ব্রেকিং নিউজ

সারাদেশে ২০টি নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল স্হাপনের সিদ্ধান্ত

পয়সাদ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ ব্যপক কর্মসংস্হানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে সরকার দেশের ২০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরসহ আগামী তিন বছরে ১৩টি ই পিজেড প্রতিষ্ঠার জন্য  জমি অধিগ্রহণ বাবদ সাত হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার। ১৪ হাজার ৬১৯ একর জমির ওপর এই ১৩টি ইজেড প্রতিষ্ঠা করা হবে, যার মধ্যে পাঁচ হাজার ১২৭ একর জমির মালিক সরকার এবং ৯ হাজার ৪৯২ একর জমি বেসরকারি মালিকানাধীন। এর মধ্যে তিনটির জমি অধিগ্রহণে চলতি অর্থবছরই বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফিন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) থেকে ঋণ নিয়ে বরাদ্দ দেবে সরকার।

বাকি ১০টি বাস্তবায়ন করা হবে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে। এই ১৩টির মধ্য থেকে ৮৪৩ একর জমির ওপর আনোয়ারা-২ এবং সাত হাজার ৭১৬ একর জমি নিয়ে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে তা দেওয়া হবে চীনা বিনিয়োগকারীদের। ফলে চীনা বিনিয়োগকারীরা মিয়ানমার থেকে তাদের হিস্যার গ্যাস এনে শিল্পে ব্যবহার করতে পারবে। আর গাজীপুরের শ্রীপুরে ৫১০ একর এবং নরসিংদী সদর উপজেলায় ৬৯০ একর জমি নিয়ে প্রতিষ্ঠার পর অর্থনৈতিক অঞ্চল দুটি জাপানি বিনিয়োগকারীকে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ভারত, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও থাইল্যান্ডসহ আশিয়ানভুক্ত অন্য দেশগুলোর বিনিয়োগকারীদের জন্যও আলাদাভাবে অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এই ১৩টির বাইরে বাকি সাতটির মধ্যে তিনটি বাস্তবায়ন করবে বেসরকারি খাত বিজিএমইএ, আবদুল মোনেম লিমিটেড এবং এ কে খান অ্যান্ড কম্পানি একটি করে।

এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পর যত্রতত্র শিল্প-কারখানা স্থাপন করার সুযোগ দেবে না সরকার। তখন বিনিয়োগকারীদের এসব অঞ্চলেই বিনিয়োগ করতে হবে বলে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রী ও সচিবকে নিয়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সরকারের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত ওই বৈঠকের কার্যবিবরণীতে কোন কোন জেলার কোথায় কোথায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। 

আগামী ১৫ বছরে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ ছাড়া চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১৫ হাজার একর জমির ওপর 'মাল্টিপ্রডাক্ট মাল্টিপল' অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে চীন, থাইল্যান্ডসহ আশিয়ানভুক্ত অন্যান্য দেশ বিনিয়োগ করতে পারবে। এসব বাস্তবায়ন হলে প্রায় এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করছে সরকার। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) জানায়, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি চীন ও জাপানের বিনিয়োগকারীদের কথা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে সরকার। কারণ, জাপান ও চীনের সরকার এবং বিদেশি সহায়তাকারী সংস্থাগুলো সরকারিভাবে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রীর চীন ও জাপান সফরের সময় দুই দেশের সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও একই ধরনের আগ্রহের কথা জানানো হয়েছে। সে অনুযায়ী, জাপানি সংস্থা জাইকা ও চীনা বিনিয়োগকারীরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অথনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য সমীক্ষা চালিয়েছে। প্রাক-সমীক্ষায় জাইকা গাজীপুর ও নরসিংদী জেলায় দুটি স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বেজাকে জানিয়েছে। একইভাবে চীনা কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদীর তলদেশে স্থাপিতব্য টানেলের শেষ প্রান্তে কাফকোর অদূরে আনোয়ারা উপজেলায় 'চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন' (সিইআইজেড) স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানিয়েছে। ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি লিমিটেডকে এ কাজে মনোনীত করেছে।

অন্যদিকে ভারত সরকারও তার দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ জন্য ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের জন্য প্রাথমিক যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। তবে তারা কোন এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে প্রস্তাব দেয়নি। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশীয় বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি বিদেশি বিশেষত চীন, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা অর্থনৈতিক অঞ্চলে জমি পাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে। তাদের শুধু জমি ও উপযোগ (গ্যাস-বিদ্যুৎ, পানি, সড়ক অবকাঠামো ইত্যাদি) সুবিধা দেওয়া হবে।

ইতিপূর্বে পাঁচটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে আরো বেশি অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয় বিবেচনা করতে হবে। তবে যথাসম্ভব কৃষিজমির ব্যবহার কম করে অকৃষি জমি ও পুনরুদ্ধার হওয়া জমির ওপর বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো সৃষ্টির মাধ্যমে আধুনিক শিল্পাঞ্চল স্থাপন করা হবে। চলতি অর্থবছরসহ আগামী তিন অর্থবছরে ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় কেস টু কেস ভিত্তিতে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে অর্থায়ন করতে নির্দেশনা দেন তিনি। ১৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে বৃহত্তম অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠা হবে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে। সাত হাজার ৭১৬ একর জমির ওপর প্রস্তাবিত এই অঞ্চলে বেসরকারি খাতের জমি পাঁচ হাজার ৬০০ একর, বাকি জমি সরকারের। এসব জমি অধিগ্রহণে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬৩০ কোটি টাকা ও পরের অর্থবছরে এক হাজার ২৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেবে সরকার।

Comments

comments