ্রাধিকারগুলো উপলব্ধি করি। আমরা ক্রমবিকাশমান সম্পর্কের সকল দিক নিয়ে আলোচনা করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও প্রধানমন্ত্রী মোদী একমত হয়েছেন যে, উভয় দেশ ও এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বৃহত্তর পরিসরে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় নৌযান চলাচল চুক্তি, বাণিজ্য চুক্তি এবং অভ্যন্তরীণ নৌ ট্রানজিট ও বাণিজ্য প্রটোকল নবায়ন এবং সেই সাথে নতুন বাস সার্ভিস চালু, এ অঞ্চলে বৈষম্য হ্রাস ও সর্বাধিক কল্যাণ সাধনের লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার লক্ষ্যে আমাদের অঙ্গিকারের প্রতিফলন।

শেখ হাসিনা বলেন, এসব চুক্তিতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলো অধিকতর বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি ইস্যুর ব্যাপারে মোদী সচেতন এবং এ ব্যাপারে তার সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। উভয় দেশ বাণিজ্য ভারসাম্য কমিয়ে আনতে মংলা ও ভেড়ামারায় ভারতের জন্য বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় একমত হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, “ভারতীয় বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে।

সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বেশকিছু দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এগুলোর মধ্যে রযেছে- অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, আইটি ও সংস্কৃতি। এ ধরনের বিস্তৃত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আমাদের মধ্যে অংশীদারিত্বের গভীরতা, বিশালতা ও পরিপক্কতাই প্রকাশ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে তিনি মোদীর সাথে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকা শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ করার বিষয়ে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমরা সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধেও ‘জিরো টলারেন্স’ পদর্শনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উভয় দেশের জনগণের সাথে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ হচ্ছে দুই দেশের সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক।

তিনি বলেন, আসামের গৌহাটিতে কূটনৈতিক মিশন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে, খুলনা ও সিলেটেও অনুরূপ মিশন চালু করতে সম্মত হয়েছে ভারত।

– See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/28402#sthash.EUVHed1G.dpufঅনুসরণ করতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ওই দূরদর্শী বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং আমাদের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার। ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধকালে বিরাট অবদান রেখেছে যার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের কথপোকথন ছিল উষ্ণ, আন্তরিক ও সুদূরপ্রসারী। আমরা পরস্পরের উদ্বেগ ও অগ্রাধিকারগুলো উপলব্ধি করি। আমরা ক্রমবিকাশমান সম্পর্কের সকল দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ও প্রধানমন্ত্রী মোদী একমত হয়েছেন যে, উভয় দেশ ও এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বৃহত্তর পরিসরে যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি ইস্যুর ব্যাপারে মোদী সচেতন এবং এ ব্যাপারে তার সরকারের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। উভয় দেশ বাণিজ্য ভারসাম্য কমিয়ে আনতে মংলা ও ভেড়ামারায় ভারতের জন্য বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় একমত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “ভারতীয় বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশে ভারতের বিনিয়োগ বৃদ্ধি করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে তিনি মোদীর সাথে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকা শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ করার বিষয়ে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমরা সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধেও ‘জিরো টলারেন্স’ পদর্শনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উভয় দেশের জনগণের সাথে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ হচ্ছে দুই দেশের সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক। 

বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত দুইশ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বলেও ঘোষণা দেন মোদি। বলা হয়, বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটানের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।
ভারতের পক্ষ থেকে মানবপাচার ও জাল নোটের বিস্তার রোধে সহায়তার পাশাপাশি উপকূলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে উল্লেখ করেন মোদি।

Comments

comments