ব্রেকিং নিউজ

হারিয়ে যাচ্ছে হাডুডু

হাডুডু ৪জাহাঙ্গির আলম, সভ্যতার ক্রমবিকাশ আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঘরে বাইরে ভিডিও গেমের দৌরাত্মে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐহিত্যবাহী খেলাধূলা। শৈশবে যেসব খেলে দিন কাবার করেছেন আজকের বৃদ্ধরা, তারাও এখন ভুলতে বসেছেন সেসব খেলার নাম।
একসময় গ্রামের শিশু-কিশোররা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খেলা খেলতো। বিকেলে খোলা মাঠে দলবেঁধে খেলতো সবাই। শৈশবে দুরন্তপনায় মেতে থাকতো ছেলে-মেয়ের দল। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া ও কালের বিবর্তনে মহাকালের পাতা থেকে ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে এসব খেলাধূলার নাম।
গ্রামীণ খেলা আমাদের আদি সংস্কৃতির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব খেলাধূলা এক সময় আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্য বহন করতো।
বর্তমানে গ্রামীণ খেলাগুলো বিলুপ্ত হতে হতে এর অস্তিত্বের শেষ সীমায় দাঁড়িয়েছে। খোদ অজপাড়াগাঁয়েও সবচেয়ে বেশি প্রচলিত কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বৌচি, কানামাছি প্রভৃতি খেলার প্রচলন নেই।
গ্রামবাংলার খেলাধূলার মধ্যে যেসব খেলা হারিয়ে গেছে তাদের মধ্যে হা-ডু-ডু, কাবাডি, দাঁড়িয়াবান্ধা, মন্দুরুজ, গাদন, খো-খো, ডাংগুলি, গোল্লাছুট, গোশত তোলা, চিক্কা, অ্যাঙ্গো অ্যাঙ্গো, কুতকুত, ল্যাংচা, কিং কিং খেলা, বোমবাস্টিং, হাড়িভাঙা, বুদ্ধিমন্তর, চাঁ খেলা, বৌচি, কাঠি ছোঁয়া, দড়ি লাফানো, বরফ পানি, দড়ি টানাটানি, চেয়ার সিটিং, রুমাল চুরি, চোখ বোজা, কানামাছি, ওপেন্টি বায়োস্কোপ, নৌকাবাইচ, ঘোড়দৌড়, এলাটিং বেলাটিং, আগডুম বাগডুম, ইচিং বিচিং, ইকড়ি মিকড়ি, ঝুম ঝুমা ঝুম, নোনতা বলরে, কপাল টোকা, বউরাণী, ছক্কা, ব্যাঙের মাথা, লাঠি খেলা, বলী খেলা, আইচ্চা ভাঙা, এক্কা-দোক্কা, মইলা, রাম সাম যদু মদু, চোর ডাকাত, মার্বেল, সাতচাড়া, থিলো এম্প্রেস, ষোলগুড্ডা, ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, চিল মোরগ, বুঝাবুঝি, বদন, লাফালাফি, লগো লগো, ডালিম খেলা অন্যতম। ঐতিহ্যবাহী হারিয়ে যাওয়া এসব খেলাধূলা এখন আর তেমন কোথাও চোখে পড়ে না। নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলো এখন শুধুই গল্প। আবার নাম শুনে অনেকেই হাসে।
গ্রামের এসব খেলাগুলোর মধ্যে হা-ডু-ডু, দাঁড়িয়াবান্ধা, গোল্লাছুট, বৌচি, ডাংগুলি ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়। এসব খেলা চলাকালে মানুষের ঢল নামতো। কিন্তু এখন গ্রামের খোলা মাঠে এসব খেলা শুধুই স্মৃতি।
এক সময় এ দেশের ছেলেমেয়েরা গ্রামীণ খেলাকে প্রধান খেলা হিসেবে জানতো। কিন্তু তার জায়গা দখল করেছে লুডো, কেরাম, ক্রিকেট, টিভি, কম্পিউটার। আমাদের আদি ক্রীড়া সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে অবশ্যই গ্রামীণ ক্রীড়া ফেডারেশন গঠন করা দরকার। এতে আগামী প্রজন্ম আমাদের এসব খেলাকে জানতে পারবে। ভুলে যাবে না আমাদের শত বছরের নিজস্ব ক্রীড়া ঐতিহ্য।
আজকের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট ষোল শতকের দিকে বিলুপ্তির পথে চলে গিয়েছিল। তখন বিলেতের ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন ক্রিকেটকে বাঁচাতে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয় মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)। এ ক্লাবটিই ক্রিকেটকে অপমৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে যেকোনো অখ্যাত খেলাও জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
বিষেজ্ঞরা জানান, এমসিসির মতই গ্রামীণ খেলাকে বাঁচাতে এদেশের ধনাঢ্য ব্যক্তিরাই ভূমিকা পালন করতে পারেন। তাছাড়া সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগেও ফিরে আনা সম্ভব এসব খেলার হারানো ঐতিহ্য।

Comments

comments