ব্রেকিং নিউজ

হুমকি ও আতঙ্কে অনেক ব্লগার বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন

দ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ বাংলাদেশে গত এক বছরে তিনজন ব্লগারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির ব্লগারদের মধ্যে।

ইন্টারনেটে বিশেষ করে উদারমনা বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করেন, এমন বেশ কয়েকজন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, হত্যাকারীদের ধরে বিচার করার ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতায় তাদের মধ্যে নিরাপত্তার ভীতি দিন দিন বাড়ছে। অনেকে লেখালেখি নিয়ে সতর্ক হচ্ছেন।

চট্টগ্রামের ব্লগার সৃজিতা মিতু মনে করেন পরপর তিনটি খুনের কারণে অনলাইনে বিভিন্ন ভাবে যারা লেখালেখির সাথে জড়িত তার সবাই কম বেশি নিরাপত্তাহীন বোধ করছেন।

সৃজিয়া মিতুর মতো কেউ কেউ মুক্তচিন্তার চর্চা অব্যাহত রাখার কথা বললেও বাস্তবতা হলো বিভিন্ন ভাবে হুমকির শিকার হওয়া ব্লগারদের বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যেই দেশ ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদের ঘনিষ্ঠরা।

দুবছর আগে ঢাকার শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন চলার সময় ৮৪ জনের একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দিয়েছিলো ইসলাম পন্থীদের একটি অংশ।

ওই আন্দোলন চলাকালেই মীরপুরে নিজের বাসার সামনে খুন হন ব্লগার রাজীব হায়দার।

এরপর প্রায় একই কায়দায় গত প্রায় চার মাসের মধ্যে খুন হয়েছেন আরও তিন জন লেখক ও ব্লগার। যার সর্বশেষ উদাহরণ সিলেটের অনন্ত বিজয় দাশ।

এভাবে একের পর পর হত্যাকাণ্ডের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশের ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের মধ্যে।

ব্লগার রতন কুমার সমাদ্দার বলছেন, “ব্লগে 'সন্ন্যাসী' নামে আর ফেসবুকে 'সন্ন্যাসী রতন' নামে লেখালেখা করি আমি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যখন আমি ধর্ম নিয়ে লিখি তখন ইসলামের কথাই বেশি আসে। ফলে প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলার আগে আমাকে চারপাশে তাকাতে হয়। কোথায় যাচ্ছি , মানুষ কিভাবে দেখছে।”

নিরাপত্তাহীনতা কি লেখালেখিতে প্রভাব ফেলছে ?- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অভিজিৎ রায় হত্যার পর থেকে সমালোচনামূলক লেখা থেকে প্রায় চলে এসেছি।”

মিঃ সমাদ্দারের মতো চুরাশি জন ব্লগারের তালিকায় নাম ছিল শুভজিত ভৌমিকের। তিনি জানান নানা ধরনের হুমকির কারণে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

এক্ষেত্রে অনন্ত বিজয় দাশের হত্যাকাণ্ডের পর বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখা বা মুক্ত চিন্তার সাথে জড়িতদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপরই জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, “যেসব জায়গায় বেশি লোক নেই সেখানে যেতে ভয় লাগে। যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে সেসব জায়গা আমি অ্যাভয়েড করি। ধর্ম বা বিজ্ঞান লেখা থেকে অনেক দিন ধরে বিরত আছি। কারণ এগুলো যারা লিখবেন তারা বাঁচবেন কি-না। যেখানে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই সেখানে এগুলো কিভাবে লিখবো?”

এদিকে সিলেটে একুশ তাপাদার নামে অনলাইনে লেখালেখি করেন অনন্ত বিজয় দাশের ঘনিষ্ঠ একজন লেখক বলেন মি: দাশের হত্যাকাণ্ডের পর সেখানে তারা চরমভাবে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, “কোনো বিষয় লিখতে গেলেই মনে হয় সমস্যা হবে। বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে আমি লিখতে পারবোনা।”

“বিশেষ করে বিজ্ঞান যুক্তি নির্ভর, ধর্ম ও মৌলবাদ বিষয়ে লিখতে পারছিনা।”

চট্টগ্রামের ব্লগার সৃজিতা মিতু মনে করেন পরপর তিনটি খুনের কারণে অনলাইনে বিভিন্ন ভাবে যারা লেখালেখির সাথে জড়িত তার সবাই কম বেশি নিরাপত্তাহীন বোধ করছেন।

সৃজিয়া মিতুর মতো কেউ কেউ মুক্তচিন্তার চর্চা অব্যাহত রাখার কথা বললেও বাস্তবতা হলো বিভিন্ন ভাবে হুমকির শিকার হওয়া ব্লগারদের বেশ কয়েকজন ইতোমধ্যেই দেশ ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন তাদের ঘনিষ্ঠরা।

কিন্তু তিনি মনে করেন পরিস্থিতি যাই হোক লেখালেখি চালিয়ে যাওয়ার বিকল্প নেই। তিনি বলেন মুক্ত চিন্তা অব্যাহত রাখতে হবে। কলম চালিয়ে যেতে হবে।সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

 

Comments

comments