ব্রেকিং নিউজ

অবরুদ্ধ জীবনের অবসান চায় ছিটমহলবাসীরা ?

chitmahalপ্রতিবেদকঃ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফরে আশার আলো দেখছে ছিটমহলবাসীরা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতের কোচবিহারের দিনহাটায় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এক জনসভায় ছিটমহল বিনিময়ে নিজের সম্মতির কথা জানান মমতা। তার ঘোষণায় ছিটমহলবাসীরা মসজিদে-মন্দিরে প্রার্থনা, মিষ্টি বিতরণ করেন। কিন্তু তা বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন তারা। এবার মুখ্যমন্ত্রীর ঢাকা সফরে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট ঘোষণা শুনতে চায় বাংলাদেশ-ভারতের ১৬২টি ছিটমহলের মানুষ।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহলের মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে অবরুদ্ধ জীবন-যাপন করে আসছে। এরমধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিলমহল রয়েছে। ১৯৭৪ সালে ছিটমহল বিনিময়ে ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে উভয় দেশের ছিটমহলবাসীরা দীর্ঘ দিন অভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। এর ধারবাহিকতায় ২০১১ সালে ঢাকায় হাসিনা-মনমোহন প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়। ২০১৩ সালে ভারতের কংগ্রেস সরকার স্থলসীমান্ত চুক্তির বিলটি পার্লামেন্টে উত্থাপনের চেষ্টা করলে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তির মুখে বিলটি আলোর মুখ দেখেনি। নরেন্দ্র মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দু’দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ছিটমহল বিনিময়ের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। তখন নমনীয় হন মমতা। কোচবিহারের দিনহাটায় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এক জনসভায় ছিটমহলবাসীদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবে ছিটমহল বিনিময়ে তার সম্মতির কথা জানান। 

ছিটমহল বিনিময় হলে দু’দেশের প্রায় ৫২ হাজার মানুষের ৬৭ বছরের বন্দী জীবনের অবসান ঘটবে। এরমধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ছিটমহলের ৩৭ হাজার ৩৬৯ জন এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশির সংখ্যা ১৪ হাজার ২১১ জন। চুক্তিটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ পাবে ১১১টি ছিটমহলের ১৭ হাজার ২৫৮ একর জমি এবং ভারত পাবে ৫১টি ছিটমহলের ৭ হাজার ১১০ একর জমি।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলের সভাপতি আলতাব হোসেন বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢাকা সফরে আমরা ছিটমহলবাসীরা চাতক পাখির মতো চেয়ে আছি- কখন মমতার মুখ থেকে ছিটমহল বিনিময়ের সুস্পষ্ট ঘোষণা আসবে। কত দ্রুত ছিটমহল বিনিময় হবে। আর আমরা বন্দী জীবন থেকে মুক্তি পাব।’  

এ সব ছিটমহলের অবস্থান বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলায় এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলায়।

দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলের বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমাদের আবেদন আমরা ছিটমহল বিনিময় চাই। আমরা বাংলাদেশে থাকতে চাই।’ 

বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি, বাংলাদেশ অংশের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিটমহল বিনিময়ের ঘোষণা দিয়ে যাবেন। কেননা তিনি দীর্ঘদিন ধরে এর বিরোধিতার পর গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ভারতের কোচবিহারের দিনহাটায় এক জনসভায় ভাষণে ছিটমহল বিনিময়ের সম্মতির কথা জানিয়েছেন। আমরা ছিটমহলবাসীরা এখন তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি।’

Comments

comments