ব্রেকিং নিউজ

মিরপুরে নিহত তিন তরুণের দেহে অসংখ্য গুলির চিহ্ন

Nihotoপ্রতিবেদকঃ রাজধানী মিরপুরে নিহত তিন তরুণের দেহে অসংখ্য গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনেই এত গুলির চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পিটুনির কোনো চিহ্ন নেই। এলাকাবাসীও বলছেন, গণপিটুনির ঘটনা ঘটেনি। অথচ পুলিশের দাবি, তাঁরা গণপিটুনি ও গুলিতে নিহত হয়েছেন।
রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়ায় গত রোববার রাতে এই তিন তরুণ নিহত হন। পুলিশ তাঁদের ‘নাশকতাকারী’ দাবি করলেও গতকাল সোমবার পর্যন্ত তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি।

নিহতরা হলেন- রবিন চন্দ্র, সুমন ও জুয়েল। রবিন চন্দ্র হিন্দু বলে জানা গেছে। তারা সবাই মিরপুরের পল্লবীতে থাকতেন।

রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিন তরুণের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় মিরপুর থানার পুলিশ। ওই তিনজনের বয়স ২০ থেকে ২২ বছর। কাজীপাড়ার বাইশবাড়ী এলাকায় রোববার রাত পৌনে ১০টা থেকে ১০টার মধ্যে তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ সূত্র জানায়, ময়নাতদন্তে তাঁদের শরীরে মারধরের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। সুরতহাল প্রতিবেদনে মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ পারভেজ উল্লেখ করেন। তিনজনের মধ্যে একজনের দেহে ২২টি, একজনের দেহে ১৭টি এবং অপরজনের দেহে ১৫টি গুলির ক্ষত (মোট ৫৪টি) রয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী বলেও সুরতহালে উল্লেখ করা হয়।
সুরতহাল প্রতিবেদনে ‘প্রাথমিক তদন্তের’ বরাত দিয়ে বলা হয়, নিহত তিনজন কয়েকজন সহযোগীসহ কাজীপাড়ার কৃষিবিদ ভবনের সামনে ককটেল, পেট্রল, পেট্রলবোমাসহ নাশকতার জন্য অবস্থান করলে জনতা তাঁদের ধাওয়া দেয়। বাইশবাড়ী এলাকায় তাঁদের ধরে ফেলে পিটুনি দেয় ও গুলি করে গুরুতর জখম করে, যার কারণে তাঁদের মৃত্যু হয়।
তবে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দীন খান বলেন, শেওড়াপাড়া এলাকা (কাফরুল থানার মধ্যে পড়েছে) থেকে ওই তিনজনকে তিনটি ককটেল, চার লিটার পেট্রলসহ ধরে জনতা। এরপর তাঁদের মিরপুর থানাধীন বাইশবাড়ী এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁদের পিটিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে। কারা গুলি করল জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেকের কাছেই লাইসেন্স করা অস্ত্র রয়েছে। মানুষকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছে নিজের ও অন্যের জানমাল রক্ষার জন্য। এখন সেই অস্ত্র নাশকতার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। এটা আসলে নাশকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে জনরোষের প্রচণ্ড বহিঃপ্রকাশ।
ওসি জানান, পুলিশ গতকাল পর্যন্ত গুলিবর্ষণকারীকে শনাক্ত করতে পারেনি।

তবে ঘটনার সময়ে বেশিরভাগ দোকানই বন্ধ ছিল। নাম প্রকাশ না করে এক দোকানদার বলেন, ‘রাত ১১টার পর তিনজনকে হাত ও চোখ বেঁধে এই গলি দিয়ে পশ্চিম দিকে নিয়ে  যেতে দেখেছি। তবে কাউকে চিনতে পারিনি। এরপর গুলির শব্দ শুনে দোকান বন্ধ করে সরে পড়ি। আরেক মুদি দোকানদার বলেন, অসংখ্য গুলির শব্দ শুনেছি। তবে কী হয়েছে জানার চেষ্টা করিনি। ভয়ে দোকান বন্ধ করে পালিয়েছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাধারণ লোকের সমাগম এখানে দেখিনি।

Comments

comments