ব্রেকিং নিউজ

মোদির সফরে ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনে ৩ টি চুক্তির সম্ভাবনা

ভারতের পতাকাপ্রতিবেদকঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন সফরে ৩ টি পাওয়ার প্ল্যান্ট চুক্তি হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড.গওহর রিজভী। এসব পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে প্রায় ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় সীমান্তের ওপারে শহীদ হয়েছেন। তাদের কবর ও দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনার জন্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হবে। জতীয় মর্জাদায় তাদের কবর এদেশে নিয়ে আসা হবে। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর যে সকল সদস্য শহীদ হয়েছিলেন তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্মানিত করা হবে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশ-ভারতের গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পকে সীমান্তের ওপারে ক্ষমতার রদবদলের ওপর নির্ভর করে না বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা।

শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স রুমে ‘ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন বাংলাদেশ ভারত বন্ধুত্বের যুগান্তকারী সাফল্য’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। বাংলাদেশ ইন্ডিয়া সিটিজেন সোসাইটি (বিআইসিএস) ও ন্যাশনাল ফ্রিডম ফাইটার্স ফাউন্ডেশন (এনএফএফএফ) যৌথভাবে ওই সভার আয়োজন করে।

এসময় ড. গওহর রিজভী বলেন, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনেক ভারতীয় সেনাবাহিনী জীবন দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় নিয়ে আমরা তাদের পূর্ণাঙ্গ একটি তালিকা তৈরি করেছি। এবার তাদের সকলকে সম্মান জানাবো। তাদের পরিবারের কাছে আমাদের সম্মানের বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় সীমান্তের ওপারে শহীদ হয়েছেন। তাদের কবর ও দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনার জন্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হবে। তাদের কবর জাতীয় মর্জাদা দিয়ে এদেশে স্থানান্তর করা হবে।

দু’দেশের বাণিজ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, রফতানির বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের কোনো বাধা নেই। আমরা যত ইচ্ছে রফতানি করতে পারি। তবে সেগুলো হতে হবে বৈধ পণ্য। রফতানি বৃদ্ধিতে পুরোনো প্রথা ও জায়গায় জায়গায় বাঁধা রয়েছে, বিষয়গুলোতে সংস্কারের কাজ চলছে। আমরা ইন্ট্রিগ্রেটেড বর্ডার কোস্ট করার জন্য চুক্তি করতে যাচ্ছি। ফলে আমাদের লোকগুলো আটক হবে না। তিনি আরও বলেন, ভারতে পণ্য পাঠানোর ক্ষেতেও সিঙ্গাপুর হয়ে কলকাতায় প্রবেশ করে। কিন্তু এবার এবিষয়েও একটি চুক্তি হবে। চুক্তির ফলে মালপত্র সরাসরি কলকাতায় প্রবেশ করবে।

ভারতীয় ভিসা জটিলতার অবসান হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে স্মার্ট ভিসা কার্ড করা হয়েছে। আরও উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। ভারতীয় হাইকমিশন প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার ভিসা দেয়। এটা খুবই ইতিবাচক। তবে তাদের লোকবলের বিষয়টিও আমাদের চিন্তা করতে হবে।

সভায় আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা তিস্তা চুক্তি, অভিন্ন নদীগুলোর সমাধান, অসম্পূর্ণ চুক্তি সম্পাদন, দুই দেশের মধ্য সম্পর্ক উন্নয়নের দাবি তুলে ধরেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সফরকে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী বলেও আখ্যা দেওয়া হয়।

বিআইসিএস’র মহাসচিব মনোরঞ্জন ঘোষালের সঞ্চলনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন ওই সংগঠনের নির্বাহী সভাপতি জাফর ইকবাল সিদ্দিকী। এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. চন্দন সরকার, এনএফএফএফ’র চেয়ারম্যান ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম, বিআইসিএস’র সহসভাপতি মিঞা মুজিবুর রহমান, অর্থ সচিব লায়ন আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।

Comments

comments