ব্রেকিং নিউজ

পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারালো অস্ট্রেলিয়া

দ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে পাকিস্তানকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে সহ-আয়োজক অস্ট্রেলিয়া। এর ফলে সেমিফাইনালে ভারতের মোকাবেলা করবে অস্ট্রেলিয়া। আগামী ২৬ মার্চ সিডনিতে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি।
অ্যাডিলেড ওভালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নিয়ে পাকিস্তান ৪৯.৫ ওভারে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে সর্বাধিক ৪১ রান সংগ্রহ করেন হারিস সোহেল। অধিনায়ক মিসবাহ উল হক সংগ্রহ করেন ৩৪ রান। অস্ট্রেলিযার হয়ে ৪ উইকেট সংগ্রহ করেন ম্যাচ সেরা জস হ্যাজেলউড।
ম্যাচের শুরু থেকেই অসি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে পাকিস্তানীরা। শেষ পর্যন্ত টালমাটাল ওই অবস্থা থেকে আর বেরুতে পারেনি পাকিস্তান। ফলে উপমহাদেশের তৃতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে ফিরতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। এর আগে শ্রীলংকা ও বাংলাদেশও একই ভাগ্য বরণ করেছে।
ম্যাচে দলীয় ২০ রানের মাথায় অসিদের প্রথম শিকারে পরিণত হন সরফরাজ আহমেদ। মিচেল স্টার্কের বলটি তালুবন্দী করেন ক্লার্ক। আউট হওয়ার আগে সরফরাজ করেন মাত্র ১০ রান। এরপর দলীয় ২৪ রানে আরেক ওপেনার আহমেদ শেহজাদকে ফেরান হ্যাজলউড। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ওয়াটসনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৫ রান করা শেহজাদ।
দুই ওপেনারকে হারানোর পর ব্যাটিং ক্রিজের দায়িত্ব নেন পাক দলপতি মিসবাহ এবং হারিস সোহেল। এ দু’জন মিলে স্কোরবোর্ডে আরো ৭৩ রান যোগ করেন। ম্যাক্সওয়েলের করা দলীয় ২৪ ওভারের দ্বিতীয় বলে তুলে মারতে গিয়ে অ্যারন ফিঞ্চের হাতে ধরা পড়েন মিসবাহ। আউট হওয়ার আগে পাক দলপতি একটি চার আর দুটি ছয়ে ৫৯ বলে সংগ্রহ করেন ৩৪ রান।
দলীয় ১১২ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান। মিচেল জনসনের বলে উইকেটের পেছনে ব্য্রাড হাডিনের গ্লাভসে ধরা পড়ে সাজ ঘরে ফেরেন হারিস সোহেল। আউট হওয়ার আগে তিনি ৫৭ বলে ৪টি চারের সাহায্যে করেন ৪১ রান।
৩০তম ওভারে ম্যাক্সওয়েলের বলে অ্যারন ফিঞ্চের তালুবন্দি হয়ে ফেরেন উমর আকমল। আউট হওয়ার আগে তিনি ২৫ বলে দুটি চারে সংগ্রহ করেন ২০ রান।
পঞ্চম উইকেটের পতনের পর ব্যাট হাতে ক্রিজে আসেন নিজের শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি। ‘বুমবুম’ খ্যাত ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান ১৫ বলে তিনটি চার আর একটি ছয়ে করেন ২৩ রান। পরে হ্যাজেলউডের বল তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি সীমানায় ফিঞ্চের তালুবন্দি হন আফ্রিদি।
এরপর সোয়েব মাকসুদ দলের রান বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ৪২তম ওভারে হ্যাজলউডের তৃতীয় শিকারে আউট হওয়ার আগে মাকসুদ ৪৪ বলে ২৯ রান করেন। পরের ওভারে মিচেল স্টার্ক ফেরান ১৬ রান করা ওয়াহাব রিয়াজকে। এরপর সোহেল খানকে ফেরান হ্যাজলউড। শেষ দিকে এহসান আদিল ও রাহাত আলী ১৮ রানের জুটি গড়লে দুশো রান পার হয় পাকিস্তান। এহসান আদিলকে স্টার্কের ক্যাচ বানিয়ে পাকিস্তান ইনিংসের ইতি টেনে দেন ফকনার। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে হ্যাজেলউড ৪টি এবং স্টার্ক ও ম্যাক্সওয়েল ২টি করে উইকেট সংগ্রহ করেন।
স্বল্প রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অসি ব্যাটসম্যানরাও শুরুতে বিপর্যয়ে পড়ে। দলীয় মাত্র ১৫ রানের মাথায় ওপেনার ফিঞ্চ (২) সেহেল খানের এলবিডব্লুর ফাদে পড়ে সাজ ঘরে ফেরার পর দলীয় ৪৯ রানে সাজঘরে ফিরে যান অপর ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নর। ওহাব রিয়াজের বলে রাহাত আলরি তালুবন্দী হয়ে বিদায় নিতে হয় ২৩ বলে ২৪ রান সংগ্রহকারী ওয়ার্নারকে। দলীয় সংগ্রহ শালায় আর মাত্র ১০ রান যোগ হতেই তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে অসি ইনিংসের। দলকে ৫৯ রানে রেখে অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক (৮) ওহাব রিয়াজের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হলে আতংক ছাড়িয়ে পড়ে স্বাগতিক শিবিরে। এরপর একশ রানের পৌঁছার আগেই অসি শিবিরে ফের আঘাত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছির পাকিস্তানের। মাত্র ১৭তম ওভারের প্রথম বলে ওহাব রিয়াজের বল ওয়াটসন তুলে দিলে সেটি তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হন পাকিস্তানী ফিল্ডার রাহাত। সুযোগটা পেয়ে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি ওয়াটসনকে। অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েই প্যাভিলিয়নের ফিরেছেন ৬৪ রান সংগ্রহকারী ওয়াটসন। ইতোমধ্যে অবশ্য পাকিস্তানী বোলাররা সান্তনা হিসেবে তুলে নেন স্টিভেন স্মিথের উইকেটটি। তখন অবশ্য জয় পাওয়াটাকে সময়ের ব্যাপার বানিয়ে নিয়েছে স্বাগতিকরা। দলীয় ১৪৮ রানে এহসান আলীর শিকার হিসেবে সাজ ঘরে ফিরেন ৬৫ রান সংগ্রহকারী স্মিথ। শেষ পর্যন্ত ম্যাক্সওয়েলকে সঙ্গী করে অস্ট্রেলিয়াকে ৩৩.৫ ওভারে ২১৬ রানে পৌঁছে দেন ওয়াটসন। ৪৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ম্যাক্সওয়েল। পাকিস্তানের হয়ে ২ উইকেট সংগ্রহ করেন ওহাব রিয়াজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
পাকিস্তান : ২১৩/১০, ৪৯.৫ ওভার (হারিস সোহেল ৪১, মিসবাহ ৩৪, হ্যাজলউড ৪/৩৫)।
অস্ট্রেলিয়া : ২১৬/৪, ৩৩.৫ ওভার (স্টিভেন স্মিথ ৬৫, শেন ওয়াটসন ৬৪*, ওয়াহাব রিয়াজ ২/৫৪)।
ফল : অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : জস হ্যাজলউড (অস্ট্রেলিয়া)।

Comments

comments