ইসরায়েলের সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করছে ফিলিস্তিন

110919_abbas_palestine_605_apদ্য বিডি এক্সপ্রেসঃ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অসলো চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে সব ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতা সংগঠন (পিএলও)। ইসরায়েলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পিএলওর কেন্দ্রীয় পরিষদ (পিসিসি) গত বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দিয়েছে। খবর আল-জাজিরা ও গার্ডিয়ানের।

মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিদের সংগঠন পিএলওর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা পিসিসি। ১৯৯৩ সালের অসলো স্বায়ত্তশাসন চুক্তির আওতায় ওই নিরাপত্তা সহযোগিতা শুরু হয়। একই চুক্তির আওতায় গঠিত হয় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ)। উভয় পক্ষের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়টি এই নিরাপত্তা সহযোগিতার আওতাভুক্ত। গাজাভিত্তিক ইসলামপন্থী সংগঠন হামাসের ওপর নজরদারি প্রশ্নে এই নিরাপত্তা সহযোগিতা ইসরায়েলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে।
বৃহস্পতিবার রাতে পিএলওর কেন্দ্রীয় পরিষদের এক বিবৃতিতে নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করার ওই ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের যেসব বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা তারা ধারাবাহিকভাবে লঙ্ঘন করে চলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভেতরে সামরিক অভিযান এবং বেসামরিক লোকজন ও সম্পদের ওপর হামলাও। এমন প্রেক্ষাপটে পরিষদ ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।’
পরিষদের এই ঘোষণার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ওপর। তিনি সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়ন করবেন কি না, সে ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানা যায়নি। তবে আব্বাসের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি সিদ্ধান্তটি সমর্থন করেন। তাছাড়া পরিষদ যেসব সিদ্ধান্ত নেয়, তা মানা ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের জন্য সাধারণত বাধ্যতামূলক হয়ে থাকে। পরিষদের সদস্য মুস্তফা বারঘৌতি বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক। কারণ পিএলও থেকেই ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের সৃষ্টি। তারাই অসলো চুক্তিতে সই করেছে।
১১০ সদস্যের কেন্দ্রীয় পরিষদের দুই দিনের আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত এল। ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে আসা এই ঘোষণার ফলে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের মধ্যে উত্তেজনা নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। বৃহস্পতিবারের ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হলো, এতে প্রথাগত বাগাড়ম্বর বিবৃতির পরিবর্তে সরাসরি হুমকির স্বরে কথা বলা হয়েছে। ঘোষণায় বলা হয়, ‘ইসরায়েল ফিলিস্তিনে দখলদারি শক্তি। তাই আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এখানকার সব ধরনের দায়দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে।’
সব ধরনের ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ডাক দিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ফিলিস্তিনিদের স্বশাসনের অধিকার ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করাসহ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় নিজের সব দায়দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানানোর মূল্য ইসরায়েলকে অবশ্যই দিতে হবে।’
ফিলিস্তিন ভুখণ্ডে দুই বছরের মধ্যে ইসরায়েলি দখলদারত্ব অবসানের আহ্বান জানিয়ে ফিলিস্তিনিরা গত ডিসেম্বর মাসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব তোলে। তবে ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। এরপর জানুয়ারি মাসে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) যোগ দেয়। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তোলার পরিকল্পনা করছে। জবাবে ইসরায়েল ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া মাসিক ১২৭ মিলিয়ন ডলারের কর আটকে দিয়েছে। ফলে তারা হাজার হাজার কর্মীকে বেতন দিতে পারছে না।
আবারও গাড়িচাপা: বিবিসির খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি পথচারীদের ওপর গাড়ি চালিয়ে দিয়েছেন একজন ফিলিস্তিনি। জেরুজালেমে গতকাল শুক্রবারের ওই ঘটনায় চার নারী পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে আহত হয়েছেন ওই ফিলিস্তিনি।

Comments

comments