ব্রেকিং নিউজ

ভালো ঘুম মানে স্বাস্থ্যকর সুখী জীবন

Captureদ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ বিশ্ব নিদ্রা দিবস ২০১৫’ উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব সার্জনস ফর স্লিপ অ্যাপনিয়া, বাংলাদেশ (আসাব) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ঘুম নিয়ে এক সেমিনারে চিকিৎসকেরা এ কথা বলেন। দিসবটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘প্রশান্তির ঘুম মানে স্বাস্থ্যকর ও সুখী জীবন’।
জাতীয় নাক কান ও গলা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক মো. জাহেদুল আলম বলেন, মানুষ কেন ঘুমায় তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এটুকু জানা গেছে যে ঘুম জীবনের প্রশান্তি বাড়ায়। ঘুমকে উপভোগ করা উচিত। ঘুম যত গভীর হবে, স্বাস্থ্য তত ভালো থাকবে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নাক কান ও গলা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান তরফদার বলেন, বাড়তি ওজন বা শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ছাড়া অন্য কারণেও মানুষ নিদ্রাহীনতার শিকার হতে পারে। ঘুমের সময়টা নির্দিষ্ট হওয়া দরকার। কোনো দিন রাত ১০টা, কোনো দিন ১২টা আবার কোনো দিন রাত একটায় ঘুমাতে গেলে ঘুম নষ্ট হয়। তিনি বলেন, ঘুমানোর ঘরের পর্দার রং হালকা সবুজ বা সাদা হতে হবে। শোয়ার ঘরে ফ্রিজ, টেলিভিশন রাখা যাবে না। অন্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যতটা সম্ভব কম রাখা উচিত। তিনি বলেন, যেসব শিশু বাড়ির কাজ (হোমওয়ার্ক) সেরে ফেলে, তার রাতে ঘুম ভালো হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের ইএনটি ও হেড নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মনিলাল আইচ। তিনি বলেন, নিদ্রাকালীন শ্বাসরুদ্ধতা (স্লিপ অ্যাপনিয়া) নাক ডাকার অন্যতম কারণ, এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের নাক ডাকে, তাঁদের দিনের বেলায় ঘুমঘুম ভাব থাকে, তাঁদের স্মৃতি বিভ্রম হয়, তাঁদের মধ্যে হতাশা দেখা দেয়, তাঁরা বদমেজাজি হন, তাঁরা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন। এসব মানুষের সড়ক ও অন্যান্য যান্ত্রিক দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তিনি বলেন, ওষুধ দিয়ে এবং শল্যচিকিৎসায় নাক ডাকার সমস্যা দূর করা যায়।
একাধিক আলোচক বলেন, জীবন যাপন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে নাক ডাকার ও ঘুম কম হওয়ার সমস্যা থেকে দূরে থাকা সম্ভব। তাঁরা বলেন, স্থূল মানুষ ওজন ১০ শতাংশ কমালে নাক ডাকা ২০ শতাংশ কমে যায়। ধূমপান ও মদ্য পান কমালে ঘুম ভালো হয়। রাতে খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে যাওয়া উচিত নয়। যাঁরা দিনের পর দিন ঘুম অগ্রাহ্য করেছেন, তাঁরা ঘুমের সমস্যায় পড়েন। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ঘুমকে আমন্ত্রণ জানানো উচিত। পূর্ণবয়স্ক মানুষের কমপক্ষে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার গভীর ঘুম দরকার।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তাজুল ইসলাম বলেন, সেমিনারে উপস্থিত থাকতে পেরে তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হয়েছেন। সাংসদ মো. হাবিবে মিল্লাত বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নিদ্রাহীনতার সমস্যা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

Comments

comments