ব্রেকিং নিউজ

খুনিদের সঙ্গে সংলাপ নয় : ১৪ দল

১৪দলপ্রতিবেদকঃ ২০ দলীয় জোট আন্দলনে ব্যথ হয়ে সংলাপের জন্য বিদেশিদের কাছে তদবির করছেন বলে অভিযোগ করেন ১৪ দলীয় নেতৃবিন্দ। খুনিদের সঙ্গে  কোন সংলাপ হবে না শুক্রবার রাজধানীতে গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।

সমাবেশ থেকে অাগামী ৮, ৯ ও ১০ মার্চ সারাদেশে বিএনপি জামায়াতের নৈরাজ্য, নাশকতা ও বোমাবাজির প্রতিবাদে পদযাত্রার কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া একই সময়ে বগুড়া গাইবান্ধা ও রংপুরে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, খুনির সঙ্গে কোনও সংলাপ হবে না। খালেদা জিয়া মানুষ পুড়িয়ে মারছেন। নির্বাচন হবে ২০১৯ সালে। নির্বাচনের সময় সংলাপ হবে। তবে সেই সংলাপ হবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশের জনগণ রয়েছে। শেখ হাসিনার বিজয় হবেই হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, সারাদেশে ছেলে-মেয়েদের বিনামূল্যে বই দিয়েছেন শেখ হাসিনা, তারা পড়ালেখা করছে। কিন্তু আপনি (খালেদা) পরীক্ষাও দিতে দিচ্ছেন না। আপনি এসএসসিতে ফেল করেছেন, আপনি পড়ালেখার মর্যাদা কী বুঝবেন? তিনি বলেন, নিজেরা আন্দোলনে না পেরে এখন বিদেশিদের ডাকছেন খালেদা জিয়া। এর আগেও অমিত শাহের ফোনের বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এ সময় খালেদা জিয়াকে তিনি ফোর টুয়েন্টি বলেও আখ্যায়িত করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে 'নাস্তিক ও ইসলামের শত্রু' আখ্যা দিয়ে শেখ সেলিম বলেন, তিনি মুসলমান হলে ঈদে মিলাদুন্নবীর দিকে অবরোধ ডাকতে পারতেন না। বিএনপির সঙ্গে কোনও সংলাপ নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, কার সঙ্গে সংলাপ, কীসের সংলাপ? খুনিদের সঙ্গে কোনও সংলাপ হতে পারে না। লাশের ওপর পা দিয়ে শেখ হাসিনা কখনও সংলাপে যাবেন না। কোনও বিদেশির হস্তক্ষেপও বাংলাদেশে চলবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার ‌‌‌বিরুদ্ধে বিচার শুরু হ‌‌য়েছে। ‌‌তাকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।

রাশেদ খান মেনন বলেন, খালেদা জিয়া রাজনীতিতে হেরে গিয়ে সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস আর সংলাপ একসঙ্গে চলতে পারে না। সংলাপের জন্য জাতিসংঘ ও আমেরিকার কাছে ধরনা দিয়ে কোনও লাভ হবে না।

তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, এটি একটি কঠিন সময়, এই সময়ে কঠিন শত্রুকে মোকাবেলা করছি। তারা হচ্ছে আগুন সন্ত্রাস। এর নেপথ্যে খালেদা জিয়া-তারেক রহমান। খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করলেই বাংলাদেশ শান্ত থাকবে।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে গণমিছিলটি জিপিও, পল্টন, প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট, মৎস্য ভবন হয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চিরন্তন অগ্নিশিখা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এর আগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগর অাওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নগর ১৪ দলের সমন্বয় মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সভাপতিত্বে সমা‌‌‌বেশে বক্তব্য রাখেন ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, জেপির মহাসচিব শহীদুল ইসলাম, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Comments

comments