ব্রেকিং নিউজ

দেড় শতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবি,৪৮ লাশ উদ্ধার

dsc_1245_59507_0প্রতিনিধি : পদ্মায় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে দেড় শতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে গেছে এমভি মোস্তফা নামের একটি লঞ্চ। সারবাহী একটি কার্গোর ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত লাশের মধ্যে ১৬ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী এবং সাতটি শিশু রয়েছে। নিহতদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি। এ দুর্ঘটনায় এখনো বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে।

পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি নুরুজ্জামান এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান, ঢাকা থেকে নৌপরিবহণমন্ত্রী শাজাহান খান সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে পাটুরিয়া পৌঁছান। এর পর তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে যান। সেখান থেকে ফিরে নৌমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ঘটনার জন্য চালকদের অদক্ষতা এবং অসুস্থ মানসিকতা দায়ী।’

ওই রুটের অপর এক লঞ্চের সারেং জানান, রোববার দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাটুরিয়া ঘাট শাখার বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. শাহজাহান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

দৌলতদিয়া শাখার বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা এমভি মোস্তফা নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চকে দুপুর ১২টার দিকে ধাক্কা দেয় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সারবাহী কার্গো। এতে লঞ্চটি ডুবে যায়।

পাটুরিয়া লঞ্চ ঘাটের সুপার ভাইজার জুয়েল রানা জানান, লঞ্চটির মালিক শিবালয় উপজেলা প্রাক্তন চেয়ারম্যান রহিম খান। দুর্ঘটনার সময় লঞ্চে কত জন যাত্রী ছিল, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।

তবে ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে বেঁচে ফেরা কয়েকজন যাত্রী জানান, লঞ্চটিতে কমপক্ষে দেড়শ যাত্রী ছিল। এদের একজন ফরিদপুরের হায়দার আলী। তিনি জানান, লঞ্চের সঙ্গে প্রচণ্ড জোরে কার্গোটির ধাক্কা লাগে। ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চটি উল্টে যায়। এ সময় লঞ্চের দোতলায় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী ছিল। নিচ তলাতেও প্রায় একই সংখ্যক যাত্রী ছিল। দোতলার যাত্রীরা সাঁতরে উঠতে পারলেও নিচ তলার যাত্রীদের অধিকাংশই নিখোঁজ রয়েছে জানান তিনি।

এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনগণ আশপাশের লঞ্চ নিয়ে ডুবে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধারের জোর চেষ্টা চালান। তারা ৭০-৮০ জন যাত্রীকে উদ্ধারে সমর্থ হয়। পরে ডুবুরি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রীদের উদ্ধাদের চেষ্টা চালান।  লঞ্চডুবির ঘটনায় দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাটে স্ব স্ব জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে দুটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

ডুবে যাওয়া লঞ্চের যাত্রী গোয়ালন্দ কৃষি অফিসের হেড ক্লার্ক তফসির জানান, লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার সময় তিনিসহ কেবিনের বাইরে থাকা যাত্রীদের অনেকে সাঁতরে অন্য লঞ্চ ও ট্রলারে উঠতে সক্ষম হন। তবে লঞ্চের ভেতরে থাকা বহু যাত্রী বের হতে পারেনি। এদের মধ্যে অনেকের মৃত্যুর আশঙ্কা করছেন তিনি।

 লঞ্চটি উদ্ধারের জন্য মাওয়া থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম রওনা দিয়েছে। রুস্তম এসে পৌঁছলে উদ্ধার কাজ শুরু হবে।

এদিকে, ঘটনায় কার্গোটির চালকসহ তিন শ্রমিককে আটক করা হয়েছে। তা ছাড়া দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের জন্য সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের নটিক্যাল সার্ভেয়ার ক্যাপ্টেন শাহজাহানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া নৌ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নুরুর রহমানের নের্তৃত্বে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্থায়ী তদন্ত কমিটিও এই বিষয়টি তদন্ত করবে বলে জানা গেছে।

Comments

comments