ব্রেকিং নিউজ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১৯টি চুক্তি, সমঝোতা স্বাক্ষর

ভারতের পতাকাদ্য বিড এক্সপ্রেসঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে ১৯টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এসব চুক্তি মধ্যে রয়েছেÑ কলকাতা-ঢাকা-আগরতলার মধ্যে সরাসরি বাসসেবা চালু, ঢাকা-শিলং বাসসেবা চালু, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি ও নবায়ন, নৌ ট্রানজিট প্রটোকলের মেয়াদ বৃদ্ধি ও নবায়ন, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল চুক্তি, মানবপাচার রোধে চুক্তি, বিদ্যুত সহযোগিতা চুক্তি, দুই শ’ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা চুক্তি, ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ অঞ্চল সমঝোতা চুক্তি, পণ্য রফতানিতে দু’দেশের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার মধ্যে চুক্তি, ভারতে ব্যান্ড উইডথ বিক্রি, সন্ত্রাস দমন বিষয়ক সমঝোতা চুক্তি ইত্যাদি। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারতের কোস্টগার্ডের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা, মুদ্রা জালিয়াতি প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সার্কের জন্য ভারতের অনুদান নিয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। দুই দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও নয়াদিল্লীর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে গবেষণার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ইন্ডিয়ার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা কক্ষে ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব ড. এস জয়শঙ্কর এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ দু’দেশের কর্মকর্তারা এসব চুক্তিতে সই করেন।সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে বাংলাদেশ-ভারতের ঐকমত্য, সীমান্ত চুক্তির দলিল বিনিময়, দুই দেশ ৫৪টি নদীর পানি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১৯টি চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। কর্মব্যস্ততায় দিন শেষে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি, প্রটোকল ও সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, সংস্কৃতি বিকাশ ইত্যাদি। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, আমরা সীমান্ত সমস্যার সমাধান করেছি। সম্পাদিত চুক্তি ও প্রটোকলের বাইরে তিস্তা ও ফেনী নদীর পানি সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। আশা করি খুব শীঘ্রই এই সমস্যা সমাধান হবে। ভারতের জনগণ অতীতে বাংলাদেশের পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটিকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত উল্লেখ করে বলেন, আমরা যৌথভাবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন সম্ভাবনার যুগে ও অধিকতর উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছি। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দুই দেশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত শান্তিপূর্ণ রাখা এবং এ বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়ে আমরা অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির বিষয়ে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

Comments

comments